abdul mannan congress

ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক আব্দুল মান্নানের গতিবিধি বেশ রহস্যজনক ঠেকছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে। তবে এ বার শুধু নিজের দল নয়, ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল–বিরোধী জোটের শরিক বামফ্রন্ট নেতৃত্বের তরফেও সমালোচনার শিকার হতে হল তাঁকে।

আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ জোটের দিশা নির্ধারণে এআইসিসির তরফে রাজ্যে এসেছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গৌরব গগৈ। অথচ প্রথম দিন সেখানেও দেখা গেল না মান্নানসাহেবকে। এর আগে অবশ্য পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন-পর্বে রাজ্য জুড়ে অশান্তি চললেও মান্নান শাসক দলের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করেননি বলে তাঁর দলের একাংশের অভিযোগ। আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে ইফতার পার্টিতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে যারপরনাই ক্ষুব্ধ দলেরই ওই অংশ। সব মিলিয়ে বর্ষীয়ান এই বিধায়ককে নিয়ে দুশ্চিন্তা দানা বাঁধছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের মনে।

সেই আশঙ্কার সুরেই সঙ্গত দিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, জোটের ভোট পেয়েই আবদুল মান্নান বিরোধী দলনেতা হয়েছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাঁর ভূমিকা কী তা বোঝা যাচ্ছে না। কোনো বিষয়ে তিনি সরব হয়েছেন বলেও মনে করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: সংকটে সেলিম: রায়গঞ্জে সিপিএমের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি শরিকের!

এমনিতে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী জোট তৈরিতে শরিক হয়েছে সিপিএম। জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়ার ইঙ্গিত পূর্ণমাত্রায় জুগিয়ে চলেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে যাওয়া, না-যাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে বামফ্রন্টে। এ বিষয়ে আরএসপি বা সিপিআইয়ের বিরোধিতার সুর ততটা চড়া না হলেও বামফ্রন্ট কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে গেলে ফরওয়ার্ড ব্লক কিন্তু চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে। সিপিএমের জেতা রায়গঞ্জ লোকসভা আসনেও সে ক্ষেত্রে ফরোওয়ার্ড ব্লক আলাদা প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আব্দুল মান্নান প্রসঙ্গ উসকে দিয়ে কংগ্রেস-বিরোধিতার সুর আরও চড়া করল ফরওয়ার্ড ব্লক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here