cartoon-on-teachers

কলকাতা: সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলির উদ্দেশ্যে নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। যেখানে বলা হয়েছে, প্রতি ছ’মাস অন্তর পড়ুয়াদের জন্য ব্যবহৃত পানীয় জল পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে হবে। এবং পড়ুয়াদের শরীরে আয়রন-ফলিক অ্যাসিডের চাহিদা পূরণে ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। কিন্তু পঠন-পাঠনের বাইরে যেটুকু সময় পাওয়া যায়, তা ব্যয় হয়ে যায় করণিকের কাজ করতেই, বলছেন শিক্ষকরা। তা হলে জলের নমুনা বহণ এবং ট্যাবলেট খাওয়ানোর সময় মিলবে কোথা থেকে, তেমনটাই প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, প্রায়শই লেগে রয়েছে একাধিক বিশেষ দিবসে পড়ুয়া অথবা তাঁদের সশরীরে হাজির হওয়ার ফতোয়া। আজ কন্যাশ্রী দিবস তো কাল ভোটার দিবস, এই নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয় সারাটা বছর। তার উপর রয়েছে কারা কোন সরকারি অনুদান পাবে, কাদের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে, মিড ডে মিলের সরঞ্জাম, জনগণনা বা নির্বাচনের ডিউটি ইত্যাদির তালিকার শেষ নেই। তার উপরে ওই জল পরীক্ষা। তা হলে শিক্ষকরা পড়াবেন কখন? প্রাথমিক স্কুলে তো আলাদা করে করণিক নেই, ঘণ্টাটাও বাজাতে হয় শিক্ষকদেরই!

এমন দীর্ঘাকার প্রশ্ন তুলেও পিছু হঠছেন বাংলার শিক্ষক সমাজ। এবিপিটিএ-র কলকাতা সম্পাদক মীরা ঘোষ বলেন, ‘আমরা শুধু মাত্র স্কুলের বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে এই সব দায়িত্ব পালন করে চলেছি। জল পরীক্ষা করলে ওদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ে আশ্বস্ত থাকা যাবে। সে কথা ভেবেই প্রতিটি শিক্ষককে এই দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে।’

কিন্তু এ সবের বাইরে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষকদের উপর শিক্ষার বাইরের এই এত সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে তার নেপথ্যে রয়েছে অন্য একটি উদ্দেশ্য। কী সেই উদ্দেশ্য?

এমনও অভিযোগ রয়েছে, স্কুলে কৃমির ওষুধ খেয়ে পড়ুয়া বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্কুলের উপর আক্রমণ নেমে আসে। কিন্তু শিক্ষকরা তো চিকিৎসক নন। তাঁদের কাছে যে ওষুধ তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেটাই তাঁরা পড়ুয়াদের খাইয়েছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা? যেমন শুনছে না সরকারও। তারা একের পর এক ‘স্পর্শকাতর’ দায় চাপিয়ে দিচ্ছে শিক্ষকদের উপর। শুধু কি সুষ্ঠু ভাবে কাজ সারার জন্য?

মীরাদেবীর বক্তব্য, এই সুকৌশলী পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষকদের দূরত্ব তৈরি করছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। যাতে পরবর্তী কালে এই সব প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিকে আর সরকারি শিক্ষাঙ্গণের আধারে বেঁধে রাখতে না হয়। যে হারে শহরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে, উল্টো দিকে বে-সরকারি স্কুলের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে যে সরকারের নজর নেই, সে কথা ডাহা ভুল। কলকাতায় সরকারি প্রাথমিক স্কুল ভেঙে প্রমোটারির নজিরও রয়েছে। এ ভাবে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার দূরত্ব বাড়াতে বাড়াতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অস্তিত্ব মুছে দেওয়াটাও খুব একটা কঠিন কাজ হবে না সরকারের কাছে।

তবে শাসক দল-পন্থী একটি শিক্ষক সংগঠনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষকের বক্তব্য, ওঁরা (এবিপিটিএ-র সদস্যরা) না চাইতেই তো সব কিছু পেয়ে যাচ্ছেন, তাই এত আওয়াজ উঠছে

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন