extreme heat in bengal
ফাইল ছবি।

কলকাতা: জলীয় বাষ্পের সুবাদে কিছু দিন তুলনায় কম ছিল কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সেই জলীয় বাষ্প কমে যেতেই ক্রমশ চড়ছে পারদ। রবিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.২ ডিগ্রি। শনিবার রাতের দিকে কলকাতায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হলেও, কাজের কাজ কিছুই হয়নি, বরং রবিবার সকাল থেকে ছড়ি ঘোরানো শুরু করেছে রোদ।

গরমের ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণ এখন ওষ্ঠাগত। তবে এই গরমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বর্ষার পদধ্বনি। এমনই মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। কী ভাবে? সেটাও খোলসা করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। ‘ওয়েদার আল্টিমা’র কর্ণধার রবীন্দ্রবাবুর মতে, বর্ষাকে টেনে আনার জন্য এখন মাটি গরম হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “মাটি যত গরম হবে তত বেশি তাপ উৎপন্ন হয়ে বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকে উঠে যাবে। তৈরি হবে একটি নিম্নচাপ বলয়। সেই নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়ে গেলে সমুদ্র থেকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসবে মৌসুমি বায়ু। সুতরাং এখন যত বেশি গরম পড়বে তত বাড়বে তাড়াতাড়ি বর্ষার সম্ভাবনা।” এই মুহূর্তে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টি হলেও, কলকাতা বৃষ্টির খুব একটা সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি। তবে স্থানীয় ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয়েও বৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি তীব্র গরম ঝাড়খণ্ড-ওড়িশাতেও

শুধু কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গ নয়, এই মুহূর্তে তীব্র গরমের কবলে পড়েছে বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশাও। দক্ষিণবঙ্গে রবিবার সব থেকে বেশি গরম ছিল আসানসোলে। সেখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১.৭ ডিগ্রি। এর পাশাপাশি চল্লিশ ডিগ্রির ওপরে ছিল বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুরের তাপমাত্রাও। ঝাড়খণ্ডে রবিবার সব থেকে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বোকারোয় (৪৩.৮ ডিগ্রি)। এর পাশাপাশি সব জায়গা এমনকি রাঁচিতেও চল্লিশের ওপর ছিল পারদ। ওড়িশায় রবিবার সব থেকে বেশি তাপমাত্রা ছিল তিতলাগড়ে (৪৬ ডিগ্রি)। বিহারেও চল্লিশের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে পারদ। অর্থাৎ পুরো ছোটোনাগপুর মালভূমিই এখন তীব্র গরমের সম্মুখীন।

থমকে গিয়েছে বর্ষার অগ্রগতি, ৪৮ ঘণ্টা পর ফের সূচনা হতে পারে

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জকে নিজের গ্রাসে এনেই শক্তি হারিয়ে ফেলেছে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। বর্ষাকে তরান্বিত করবে এমন কেউ মজুত ছিল না বলে নট নড়নচড়ন হয়ে গিয়েছিল সে। তবে বঙ্গোপসাগরে কিছু তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দু’দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। এর ফলে আবার এগোবে বর্ষা।

এ মাসের শেষে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গে

কয়েক জন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞের মতে, ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে এ মাসের শেষের দিকে এগিয়ে আসবে উত্তর ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে। এর ফলে এই অঞ্চলে বাড়বে বৃষ্টি, সম্ভাবনা ভারী বৃষ্টিরও। তবে এই নিম্নচাপের ব্যাপারে কিছু জানায়নি আবহাওয়া দফতর।

তবে একটি ব্যাপারে সব বিশেষজ্ঞই মোটামুটি একমত যে এ বারের মতো গরমের এটাই শেষ দাপট। এমনিতে গত ছ’বছরে প্রথম বার চল্লিশের ওপরে ওঠেনি কলকাতার পারদ। ইঙ্গিত যা তাতে খুব বেশি ৩৯ হলেও, চল্লিশ ছোঁয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আগামী বৃহস্পতিবার থেকেই অবশ্য কমতে শুরু করবে তাপমাত্রা। সুতরাং এই গরমের ব্যাপারে বেশি চিন্তা না করে আসন্ন বর্ষার জন্য প্রস্তুত হন সবাই।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন