west bengal school

কলকাতা:  সরকারি সহায়তা প্রাপ্ত স্কুলগুলিতে অভাবের শেষ নেই বলে প্রায়শই অভিযোগ তুলে থাকে শিক্ষা মহল। তবুও তার গায়ে রং চড়াতে  যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তা শুনে অবাক নয়, হতবাক হয়ে যাচ্ছেন খোদ শিক্ষকরাই।

সম্প্রতি গত ১৬ জানুয়ারি রাজ্যের শিক্ষা দফতরের সচিবালয় থেকে একটি বিশেষ বি়জ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে সরকারি সহায়তা প্রাপ্ত স্কুলগুলির উদ্দেশ্যে। যেখানে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে স্কুলগুলি নির্মাণ করা হয়েছে বা গত তিন বছরে যে স্কুলগুলিতে রং করা হয়েছে তার হিসাব পেশ করতে হবে। প্রতি বর্গ মিটার চুনকাম (হয়তো নীল-সাদা রং) করার জন্য খরচ ধার্য হয়েছে ৩০ টাকা ৫৭ পয়সা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজ্যের কাছ থেকে ওই টাকা পেতে প্রমাণ হিসাবে স্কুলের ছবি সহ আবেদন করতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গে এ মুহূর্তে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক মিলিয়ে সরকার পরিচালিত বা আর্থিক সাহায্য প্রাপ্ত স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার।

অভিযোগ, বহু বিদ্যালয়েই নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পঠনপাঠনের সরঞ্জাম। ব্ল্যাক বোর্ড, শ্রেণীকক্ষ, ল্যাবরেটরি এমনকী প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব রয়েছে কোথাও কোথাও। তেমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র রং করার জন্য ৫০০ কোটি সরকারি বরাদ্দে রীতি মতো রুষ্ট হচ্ছেন শিক্ষক সমাজ।

সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, এটাকে সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া অন্য কিছু নয়। মুখ্যমন্ত্রীর  ব্যক্তিগত পছন্দকে  বাস্তবায়িত করতে সর্বোপরি মানুষকে বোকা বানাতে স্কুলের মৌলিক চাহিদাগুলিকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে।

অন্য দিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাও মনে করেন, স্কুলগুলিতে পড়ে থাকা শূন্য পদ পূরণ না করে এ ধরনের খামখেয়ালি কাজ করে চলেছে একটি সরকার।

কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, স্কুলে রং করার জন্য আলাদা করে অর্থ বরাদ্দ করার মনে এই নয় যে অন্যান্য চাহিদাগুলিকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণও আবশ্যিক বিষয় বলে মনে করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here