নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মাটি-মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে নাজেহাল সোনারপুরবাসী৷ প্রশাসন ও শাসকদলের মদতেই বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হচ্ছে একের পর এক মাটিখাদান৷ কোথাও সরকারি মালিকানাধীন জমি আবার কোথাও ব্যাক্তিগত জমিতে চলছে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা৷ বিঘের পর বিঘে চাষের জমিতে তৈরি হচ্ছে খাদান৷ এই মাটি গাড়িতে তুলে চলে যাচ্ছে শহরে৷ রাতের অন্ধকারেই নিচু বা জলা জমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে৷ স্বাভাবিক প্রাকৄতিক বৈচিত্র্য হারাচ্ছে পরিবেশ৷

সোনারপুর থানা এলাকার খেয়াদহ-১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত, কামরাবাদ-২ নম্বর পঞ্চায়েত, সোনারপুর-২ নম্বর পঞ্চায়েত সহ আরও নানান এলাকায় তৈরি হয়েছে মাটিখাদান৷ বর্ষাকাল বাদ দিয়ে সারা বছরই চলে মাটি তোলার কাজ৷ এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোথাও ‘হ্যাবলা’ কোথাও আবার ‘ভদাই’ সামলান এই ব্যবসা৷ বাড়িতে বসেই এই টাকার ভাগ পেয়ে যান অনেকেই৷ গাড়িপিছু মাসোহারা পদ্ধতি চালু থাকায় চুপ পুলিশও৷ তাই প্রতি দিন বাড়ছে ব্যবসার বহর৷

soil 2

রাস্তার দূরত্বের উপর দাম নির্ভর করে মাটির দাম৷ ছোটো গাড়ি এবং কিমি পাঁচেকের মধ্যে হলে লেবার, মাটি গাড়ির খরচ-সহ ১ হাজার টাকায় রফা হয়৷ দিনেরবেলায় তুলনামূলক ভাবে কম গাড়ি চললেও রাত বাড়লেই বাড়ে মাটির গাড়ির দাপট৷ সন্ধে ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সোনারপুরের বিভিন্ন রাস্তায় শুধু মাটির গাড়ির দাপট৷ সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শাসকদল ও পুলিশের মদতেই রমরমিয়ে চলছে এই বেআইনি ব্যবসা৷ বেপরোয়া গড়ি যাতায়াত শুধু নয়, রাস্তার ধারে ঢাঁই হয়ে মাটি পড়ে থাকলেও মুখ খুলতে পারছেন না এলাকার বাসিন্দারা৷ বিষয়টি বেআইনি হলেও এই নিয়ে অবশ্য কিছুই জানেন না এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান, বিধায়ক এমনকি পুলিশ প্রশাসনও৷

যদিও বিধায়ক জীবন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের কেউ জড়িত থাকলে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন৷ অবিলম্বে এই বেআইনি কাজ বন্ধে পুলিশ ও বিএলআর দফতরকে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি ৷

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here