দ্বারকেশ্বরের পাড়ে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামল মুড়ি মেলায়

ভাবছেন মুড়ি মেলা শোনেননি তো আগে এই মুড়ি মেলার কথা। আসলে জেলাটা বাঁকুড়া আর কথাতেই আছে 'বাঁকুড়া বাসী মুড়ি খায় রাশি রাশি'।

0
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: সকাল হতেই স্নান সেরে বাড়ির কর্তাকে তাড়া গিন্নির … ঠসকাল সকাল না গেলে দ্বারকেশ্বরের পাড়ে জায়গা পাওয়া যাবে না। ভোর রাত থেকে উঠে পরিশ্রমটাই বৃথা যাবে। একটু পরেই দ্বারকেশ্বরের পাড়ে মানুষের ঢল নামবে। তিল ধরার জায়গা থাকবে না”। নিত্যদিনের সংসারের গল্প আবার খবরের প্রথমেই কেন ভাবছেন পাঠককুল। এবার আসি মূল উদ্দেশ্যে উপরের কথোপকথনটি আসলে অভিনব মুড়ি মেলাতে কেন্দ্র করে এক বাঁকুড়ার দম্পতির।

ভাবছেন মুড়ি মেলা শোনেননি তো আগে এই মুড়ি মেলার কথা। আসলে জেলাটা বাঁকুড়া আর কথাতেই আছে ‘বাঁকুড়া বাসী মুড়ি খায় রাশি রাশি’। মুড়িকে কেন্দ্র করে শতাব্দী প্রাচীন অভিনব এই মেলা একমাত্র বাঁকুড়াতেই দেখতে পাবেন। তবে শুধুমাত্র মুড়ি নয় সাথে সাথেই থাকে চপ, বেগুনি, সিঙাড়া,ঘুগনি, চানাচুর,শশা, পেঁয়াজ, মুলো, কাঁচালঙ্কা, তেল দিয়ে পাশাপাশি জিলাপি ও।ধারাবাহিকতা মেনে শনিবার অভিনব এই ‘মুড়ি মেলা’য় অংশ নিলেন কয়েক হাজার মানুষ। জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে অসংখ্য মানুষ এদিন কেঞ্জাকুড়া সংলগ্ন দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে সঞ্জীবনী মাতার আশ্রমে।

অভিনব এই মেলা শুরুর প্রামাণ্য কোন তথ্য না মিললেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্বারকেশ্বর নদী তীরে সঞ্জীবনী মাতার এই আশ্রম বহু পুরাণো। প্রাচীণ কাল থেকেই এই আশ্রমে মকর সংক্রান্তির উপলক্ষ্যে 1 মাঘ থেকে হরিনাম সংকীর্তন শুরু হয়। যা চলতে থাকে মাঘ মাসের 4 তারিখ পর্যন্ত। এক সময় এই এলাকা ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। এই হরিনাম সংকীর্তনে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে অংশ নিতেন। ঐ জঙ্গলে থাকা হিংস্র জীব জন্তুর ভয়ে মানুষ আর রাতে বাড়ি ফিরতে পারতেননা। ফলে তারা ঐ মন্দিরেই রাত্রীবাস করে সকালে দ্বারকেশ্বর নদীর জলে মুড়ি ভিজিয়ে খেয়ে যে যার মতো বাড়ি ফিরতেন। সেই থেকেই এই মুড়ি মেলার সূচণা বলে এলাকার প্রবীণ নাগরিকরা জানিয়েছেন।

[ আরও পড়ুন: সামাজিক বনসৃজন প্রকল্পের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য কুলতলিতে ]

মেলা কমিটির পক্ষ থেকে প্রদীপ মোদক বলেন, পৃথিবীর একমাত্র এখানেই মুড়ি মেলা হয়।মাঘ মাসের প্রথম দিন থেকেই এই মেলার শুরু হয়। শেষ দিনে থাকে এই মুড়ি মেলার আয়োজন। গ্রামবাসীদের আর্থিক সহযোগীতায় এই মেলা চলছে। সকালে বাড়ি থেকে সঙ্গে করে আনা মুড়ি খাওয়া শেষে দুপুরে সবাই একসাথে খিচুড়ি খাওয়ার পর উপস্থিত সবাই বাড়ি ফিরে যান বলে তিনি জানান। মুড়ি মেলায় উপস্থিত লাল চঁন্দ, সুমিতা দাস, মৌসুমী কাইতরা বলেন,প্রতি বছর এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় থাকি। সারা বছর ধরেই এর প্রস্তুতি চলে। শীতের রোদ পিঠে করে গামছায় মুড়ি মেখে বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজনদের সাথে একসাথে বসে মুড়ি খাওয়ার আনন্দই আলাদা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here