jalpaiguri

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: বিয়ের পর বউভাত, তারপরেই মধুচন্দ্রিমা যাপনে চলে যাওয়া। এই স্বপ্নই থাকে যে কোনো নবদম্পতীর। এই বাঁধা ছকের বাইরেও যে আরও কিছু ভালোলাগার “স্বপ্ন” থাকে তার প্রমাণ দিলেন জলপাইগুড়ির সুকান্ত-পৌলমী। বউভাতের দিন মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন নবদম্পতি।

মালবাজারের উত্তর কলোনির বাসিন্দা ডা. সুকান্ত ঘোষ পেশায় কলেজের অধ্যাপক। বছর তিনেক আগে পরিচয়  জলপাইগুড়ির পৌলমীর সাথে। একটা সময় পর দু’জনেই বুঝতে পারেন একটু “অন্যরকম” ভাবনার ক্ষেত্রে তাঁদের বেশ মিল আছে। সেই মিলটাই হয়তো জন্ম দেয় তাঁদের প্রেমের সম্পর্কের। প্রেমিক-প্রেমিকারা নিভৃতে-নিরালায় যখন প্রেমে মগ্ন,তখন সুকান্ত-পৌলমী দিন কাটিয়ে দিয়েছেন এক বৃদ্ধাশ্রমে। আবাসিকদের সঙ্গে বসে ভাগ করে নিয়েছেন ভালোবাসা, সুখ-দুখ ।দু’জনে মিলে দরিদ্র পরিবারে তিন শিশুর ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নিয়েছেন।নানান সমাজসেবা মুলক কাজে যুক্ত থাকেন দু’জনে।
ঠিক করেছিলেন এরকম সামাজিক কোনো কাজের মধ্য দিয়েই তাঁরা নিজেদের বিয়ের দিনগুলিও স্মরণীয় করে তুলবেন। সেইমতো তাঁরা যোগাযোগ করেছিলেন ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে।
গত সোমবার বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন দু’জনে।বুধবার ছিল তাদের বউভাত।এদিনই তাঁরা ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেন।নিজেদের বউভাতে নবদম্পতির এই অঙ্গীকার মুগ্ধ করেছে অতিথিদের। তারা প্রাণ ভরে আর্শীবাদ জানিয়েছেন দু’জনকে।
দেহদানের অঙ্গীকারের পর সুকান্ত-পৌলমী জানিয়েছেন,  রক্ষণশীল সমাজের নানা বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু দু’জনের দৃঢ় মনোভাব বিষয়টিকে সহজ করে দিয়েছে।
তবে একটি বাস্তবিক সমস্যাও উঠে এসেছে এরমধ্য দিয়ে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এখনো পর্যন্ত অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা দেহ সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই সরকারি তরফে। যার জন্য ইচ্ছে থাকলেও উপায় না থাকায় অনেকেই এগিয়ে আসেন না।সুকান্ত-পৌলমীর দাবি, দ্রুত এই পরিকাঠামো তৈরি হোক। যাতে তাঁদের অঙ্গ ভবিষ্যতে কারো জীবনে আলো এনে দিতে পারে।
ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক রাজা বৈদ্য জানিয়েছেন, প্রতিনিয়ত প্রচারের মাধ্যমে তাঁরা মানুষের মধ্যে সচেতনার প্রসার ঘটাতে পেরেছেন। গত আটমাসে ১১৫ জন দেহদানে অঙ্গীকার বদ্ধ হয়েছেন তাঁদের সংগঠনের মাধ্যমে। যার মধ্যে রয়েছেন সুকান্ত-পৌলমীও। আপাতত উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে যে পরিকাঠামো রয়েছে তাতে মৃত্যুর পর দেহ চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু সেখানে বা উত্তরের জেলাগুলিতে অঙ্গ সংরক্ষণ ও প্রতিস্থাপনের কোনো পরিকাঠামো নেই।এই পরিকাঠামো তৈরির দাবিতেও সংশ্লিষ্টমহলেও দরবার করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, যাঁরা এখন দেহদান করছেন তাঁরা বয়সে তরুণ। ভবিষ্যতে পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে এই দেহের অঙ্গগুলি, যেমন চোখ বা কিডনি প্রতিস্থাপনের কাজে লাগবে। তার জন্য লক্ষলক্ষ টাকা ব্যয় করে কলকাতা বা ভিন রাজ্যে যেতে হবে না।

1 মন্তব্য

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন