haunted village
Samir mahat
সমীর মাহাত

ভূতের আতঙ্কে নিশ্চিহ্ন ঝাড়গ্রামের তিনটি গ্রাম। ঝাড়গ্রামের ভুখলাসিনী ও তার লাগোয়া গঠশোল, ডোমশোল – প্রায় ১০০ বছরের মধ্যে স্রেফ ভূতের আতঙ্কে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে এই তিনটি গ্রাম।

ভুখলাসিনী গ্রামে জন্ম চম্পাবতী মাহাতর। এখন ৮০ বছরের বৃদ্ধা। তাঁর বাস পাশের লালগেড়িয়া গ্রামে। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শয্যাশায়ী। তাঁর কথায় জানা গিয়েছে, শতবর্ষ আগে জঙ্গল লাগোয়া ভুখলাসিনী গ্রামে বসত গড়েন ধরণীধর, ধনঞ্জয় আর গোদায় মাহাতদের পূর্বপুরুষেরা। এঁরা সবাই ছিলেন জমিদার পরিবার। ধরণীধরেরই দ্বিতীয় মেয়ে এই চম্পাবতী। এঁদের বাড়ির মুনিষের কাজ করতেন কুণ্ডু মাহাত। একদিন কুণ্ডুর ছেলে খড়ু বেলগাছ থেকে পড়ে তৎক্ষণাৎ মারা যায়। ঘটনার সময় চম্পাবতীর বয়স ছিল তিন বছর।

another haunted villageবেলগাছ থেকে খড়ুর পড়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে প্রথম দিকে সবাই দুর্ঘটনা হিসেবেই মেনে নিয়েছিল। ইতিমধ্যে ঘটে গেল আর একটি ঘটনা। তখনও মৃতের সৎকাজ শেষ হয়নি। পাশের ইন্দ্রাবনী গ্রামের রাধানাথ জমিদার পরিবারের পাত্রীকে বিয়ে করে ভুখলাসিনির ঘরে তোলার পর ছাঁদনাতলায় গায়ে হলুদের কাপড়েই আকস্মিক মারা যায় ওই পরিবারের পরিতোষ মাহাত। এর পর? ভূতের আতঙ্ক চেপে বসে তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের ওপর। গ্রাম ছাড়ে পরিবারগুলি। চম্পাবতীদের পরিবার ঘর বাঁধে পাশের লাহোড়ডাঙ্গায় (বর্তমান লালগেড়িয়া গ্রাম)। পরে এই গ্রামেই তাঁর বিয়ে হয়। একাংশ উঠে যায় কুশপাড়ায় (বর্তমান রাশুয়া গ্রাম)। ভুখলাসিনীর লাগোয়া গোঠশোলের বাসিন্দারা উঠে যায় গুইমারা গ্রামে। ডোমশোলের বাসিন্দারা উঠে যায় মুড়াবনি গ্রামে।

আরও পড়ুন খোল-কীর্তনের রথযাত্রায় এখন তাসা-ড্রাম, তবুও ঐতিহ্য ধরে রাখার আপ্রাণ প্রয়াস ঝাড়গ্রামে

বর্তমানে এলাকাটি বাঁধগোড়া-মানিকপাড়া প্রধানমন্ত্রী সড়কের পাশে মানিকপাড়া অঞ্চলে পড়ে। ‘সিনী’ অর্থে পাহাড় বোঝায়। বেলপাহাড়ির গাড়রাসিনী, পুরুলিয়ার দুয়ারসিনী, বাঁকুড়ার শিতলাসিনী ইত্যাদি। প্রশাসনের মানচিত্রে গোঠশোল মৌজার উল্লেখ পাওয়া গেলেও ভুখলাসিনীর কোনো উল্লেখ নেই। এখানকার বাস্তুভিটে সব মাঠ-জমিতে পরিণত হয়েছে। প্রাচীন বটগাছ ছাড়া এখানে গ্রামের কোনো চিহ্নই নেই। চম্পাবতী দেবীর কথায়, পুরো এলাকায় তখন পাল ও মুসলমানদের জমিদারি ছিল। দক্ষিণের ২৫-৩০টি মৌজার মালিকানা ছিল করুণাসিন্ধু পালের। পশ্চিমের বনাঞ্চল ও এলাকা ছিল ল্যাংড়া মিঞাদের। অবলুপ্ত গ্রামগুলি নিয়ে গবেষণা হলে বহু প্রাচীন তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান নৃতত্ত্ববিদ তথা মানববিজ্ঞানী ড.পশুপতি প্রসাদ মাহাত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here