Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম: গ্রীষ্মকালীন জঙ্গলের সব থেকে সুস্বাদু ফল পিয়াল। সংরক্ষণের অভাবে এ রাজ্যে প্রায় অবলুপ্তির পথে। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় ধরা পড়েছে “পিয়াল ফুলের রেণু”, প্রাচীন বনৌষধিতে মিলেছে এই ফলের গুনাগুণ।

এই ফলের নাম রাজদন, বৈজ্ঞানিক নাম “Buchanania lanzan”। ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার মিলে এর ২০টি প্রজাতি রয়েছে। চিরঞ্জি, চিঁবৌজি নামেও পরিচিত। ফলের বীজ ওষুধ ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, এ রকমই কিছু তথ্য পাওয়া যায়।

প্রায় শতবর্ষের মধ্যে ঝাড়গ্রামের রামরামা, গোবিন্দপুর ,শিরশি, কলাবনি-সহ সব ক’টি জঙ্গল থেকে এই ফল অবলুপ্তির পথে। কাঁকড়াঝোড় এলাকায় এখনও এই ফল প্রচুর পাওয়া যায়। ঝাড়খণ্ডের সিদ্ধেশ্বরী পাহাড়-জঙ্গল সহ অধিকাংশ জঙ্গল এলাকায় এই পিয়াল বন রয়েছে। বুনো খেজুর, ভুঁড়রু, কেন্দ, পিঠালি, কুল জঙ্গলজাত ফল। তবে এদের মধ্যে সব চেয়ে সুস্বাদু হল এই পিয়াল। তার সন্ধানে এই প্রতিবেদক পাড়ি দেন, পিয়াল বন এলাকায়। এই সবে পাকতে শুরু করেছে পিয়াল। ১০-১৫ দিনের মধ্যে পেকে শেষ হয়ে যাবে। বছরের এই সময়ই তা পাওয়া যায়। কাঁচা ফল সবুজ, স্বাদে টক। পাকা ফল কালো, স্বাদে টক-মিষ্টি মিশেল। তুলনা দিতে হলে অবিকল কালোআঙুর। গন্ধ খানিকটা কুসুমের মতো।

piyal1

স্থানীয় মানুষ জানান, “আগে পাতার ঠোঙায় বিক্রি করতাম।খালা প্রতি পাঁচ টাকা পেতাম। এখন বাইরের ব্যবসায়ীরা বীজ কেজি ওজনে নিয়ে যায়। কেজি প্রতি মেলে দেড়’শ থেকে আড়াই’শ টাকা। ওরা বলে এই বীজ থেকে দামি ওষুধ ও মিষ্টি তৈরি হয়”।

ইন্টারনেট তথ্য বলছে, পিয়াল গাছ তেমন দেখা যায় না, জাতীয় উদ্যানেও সংরক্ষণে নেই। বনৌষধী বিশেষজ্ঞ নারায়ণ মাহাত বলেন, “শুধু বীজ নয় পিয়াল গাছেরপাতা, ছাল সবকিছুই যথেষ্ট ঔষধি গুণের। প্রতিরোধ ক্ষমতা, রক্তাপ্লতা, শক্তি বাড়াতে এই ফল বিশেষ উপকারী। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই ফলের কথা পাওয়া যায়। আগে সব ক’টি জঙ্গল এলাকায় এই ফলের গাছ ছিল। সংরক্ষণের অভাবে ক্রমশ তা অবলুপ্তি ঘটছে”।

উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ দে বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রচুর পরিমাণে এই গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বিষ্ণুপুরের ‘মোতিচুর’ নামে এই বীজ থেকে বেসন থেকেই তৈরি হতো। দামি মিষ্টিতে এই বীজের টুকরো কাজু বাদামের মতো ব্যবহৃত হয়। অনেকে এই ফল চারকুল হিসেবেও চেনেন। সংস্কৃতেও এর নাম পিয়াল । ঝাড়গ্রামের জঙ্গল এলাকায় এখনও কিছু কিছু গাছ আছে, সংরক্ষণ না করলে তাও শেষ হয়ে যাবে। এই গাছের গুণগত মান সাধারণের মধ্যে প্রচার করতে হবে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here