TMC And BJP

শিলিগুড়ি: রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্য়ক্ষা তথা ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকার প্রবীণ তৃণমূল নেত্রী শিখা চট্টোপাধ্য়ায়  পদত্যাগ পত্র পাঠালেন জেলা নেতৃত্বকে। শিখাদেবী দীর্ঘদিন ডাবগ্রামে তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন, এমনকী ডাবগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েত আসন থেকে জয়লাভ করে বিরোধী দলনেত্রীও হন। সিপিএমের রমরমার যুগেও তিনি তৃণমূলের মুখ হয়ে উঠেছিলেন ওই এলাকায়। এ হেন এক জন নেত্রী কেন দল ছাড়লেন?

শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলের মতে, শিখাদেবীর দল ছাড়ার সঙ্গে বেশ কয়েকটি জায়গায় মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে মুকুল রায়ের আকস্মিক দল বদলের সঙ্গে। এ ছাড়া আজই শিলিগুড়িতে বিজেপির মহামিছিলে মুকুলবাবুর আসার কথা রয়েছে। গত কালই জানা গিয়েছিল, এলাকার বাঘাযতীন পার্কের জনসভায় মুকুলবাবু বেশ কয়েক জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্বকে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দেওয়াতে পারেন। শিখাদেবী তৃণমূল ছাড়লেও নতুন দলে যাওয়া নিয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাঁর পরবর্তী দলে নাম লেখানোর জন্য় শিলিগুড়ির মানুষকে হয়তো বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে।

এ মুহূর্তে শিলিগুড়িতে বিজেপির সংগঠন মূলত নেতা-সমর্থক কেন্দ্রিক। অর্থাৎ সংগঠনের প্রসারে যে সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হয়, তা নিতান্তই কম। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরপরই মুকুলবাবু শিলিগুড়িতে ঘুরে গিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সে কারণেই হয়তো মুকুলবাবুকে সঙ্গী করে শিলিগুড়ি আসছেন রাজ্য সভাপতি। তাঁদের লক্ষ্য, এখানকার তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে দলে টানা। কারণ মুকুলবাবু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই এ ধরনের বেশ কয়েক জন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। কেউ কেউ আবার বিজেপির পতাকা বহন করার কথা প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেছেন। ফলে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া ওই সমস্ত নেতাদের কাছে টানাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য। আর সে কাজে সফল হতে পারলে উত্তরবঙ্গের ছ’টি লোকসভায় সংগঠনের শক্তি অনেকটাই বাড়াতে পারবে বিজেপি।

যদিও জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, তাঁরা শিখাদেবীর কাছ থেকে কোনো পদত্য়াগ পত্র পাননি তিনি তৃণমূলে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here