jungle mahal bean
Samir mahat
সমীর মাহাত

সংরক্ষণের অভাবে জঙ্গলমহলে অবলুপ্তির পথে  এক সময়ে বহু পরিচিত বুনো শিম। আঞ্চলিক নাম ” ককসিমা”, এ রাজ্যে মাখন শিম নামেও পরিচিত। মণিপুরে যাকে বড়ি শিম বা তেবি বলে সবাই চেনেন। দক্ষিণ মধ্য ভারতে প্রাচীন এই বন্য সবজির সংরক্ষণের মাধ্যমে চাষ হয় বলে জানা গিয়েছে।

জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামগুলির আনাচে-কানাচে প্রকৃতি নির্ভর এই বন্য সবজি প্রচুর পরিমাণে ছিল, যা এখন প্রায় অবলুপ্তির পথে।কি এই ককসিমা ,যার বৈজ্ঞানিক নাম “ক্যানাভেলিয়া গ্যাডিয়াটা”, ইংরেজি নাম ” সোল্ডবিন”। বিষেশজ্ঞদের মতে, কৃষি সভ্যতার আগে বন্যযুগে জঙ্গলবাসীদের কাছে এই সবজি ছিল অন্যতম খাদ্য। লতা জাতীয় উদ্ভিদ। বর্ষাকালে জন্মে বড়ো গাছের আশ্রয়ে উপরে ওঠে। আকার- আকৃতিতে এক-একটি প্রায় এক ফুট। ডাঁসা হওয়ার আগে একটু শক্ত হলেই পুড়িয়ে বা রান্না করে খাওয়া হয় এই শিম। প্রত্যক্ষ ব্যাবহারকারীরা জানাচ্ছেন সাধারণ শিমের মতোই স্বাদ, তবে মিষ্টতা বেশি। ভাপিয়ে জল ফেলে দিয়ে মাছের সঙ্গে মিশিয়ে খেতেও খুব ভালো। কেউ কেউ আবার, এর পাকা বীজ পুড়িয়ে খেয়ে থাকেন। তথ্যমতে, দেশের অনাহার- দুর্ভিক্ষের প্রভাব জঙ্গল মহলকে যে কারণে কাবু করতে পারেনি, খাদ্য হিসাবে জঙ্গলে এ রকম বহু কিছু ছিল।

উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ ড. রাজেন দে বলেন, “এ রাজ্যে এই বন্য সবজিকে সবাই মাখন শিম বলে। বন্য সবজি এটাই পাওয়া যায়, আলু জাতীয় বন্য মূল ছাড়াও একপ্রকার পাতা, জঙ্গল মহলের স্থানীয়রা” মাঠা” শাক নামে তা খেয়ে থাকে। টক স্বাদের এই পাতা। তবে মাখন শিম এই এলাকায় প্রায় অবলুপ্ত। এ রাজ্যে এর সংরক্ষণ চোখে পড়েনি। মণিপুর-সহ দক্ষিণ মধ্যভারতে এর সংরক্ষণ ও ব্যবহারিক প্রচলন আছে।

এ ব্যাপার ঝাড়গ্রামের লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ড. সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “এক সময় গোটা এলাকা জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল।জীবন- জীবিকা ছিল বনজ খাদ্যের উপর নির্ভর।সবজি হিসেবে এই ককসিমা বা মাখন শিম অনেকেই পুড়িয়ে বা রান্না করে খেতেন। তবে আমাদের এলাকায় তা অবলুপ্ত।”

সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ, সাঁকরাইলের ডাহিগ্রামের বাসিন্দা ৬৭ বছরের বিমল মাহাত বলেন, “তখনো কাচের মারবেল গুলির প্রচলন আসেনি, বড়ো বড়ো গাছের তলা থেকে ককসিমা বা মাখন সিমের পাকা লাল বীজ জোগাড় করে গুলি খেলার মতো হার- জিত খেলতাম। পরে সবাই মিলে সেই বীজ পুড়িয়ে খেতাম। লতা গাছের অনেক উপরে উঠে যাওয়ায়, সে শিম পাড়া মুশকিল ছিল, খানিকটা ডাঁসা অবস্থায় রান্না করে খাওয়া হতো।

ঝাড়গ্রামের লালগেড়িয়া গ্রামের হরিশ মাহাতর গাছের উপর ঝুলে আছে ককসিমা। ছবি: প্রতিবেদক

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন