basudeb bandyopadhyay
ক্লাসে শিক্ষণে ব্যস্ত বাসুদেববাবু। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: অবসরের ২১ বছর পরেও প্রতি দিন স্কুলে যান এই শিক্ষক। বাঁকুড়ার ১ নম্বর ব্লকের জগদ্দলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। চার দিকে সার দিয়ে ক্লাসঘর। শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা ২৩০। শিক্ষক সংখ্যা পাঁচ। অবশ্য এই কয়েক দিন শিক্ষাদানে ঘাটতি ঘটছে। কেবল মাত্র দু’জন শিক্ষক বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে পাঠদান করছেন। কারণ একজন শিক্ষিকা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। আরও দু’জন শিক্ষক নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন। আর এই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক বাসুদেববাবু, যাঁর বয়স ৮১। শিক্ষক দিবসে বাদুদেববাবুর মতো শিক্ষকরাই যে স্মরণীয় তা বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না।

১৯৯৭ সালে বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের জগদ্দলা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে খাতায় কলমে অবসর নেন বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দীর্ঘ একুশ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এলাকার এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করে চলেছেন তিনি। সন্তানতুল্য ছাত্রছাত্রীদের ছেড়ে এক দিনের জন্যও বাড়িতে বসে থাকেন না এই মানুষটি। শুধুমাত্র রবিবার আর সরকারি ছুটির দিনে  ছুটি নেন তিনি। শিক্ষক বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাড়িতে প্রতি বছর কালীপুজো হয়। তিনি যেমন ভগবান, তেমনি এই স্কুল আমার কাছে মন্দির। স্কুল আর এই কচিকাঁচাদের ছেড়ে বাড়িতে থাকলে দমবন্ধ হয়ে যায় বলেও তিনি জানান।

এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বরুপ গরাই বলেন, বাসুদেববাবু আমাদের অভিভাবক। প্রতিনিয়ত ওঁর কাছে আমরা শিক্ষা পাচ্ছি। স্কুলের পড়ুযারা ওঁর আদর্শে শিক্ষা পাচ্ছে। এর কোনো বিকল্প হয় না। তিনি আরও বলেন, রোজ নির্দিষ্ট সময়ে ধুতি, ফুল হাতা পাঞ্জাবি, হাতে কালো ছাতা আর পায়ে সস্তার এক জোড়া জুতো পরে হাজির হয়ে যান স্কুলে। তার পর মাঝে টিফিনের সময়টুকু বাদ দিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত এক নাগাড়ে চলতে থাকে ওঁর শিক্ষাদান। ওঁর মতো শিক্ষক যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গর্ব।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন