rain in kolkata

ওয়েবডেস্ক: শনিবার পর্যন্ত ছিল মামুলি ঘূর্ণাবর্ত, কিন্তু সোমবার সকালের মধ্যেই অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে গেল সে। এর প্রভাবে কলকাতার পাশাপাশি বৃষ্টি চলছে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে জুড়ে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, এর ফলে বুধবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বইবে দমকা হাওয়া।

প্রায় ২৪ ঘণ্টা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ উপকূলে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে শক্তি বাড়িয়ে সোমবার ভোর থেকে স্থলভূমিতে ঢোকা শুরু করে নিম্নচাপটি। ততক্ষণে সে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত। এর প্রভাবে রবিবার প্রবল বর্ষণ হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিভিন্ন অঞ্চলে। সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ক্যানিং-এ। সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১৪১ মিমি। ডায়মন্ড হারবার (৭০ মিমি), কাঁথি (৪৬ মিমি) এবং হলদিয়াতেও (৪০ মিমি) ভালো বৃষ্টি হয়েছে। কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি এবং নদিয়ার দক্ষিণাংশেও। তবে এই নিম্নচাপ আরও শক্তিবৃদ্ধি করার ফলে এই বৃষ্টির পরিধি এখন ক্রমশ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ছড়িয়ে পড়বে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে। সেই সঙ্গে বইবে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিমি বেগে দমকা হাওয়া।

তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি ঘূর্ণাবর্ত যে ভাবে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হল, সেই ব্যাপারেও চমৎকৃত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। কী ভাবে দ্রুত অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হল ওই ঘূর্ণাবর্তটি?

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, “উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হলেও, একই জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার ফলে অনবরত জলীয় বাষ্প শুষে নিয়ে শক্তিবৃদ্ধি করেছে এই নিম্নচাপ। শক্তিবৃদ্ধি করার আরও একটি কারণ হল নিম্নচাপের চারি দিকে পরিষ্কার আবহাওয়া এবং বেশি তাপমাত্রা থাকা।” এই মুহূর্তে নিম্নচাপটি কলকাতার ওপরে অবস্থান করলেও, সে দাঁড়িয়েই রয়েছে, নড়ছে না। অতি গভীর নিম্নচাপ মানে ঘূর্ণিঝড়ের ঠিক আগের ধাপ। তবে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও, এখন এটির শক্তিবৃদ্ধি হয়ে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ‘

তবে যা আছে, তাতে আগামী অন্তত ৩৬ ঘণ্টায় সমগ্র দক্ষিণবঙ্গকে ভাসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে বলা হয়েছে এই অতি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি তো বটেই, কোথাও কোথাও চরম অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। আবহাওয়ার পরিভাষায় ২৪ ঘণ্টায় আড়াইশো মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে চরম অতি ভারী বৃষ্টি বলে। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী দুই ২৪ পরগণা জেলায় মঙ্গলবার সকাল থেকে আবহাওয়া উন্নতি করতে শুরু করলেও, সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পরিষ্কার হতে বুধবার সকাল হয়ে যাবে।

আরও একটা চিন্তার ব্যপার হল এই নিম্নচাপের সম্ভাব্য গতিপথ। দক্ষিণবঙ্গকে রেহাই দিয়ে ঝাড়খণ্ডে পাড়ি দেওয়ার কথা নিম্নচাপটির। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণবঙ্গে আবার বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কি না সেটাই দেখার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here