নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: কথায় বলে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। দু’টি গন্ডারের প্রাণ খুইয়ে হুঁশ ফিরল বন বিভাগের। চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য রুখতে জোট বাঁধল বন দফতর, রাজ্য পুলিশ এবং সিআইএসএফ। বুধবার থেকে শুরু হল যৌথ নজরদারি। উত্তরবঙ্গের সমস্ত বনাঞ্চলে চলবে যৌথবাহিনীর অভিযান।

এপ্রিল মাসে জলপাইগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যানের গড়াতি বিট থেকে উদ্ধার হয়েছিল দু’টি গন্ডারের মৃতদেহ। খড়গ দু’টি ছিল কাটা। চোরাশিকারিরা এর সঙ্গে যুক্ত বলেই প্রমাণ মিলেছে এই ঘটনায়। এর পরেই প্রশ্নের মুখে পড়ে বন দফতরের ভূমিকা ও বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা।
যে দু’টি দেহ পাওয়া গিয়েছিল তার মধ্যে একটি গন্ডারের দেহ প্রায় পচে গিয়েছিল। বন দফতরের তদন্তে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ চোরাশিকারিদের হাতে প্রাণ যায় পূর্ণবয়স্ক ওই গন্ডারটির। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, বন বিভাগের নজরদারি নিয়ে। জাতীয় উদ্যানের ‘কোর এরিয়া’য় ঢুকে বিনা বাধায় চোরশিকারিরা কী ভাবে তাদের অপারেশন চালিয়ে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল বনদফতর। আবার, প্রায় দু’মাস ধরে গ গন্ডারের দেহ জঙ্গলের মধ্যে পড়ে থাকলেও কেন তা টহলদাররত বনকর্মীদের নজরে এল না, তা নিয়েও ঘরে-বাইরে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল তারা। ঘটনার পর বেশ কয়েক জন বনাধিকারিক ও বনকর্মীকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। এক বিট অফিসারকে সাসপেন্ড ও এক রেঞ্জ অফিসারকে শোকজ করা হয়। চোরাশিকার চক্রের ৭ জন গ্রেফতার হয়। যদিও উধাও খড়গ দু’টির হদিশ এখনও করে উঠতে পারেনি বন দফতর। ঘটনায় আন্তর্জাতিক চক্রের প্রমাণ পাওয়ায় তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকেও।
এরই মধ্যে সম্প্রতি কোচবিহার-আলিপুরদুয়ার সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘটনা সম্পর্কে বিশদে খোঁজখবর নেন। বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণকে নির্দেশ দেন পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথভাবে কড়া নজরদারির। তার পরেই এই নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করে বন দফতর।
বন্যপ্রাণ বিভাগ (উত্তর মণ্ডল)-এর বনপাল সুমিতা ঘটক জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণ বাঁচাতে নিরাপত্তার কোনো খামতি রাখা হবে না। বুধবার থেকেই এই টহলদারির কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। শুধু গরুমারা নয়, উত্তরবঙ্গের সমস্ত জাতীয় উদ্যান এবং অভয়ারণ্যেই এই ত্রিমুখী নজরদারি চলবে।
উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত জানিয়েছেন,এই উদ্যোগে চোরশিকারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। তবে তাঁর দাবি, এই ব্যাবস্থা যেন সাময়িক না হয়। তাঁর বক্তব্য, লাগাতার এই নজরদারি বজায় রাখলেই বন্যপ্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
বনপাল সুমিতা ঘটকের দাবি, শুধু দিনে নয় রাতেও টহলদারি চালাবে যৌথ-বাহিনী।
কাজে লাগানো হয়েছে বন দফতরের ‘স্নিফার ডগ’ রানিকেও। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ৩১নং জাতীয় সড়কে গাড়ি থামিয়ে রানিকে নিয়ে চলছে তল্লাশি।
বন দফতরের এখন একটাই ‘মোটো’, জোড়া গন্ডার হত্যার পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া যাবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here