পুরুলিয়া রহস্য

কলকাতা: ২০০৯-১০ সালে রাজ্যের যে কোনো প্রান্তে কোনো দলীয় প্রার্থীর মৃত্যু হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর যে নেতাকে সব থেকে বেশি ঘটনাস্থলে দৌড়ে যেতে দেখা যেত তিনি বর্তমানে বিজেপিতে। তবে দলবদল করেও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মুকুল রায় পুরোনো অভ্যেস স্বমহিমায় ধরে রেখেছেন। পুরুলিয়ায় রহস্য মৃত্যুর পর তিনি যথারীতি বলরামপুর থেকে দিল্লি পর্যন্ত ছুটে গিয়েছেন। মুকুলবাবুর মতে, পুলিশ ওই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইলেও, তা আদতে খুন। ঠিক কী কারণে এত জোরের সঙ্গে দাবি করছেন মুকুলবাবু?

মুকুলবাবু বলেন, তিনি নিশ্চিত যে এই সঙ্গে জড়িত রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ, প্রথমত, “সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গিয়েছে ওই জেলায় ৬০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতেছে বিজেপি। সেই জায়গায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে মাত্র ৫৫-৫৬টি আসন। যার ফলে তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্টতই বুঝে গিয়েছেন, পুরুলিয়া জেলা তাঁদের হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে। সেই হতাশারই বহিঃপ্রকাশ এই জোড়া খুন।”

আরও পড়ুন: পুরুলিয়ার রহস্য মৃত্যু: নতুন এসপি জানিয়ে দিলেন প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট

দ্বিতীয়ত, তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয় তৃণমূল কংগ্রেস এই খুনের সঙ্গে জড়িত নয়, তা হলে স্থানীয় মানুষের দাবি মেনে কেন রাজ্য সরকার সিবিআই তদন্তে রাজি হচ্ছে না। উল্লেখ্য, পুরুলিয়ার জোড়া রহস্য মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু সিআইডি তদন্ত করলে পক্ষপাতিত্ব দেখা দিতে পারে আগাম অনুমান করে বিজেপি সিবিআই তদন্তের দাবি করে আসছে প্রথম থেকেই। মঙ্গলবারও পুরুলিয়ায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে মিছিল করে বিজেপি।

মুকুলবাবুর দাবি, রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিজেদের কাজ ভুলে গিয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের কী ভাবে ফাঁসানো যায়, সে কাজই করে চলেছে। বেছে বেছে পুরুলিয়ায় শাসক দলের আক্রমণের নেপথ্য অন্য একটি কারণ হিসাবে তিনি তুলে ধরেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষোভের কথাও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here