নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : শুরু হল লাটাগুড়ি কার্নিভাল। জলপাইগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন লাটাগুড়ির নেওড়া মোড়ে সাড়ম্বর উদ্বোধন হয় এই কার্নিভালের। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জমজমাট কার্নিভাল। শনিবার এর সূচনা করেন সাংসদ সুব্রত বক্সী। ছিলেন বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, আদিবাসী বিকাশমন্ত্রী জেমস কুজুর-সহ বহু বিশিষ্ট জন।

মূলত পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই তিন দিনের এই কার্নিভালের আয়োজন। শুধু লাটাগুড়ি নয়, ডুয়ার্সের অধিকাংশ পর্যটন-ব্যাবসার মূল আকর্ষণ গরুমারা জাতীয় উদ্যান।

ধীরে ধীরে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে গরুমারা বনাঞ্চল তথা লাটাগুড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বেসরকারি রিসোর্ট, গাড়ি ব্যবসার উন্নতির পাশাপাশি বন দফতরের আয়ের একটা বড় অংশও এই পর্যটন থেকেই আসে। তাই আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে টানতে এই কার্নিভাল একটা বড় ভূমিকা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে গত কয়েক দিন ধরে উড়ালপুল তৈরির জন্য গাছাকাটা নিয়ে উত্তেজনা এবং জঙ্গল সাফারি বন্ধ থাকায় অনেক পর্যটক অন্যত্র চলে গিয়েছেন। সেই অবস্থায় এই কার্নিভাল কতটা সাফল্য লাভ করবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। যদিও স্থানীয় পর্যটন ব্যাবসায়ী মহলের দাবি, ওই ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না কার্নিভালে। লাটাগুড়ি রিসোর্ট ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বরুণ সরকার জানিয়েছেন, তারা সর্বতো ভাবে এই উদ্যোগের পাশে আছেন। পর্যটন ব্যাবসায়ী দিব্যেন্দু দেব জানিয়েছেন, যে ভাবে এই কার্নিভালে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাণী-বৈচিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে তা নি:সন্দেহে পর্যটকদের আকর্ষণ করবে। তিন দিন ধরে সাঁওতালি, বৈরাতি, রাজবংশী নাচ-গান, জনপ্রিয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে রকমারি হস্তশিল্পের স্টল। চা-পিপাসুদের জন্য রয়েছে দার্জিলিং-এর বিভিন্ন স্বাদের  চা-পানের ব্যবস্থা। চৈত্রের গরম উপেক্ষা করে কার্নিভালের স্বাদ নিতে ভিড় জমিয়েছেন মানুষও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here