tmc cpim

কলকাতা: মহেশতলা বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে তৃণমূল ও সিপিএম। প্রচারও চলছে জোরকদমে। তবে রাজনৈতিক চৌহদ্দির গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রচারে উঠে এল দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যক্তিগত জীবন।

মহেশতলার সদ্য প্রয়াত বিধায়ক কস্তুরী দাসের মৃত্যুতে ওই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে তাঁর স্বামী দুলাল দাসকে। দুলালবাবুর আর এক উজ্জ্বল পরিচয় তিনি কলকাতার মহানাগরিক শোভন চ‌ট্টোপাধ্যায়ের শ্বশুর মহাশয়। এ ছাড়া তিনি এলাকার একজন বড়ো মাপের ব্যবসায়ী হিসাবেও পরিচিত। স্ত্রী ও নিজের নামে ডজনখানের গুদাম ঘর রয়েছে। প্রায় তিন দশকের অধিক সময় ধরে তিনি ওই ব্যবসায় নিযুক্ত রয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি যে বর্তমানে কয়েক কোটি টাকার মালিক, সে কথা নিজের মুখেই স্বীকার করেন।

অন্য দিকে এলাকার অতি সাধারণ যুবনেতা প্রভাত চৌধুরী হয়েছেন সিপিএমের প্রার্থী। তাঁর অতি সরলের জীবনযাপনই এখন দলীয় প্রচারের বড়ো হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক স্লোগানের থেকেও অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে প্রভাতবাবুর সাদামাটা জীবনযাপনের কাহিনি।

আরও পড়ুন: মহেশতলা উপ-নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে অন্তর্কলহ বাড়ছে রাজ্য বিজেপিতে

এই বৈপরীত্যই বারবার ঘুরেফিরে শোনা যাচ্ছে মহেশতলার আনাচেকানাচে। এক জন প্রার্থী অকপটে স্বীকার করছেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিলে বছরে আয়কর দেন ৩০ লক্ষ টাকা, তিনি বহুদিন থেকেই ব্যবসায় যুক্ত। তখন অন্য প্রার্থীকে লোকে প্রথম থেকেই দেখে আসছে আদ্যন্ত রাজনীতিক হিসাবেই। ছাত্রজীবন পার হয়েই সিপিএমের যুব সংগঠনে বেশ দক্ষতার সঙ্গেই কাজ করেছেন। তারপরেই শ্রমিক সংগঠন। বর্তমানে প্রভাতবাবু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের সদস্য।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মহেশতলা বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী কস্তুরী দাস পেয়েছিলেন ৪৮.৬০ শতাংশ এবং সিপিএম প্রার্থী শমীক লাহিড়ি পেয়েছিলেন ৪২.২০ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ, এ বার ভোটে ৬.২ শতাংশ ভো‌টের ব্যবধান যে খুব সহজে ডিঙোনো সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য। গত নির্বাচনেও কংগ্রেস সমর্থন করেছিল সিপিএমকে। এ বারও তার অন্যথা ঘটছে না। কিন্তু মহেশতলার ক্ষুদ্ৰশিল্পের সঙ্গে জড়িত একটি বৃহদাংশ ভোটারের কাছে পৌঁছতে প্রভাতবাবুর সেই ব্যক্তি পরিচিতিকেই হাতিয়ার করছে সিপিএম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here