bankura nomads
indrani
ইন্দ্রাণী সেন

‘শিক্ষা আমার অধিকার’ স্লোগান তুলেছে সরকার। দেশের শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার জন্য এই স্লোগানের সঙ্গে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। সেই সঙ্গে শিক্ষার অধিকার আইনও পাশ হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনেক প্রশ্নই থেকে যায়।

এই স্লোগানকে অবশ্য ছাপিয়ে গিয়েছেন বাঁকুড়ার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাযাবর এক মা, পিঙ্কু ব্যাদ। তালডাংরার হাড়মাসড়া হাসপাতাল মোড়ের যাযাবর পরিবারের সদস্যা। যাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দু’বেলা দুমুঠো খেতে না পাওয়া শিশুরাও আজ বিদ্যালয়মুখী।

যাযাবর গোষ্ঠীর প্রথম প্রজন্ম আজ স্কুলমুখী। স্থানীয় খুল্যামুড়ি-পাইড়ি-আগয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্ষুদিরাম বাস্কের কথায়, “এই ছেলেমেয়েগুলোকে স্কুলে আনতে পেরে খুব ভালো লাগছে। পড়াশোনার বিষয়ে আমরা বিশেষ নজর দিচ্ছি ওই পড়ুয়াদের। প্রতি দিন নিয়ম করেই তারা স্কুলে আসছে।”

কদম, সূর্য, দীপ ও সৌরভ ব্যাদরা আজ বাড়ির উঠানে খাটিয়া পেতে পড়তে বসছে। এক সময় সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন এই পরিবারগুলির ছেলেমেয়েদের কপালে ‘ছিঁচকে চোরে’-এর অপবাদ জুটেছে। হবে নাই বা কেন? এই গোষ্ঠীর মানুষের রুজির একমাত্র উপায় যে পশু শিকার এবং ভিক্ষা বৃত্তি।

bankura nomads

এই ভাবেই কখনও আধপেটা আবার কখনও না খেয়ে জীবন কাটায় এই মানুষগুলো। বিভিন্ন জায়গায় রকমভেদে এরা ইরানী, উড়েকামার,বানজারা আবার কোথাও কাকতাড়ুয়া বলেও পরিচিত। পেট চালানোর জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। তবে বাঁকুড়ার হাড়মাসড়া অঞ্চলে হাসপাতালের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে আশ্রয় নেওয়া এই চারটি পরিবারের প্রধান উদ্দেশ্য এখন ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা শেখানো।

বাবা, মা, শিক্ষকদের পাশাপাশি খুশি নতুন এই পড়ুয়ারা। পঞ্চম শ্রেণির কদম ব্যাদের কথায়, “বাবা, মা ভিক্ষা করে কষ্ট করে স্কুলে ভর্তি করেছে। স্কুলের মিড ডে মিল ছাড়া পেট ভরে খাবার পাই না, স্কুল গেলে পড়াশোনা খাওয়া সবই হয়।তাই যত কষ্টই হোক পড়াশোনা করব।” কদমের মায়ের কথায়, “আমরা আগে লেখাপড়া বিষয়ে কিছু জানতাম না। কেউ স্কুলেও যাইনি। এখন আমরা পড়াশোনার কথা জেনে আমার মেয়ে ও আরও তিন জনকে স্কুলে পাঠাচ্ছি। ওরা পড়াশোনা করে মানুষ হলে আমাদের দুঃখ ঘুচবে।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন