কলকাতা:  শুক্রবার গভীর রাতে দমদম পাতিপুকুর রেল ব্রিজের কাছে সুভাষ কলোনিতে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বস্তির ২০টি ঘর। এই অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন। ঘটনাস্থলে দমকলের ১৬টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, আসে বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন রাত ২টো ৪০ মিনিটে সুভাষ কলোনির বস্তিতে আগুন লাগে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। বাসিন্দারা ঘুমিয়ে থাকায় বিপত্তি আরও বাড়ে। দমকলের ১১টি ইঞ্জিন প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী প্রিয়া অধিকারী ও তার কাকা নিমাই অধিকারীর। আগুন লাগার সময় পরিবারের অন্যরা ঝুপড়ি থেকে বেরিয়ে এলে বেরোতে পারেনি কাকা-ভাইঝি। সিলিন্ডার ফেটে মুহূর্তে কার্যত আগুনের গোলায় পরিণত হয় তাদের ঝুপড়ি। ঘটনাস্থলে মারা যান দু’জনে। কী কারণে আগুন লাগল তা খতিয়ে দেখছে দমকল। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এলাকা ঘিঞ্জি হওয়ায় আগুন নেভাতে যথেষ্ট অসুবিধা হয় দমকলের।

ppগৃহহারা হয়ে সুভাষ কলোনি বস্তির বাসিন্দারা রাতে আশ্রয় নেন রেললাইনের উপর। পরে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে তাঁদের স্থানীয় একটি স্কুলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

অন্য দিকে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বিডন স্ট্রিটের ফকিরচাঁদ লেনের একটি গেঞ্জি কারখানায় আগুন লাগে। শীতের সকালে তখনও ভালো করে আলো ফোটেনি।  ঠিক তখনই গেঞ্জি কারখানা থেকে  হালকা ধোঁয়া বেরোতে দেখেন ওই কারখানার এক নিদ্রাচ্ছন্ন কর্মী।  সেই সময়ে ওখানে আরও ৭ জন কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।  কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পরে প্রাণ বাঁচাতে কোনো রকমে সবাই বাইরে বেরিয়ে আসেন। আগুন দ্রুত গোডাউন-সহ কারখানাটিকে গ্রাস করে নেয়।  কালো ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধে ঘুম  ভেঙে যায় আশেপাশের বাসিন্দাদের। তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  কনকনে শীতের সকালে সকলে খোলা আকাশের নীচে বেরিয়ে আসেন।  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। প্রায় ২ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ভাবে  অনুমান, শর্ট শার্কিট থেকেই এই আগুন লাগে।

অত্যন্ত ঘিঞ্জি এলাকা  ফকিরচন্দ্র লেন।  একটি বাড়ির গায়ে লাগানো আর একটি বাড়ি।  স্থানীয় কাউন্সিলর সুনন্দ সান্যাল বলেন,  উত্তর কলকাতা ঘিঞ্জি এলাকায় কী ভাবে  অগ্নিনির্বাপন ব্যাবস্থা উন্নত করা যায় সে দিকে তাঁরা নজর দেবেন।  পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকলের প্রশংশা করেন কাউন্সিলর।  ঠিক সময়ে তৎপর  না হলে আগুনের লেলিহান শিখায়  গ্রাস হয়ে যেতে পারত বহু মানুষের ঘর-গেরস্থালি।  প্রাণহানি ঘটতে পারত পাতিপুকুরের মতো।  

শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ সল্টলেকের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার অফিসে আগুন লাগে। দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ছবি : রাজীব বসু

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here