tiger royal bengal
Samir mahat
সমীর মাহাত

চলতি মাসের শুরু থেকে ১২ দিন কেটে গেলেও লালগড়ের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের কোনো হদিশই দিতে পারল না প্রশাসন ও বন দফতর। ড্রোন ক্যামেরা, খাঁচা বসানো, বুনোহাতির তাণ্ডব, বাঘধরা বিশেষজ্ঞ হাজির করানোর পরও মেলেনি কোনো সদুত্তর। বাঁকুড়ার সারেঙ্গা থেকে মেদিনীপুর সদর, ঝাড়গ্রামের জঙ্গল এলাকায় বা বাঁকুড়ায় পাওয়া বাঘের পায়ের ছাপ আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তার উপর পর পর ঘটে চলা আরও কিছু ঘটনায় ঘনীভূত হচ্ছে অন্য রহস্য।

গত ১১ মার্চ গোয়ালতোড়ের জঙ্গলে কুসুমঘাটি গ্রামের জয়রাম সরেনের হাতে বাঘ কামড় বসায় বলে মিডিয়ায় চাউর হয় ।প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তাঁর কোথাও কোনো আঁচড়ের দাগ মেলেনি। বাঘের অস্তিত্ব প্রমাণে মিডিয়ার একাংশ তাঁকে দিয়ে বাঘেই কামড়েছে বলানোর চেষ্টা করে, কিন্তু একই সময়ে ঘটে অন্য একটি ঘটনা। ঝাড়গ্রামের গোবিন্দপুর ও বরবাড়ি গ্রামের মাঝে একটি রাস্তায় বন বিভাগ উদ্ধার করে বাঘের থাবার ছাপ! স্থানীয় মহলে বিষয়টি বুমেরাং বলেই মনে হয়। কেননা লালগড়ের থেকে এখানে বাঘ এলে কমপক্ষে ২০টি গ্রাম, রামরামা জঙ্গল, রেল লাইন, গোদারাস্তার জঙ্গল পার হতে হবে। তখন কি কারও নজরে পড়ল না বাঘ। আবার পরে জানা যায়, জয়রামবাবুকে বনবিড়াল বা কটাস কামড়ে ছিল। টিভির পর্দায় ওই খবরের পাশেই ধরা পড়েছিল একটি বাঘের অস্তিত্ব। গোটা জঙ্গলমহলে এত বাঘ এল কী করে? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

এত সবের মাঝে ১৩ মার্চ ভোরে বাঘ ধরার সঙ্গে যুক্ত পিড়াকাটা রেঞ্জের দুই বনকর্মীর মৃত্যু ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, বন বিভাগের ঐরাবত গাড়িতে বাঘের সন্ধানে টহলরত ছিলেন অমল চক্রবর্তী (৪০) ও দামোদর মুর্মু (৩৬) নামে দুই বনকর্মী। টহল শেষে ফিরতে ভোর প্রায় তিনটে বেজে যায়। দরজা বন্ধ করে ঘোর ঘুমে তাঁরা আচ্ছন্ন  ছিলেন। সকালে দরজা বাইরে থেকে খুললে তাঁদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গাড়িতে জেনারেটার চলায় তাঁরা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান পুলিশের।

ঘটনার প্রথম দিকে বাঘ-কাণ্ডে স্থানীয় মানুষের উত্তেজনা ছিল। শহর-শহরতলিতে এখন তা খবরের খোরাক হলেও জঙ্গলমহলের কাছে বাঘের অস্তিত্ব নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। অতীতের ‘পেঁয়াজভূতের’ আতঙ্কের সঙ্গে তুলনা করে অনেকেই বলছেন, ‘পেঁয়াজভূতের’ জঙ্গলমহলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে এই ভূত-আতঙ্ক থেকে নিস্তার পেতে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই ঘরের দুয়ারে আলতা দিয়ে ‘ওঁম’ লেখা শুরু হয়। আতঙ্ক ছেয়ে ফেলে গোটা এলাকা। ততক্ষণে মাওবাদী অস্তিত্ব ধরা পড়ে বেলপাহাড়ির সিপিএম নেতা সুধীর সিং সর্দার খুনের ঘটনায়। অবশেষে পুলিশ-প্রশাসন, সংবাদ মাধ্যম মিলে পেঁয়াজভূতের’ নিষ্পত্তি ঘটায় এক ছাত্রের রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা চালিত একটি রোবট খেলনার মধ্যে। একই ভাবে বাঘ আতঙ্কের আবডালে নানা আশঙ্কার সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে জঙ্গলমহলবাসী। বাঘ না ধরা পর্যন্ত সেই আশঙ্কার নিস্তার নেই বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন