কলকাতা : দুর্গাপুজোয় থিমের রমরমা শুরুর পর থেকে একটু একটু করে মার খেতে শুরু করে শতাব্দীপ্রাচীন শোলার ব্যবসা। মূলত দুর্গার সাজ, নানা ধরনের নকশা, মণ্ডপসজ্জার নানান জিনিস হিসেবে শোলার ব্যবহার হত। কিন্তু এখন আর এতটা ব্যাপক ভাবে শোলার প্রয়োজন পড়ে না।

তবুও মন্দের ভালো কিছুটা ব্যবসা হত পুজোর আগের এই সময়টায়। কিন্তু তাতেও বাধ সেধেছে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা-সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা। ফলে বাজারের হাল আরও খারাপ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জিএসটি বা পণ্য পরিষেবা করের দরুণ জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি। তার ফলে বাকি সব কিছুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ২৫% থেকে ৩০% বেড়েছে শোলার দামও।

কুমোরটুলির এক জন শোলা ব্যবসায়ী তাপস চক্রবর্তী বলেন, বন্যা আর জিএসটি-র কারণে ব্যবসার হাল খুব খারাপ। তার ওপর সব জায়গাতেই স্থানীয় শোলা ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছে। তার ফলে আরও বেশি করে ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কুমোরটুলির এই শোলার কাজ শুধু কলকাতায় নয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য-সহ বিদেশেও পাড়ি দেয়। কিন্তু এ বছরের হাল অন্য বারের থেকে বেশ খারাপ,জানালেন শোলাশিল্পীরা। অর্ডার প্রায় নেই বললেই চলে, বললেন শোলাশিল্পী তপন পাল। তিনি বলেন, এই বছরে সকলেরই প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে। ১০–১৫ টাকার আঁটি এখন ২৫ থেকে ৩০ টাকা হয়ে গিয়েছে। ফলে পেটির দাম বেড়ে আট-ন’শ টাকা থেকে ১১০০-১২০০ টাকা হয়ে গিয়েছে।

তবে বাড়ির পুজোগুলোয় শোলার চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here