darjeeling orange

দার্জিলিং: চা শুধু নয়, দার্জিলিং বিখ্যাত তার কমলালেবুর জন্যও। ভারতের অন্য সব জায়গার থেকে দার্জিলিং-এর কমলালেবু একেবারেই আলাদা। এখানকার কমলালেবু বিখ্যাত তার মিষ্টত্বের জন্য। কিন্তু প্রথমে ভাইরাসের হানা, তার পর বন্‌ধ, এই সবের প্রভাবে নিজেদের মিষ্টত্ব হারাতে বসেছে এই কমলালেবু।

রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণমন্ত্রী আব্দুল রেজ্জাক মোল্লা বলেন, “বন্‌ধের আগে থেকেই ভাইরাসের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দার্জিলিং-এর কমলালেবু ব্যবসা। ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে ১৯ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল রাজ্য। কিন্তু বন্‌ধের জন্য সেই টাকা খরচ করা যায়নি। কীটনাশক এবং ভাইরাসরোধী ওষুধও দেওয়া যায়নি।” তবে কমলালেবু ব্যবসায়ীদের মতে, এর জন্য বন্‌ধ পুরোপুরি দায়ী নয়, যতটা দায়ী ভাইরাসের হানা এবং প্রশাসনের উদাসীনতা।

কার্শিয়ং ডিভিশনের সেলফুর কমলালেবু উৎপাদক মধুকর মাল্লা বলেন, “আমার বাগানের প্রায় পাঁচশো কমলালেবু গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।” তিনি এই ভাইরাস হানার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।

কমলালেবুর এই শিল্প মূলত অসংগঠিত। তাই মোট কত জমিতে কতটা কমলালেবু চাষ হয়, সেই ব্যাপারে কোনো তথ্যই নেই। ঠিক যেমনই অনেক উৎপাদক জানেন না কমলালেবু নষ্ট হওয়ার প্রকৃত কারণ। এমনই একজন উৎপাদক সিটং-এর কমল গুরুং। তিনি বলেন, “কমলালেবু গাছ কেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার কোনো কারণ জানি না আমরা।”

গুরুং এবং মাল্লা। দু’জনেরই দাবি কমলালেবুর আকার অনেক ছোটো হয়ে যাচ্ছে এবং তার মিষ্টত্ব হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনো সাহায্য যে তাঁরা পাচ্ছেন না সে কথাও বলেন দু’জনে। অন্য দিকে রেজ্জাক সাহেবের দাবি, শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান করতে উদ্যোগ নেবে রাজ্য। তিনি নিজেও দার্জিলিং যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন।

নভেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত কমলালেবুর ফসল হয়। হর্টিকালচার দফতরের সিনিয়র সাইন্টেফিক অফিসার মহাদেব ছেত্রী বলেন, “আমরা অদ্ভুত ব্যাপার দেখছি। নতুন নতুন জমিকে কমলালেবুর চাষযোগ্য করে তোলা হচ্ছে, কিন্তু পুরোনো জমিতে আর বেশি কমলালেবু ফসল হচ্ছে না।”

ছেত্রীর মতে, কমলালেবু নষ্ট করে দেওয়ার জন্য মূল দায়ী সাইট্রাস ত্রিস্তেজা ভাইরাস। গাছের ওপরে হানা দেয় এই ভাইরাস। তারপর গ্রিনিং নামক একটি ব্যাকটেরিয়াও দায়ী। তাঁর কথায়, “একটা কমলালেবু গাছের আয়ু সাধারণত ২৫ বছর। কিন্তু কোনো ভাইরাস যদি একটা গাছে হানা দেয়, তা হলে ওই অঞ্চলে জন্মানো নতুন গাছেও তার প্রভাব পড়বে।”

সরকারি উদাসীনতার পাশাপাশি পঞ্চায়েতের কাজ না করাকেও দায়ী করেছে উৎপাদকরা। পঞ্চায়েত কাজ করলে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে চাষিরা কথা বলতে পারতেন বলে দাবি করেছেন উৎপাদকরা।

পাশাপাশি বাংলাদেশের জারি করা আমদানি শুল্কও অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে কমলালেবু চাষে। দার্জিলিং-এর এক কমলালেবু ব্যবসায়ী বলেন, “ভারতের কমলালেবুর ওপরে আমদানি শুল্ক বসিয়েছে বাংলাদেশ কিন্তু ভুটানের কমলালেবুর ওপরে তা নেই।”

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here