সুপ্রিম কোর্টের ‘উচ্ছেদ’ রায়ে অক্সিজেন পেতে পারে জঙ্গল মহলের বিজেপি-বিরোধী শিবির

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলার শুনানিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, বিচারপতি অরুণ মিশ্র, নবীন সিনহা ও ইন্দিরা বন্দোপাধ্যায়ের বেঞ্চ একটি রায় দেয়।

0
Jangal-Mahal
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: লোকসভা নির্বাচনের প্রায় মুখে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বনাঞ্চলের বাসিন্দাদের ‘উচ্ছেদ’ বড়ো রকমের অক্সিজেন দিল বিজেপি-বিরোধী শিবিরে। এ রাজ্যের জঙ্গল মহল-সহ বেশ কয়েকটি লোকসভা কেন্দ্রে এই রায়ের রীতিমতো প্রভাব পড়বে, যদি বিরোধী শিবির তাকে ইস্যু হিসাবে আন্দোলন করতে পারে, এমনই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

তৃণমূল-সহ কেন্দ্রের বিরোধী দলের সমর্থকরা ইতিমধ্যে সোস্যাল মিডিয়ায় এই ইস্যুতে বিজেপিকে একহাত নিতে শুরু করেছে। একাংশের মতে, কেন্দ্র সরকার বনবাসী আদিবাসীদের উচ্ছেদের নামে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আবডালে শিল্পপতিদের স্বার্থে এটা করছে।

উল্লেখ্য, সূত্র মতে ২০০৬ সালের পাশ হওয়া বনাধিকার আইনের কার্যক্রম প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলার শুনানিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, বিচারপতি অরুণ মিশ্র, নবীন সিনহা ও ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ একটি রায় দেয়। যাঁর মূল বিষয় হল, অরণ্যের অধিকার আইনে বসবাস ও চাষাবাদ নিয়ে যাঁদের পাট্টার আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে, তাঁদের উৎখাত করতে হবে। এমনকী সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে উৎখাত না হলে এ রাজ্য-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যসচিবদের জবাব দিতে হবে।

বিশেষত, জঙ্গল মহলের ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রে বনবাসী আদিবাসী ভোটাররাই মূল নির্ধারক। যদিও পাট্টা খারিজ হওয়ার পরিবারের সংখ্যা এ রাজ্যে ৮৫ হাজার ৮৭৪টি। গড়ে ৩ জন পরিবার পিছু ভোটার ধরলে দাঁড়াচ্ছে ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৬২ জন। অন্যান্য রাজ্যে এই পরিবারের সংখ্যা বেশি, মধ্যপ্রদেশে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ, ওড়িশায় দেড় লক্ষ, সারা দেশে মোট প্রায় ১০ লক্ষ পরিবারের উচ্ছেদের সম্ভবনা রয়েছে।

বর্ষীয়ান রাজনীতিক তথা গোপীবল্লভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সন্তোষ রানা এ বিষয়ে বলেন, “জঙ্গল মহল এলাকায় কেন্দ্র বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সক্রিয় ভাবে প্রতিবাদে নামলে, শাসক দলের অজুহাত ধোপে টিকবে না। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে বামেরা এই ইস্যুতে প্রতিবাদ তুলেছে, এ রাজ্যে কোথায়? সুপ্রিম কোর্টে সরকারি আইনজীবী তো চুপচাপ থাকলেন। আসলে সেচ্ছাসেবীদের নামে ওই সমস্ত জায়গা থেকে বনাঞ্চলের বাসিন্দাদের হটিয়ে শিল্পপতি দের বসানো হবে”।

[ আরও পড়ুন: ডানকুনিতে কারখানায় বিধ্বংসী আগুন, ছড়াচ্ছে দ্রুতগতিতে ]

অন্য দিকে এ ব্যাপারে ঝাড়গ্রাম জেলার প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান জেলা নেতা নিখিল মাইতি বলেন, “সর্বভারতীয় স্তরে রাহুল গান্ধী এই নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় এলাকায় নির্বাচন ঘোষণার আগেই দলীয় ভাবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামছি”।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here