শ্রীকান্ত মাহাত। প্রতীকী ছবি

কলকাতা: ঘরোয়া সভায় দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘লুটেপুটে’ খাওয়া নেতানেত্রীদের ‘সম্পদ’ বলে মনে করছে দল। এই মন্ত্রীসভায় কি থাকা উচিত? এহেন মন্তব্যের জেরে শো-কজের মুখে পড়ে ক্ষমা চাইলেন রাজ্যের ক্রেতাসুরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো।

শুক্রবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র শালবনিতে এক ঘরোয়া সভায় অংশ নেন মন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, শ্রীকান্ত বলছেন, “আমাদের কি বাঁচার অধিকার থাকবে না? আমাদের নাগরিকত্ব কি থাকবে না? এটা আমরা বলতে চাই। আজ থেকে পরিকল্পনা করে জয়যাত্রা শুরু করব। আমরা পুলিশ এবং বিডিওর কাছে স্মারকলিপি জমা দেব। আমাদের নাগরিকত্ব, অধিকার বন্ধ করার ব্যবস্থা যদি করে, তা হলে আমরা কী করব? কী করা উচিত? সে জন্য পশ্চিমাঞ্চল নাগরিক সমাজ, পশ্চিমাঞ্চল কৃষক সমাজ, পশ্চিমাঞ্চল বুদ্ধিজীবী সমাজ আমরা তৈরি করব। আমরা মমতা’দি পর্যন্ত যেতে চাই”।

এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ, সুব্রত বক্সীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তাঁরা বুঝতে চাননি। খারাপ লোককেই তাঁরা ভাল লোক বলছেন। তা হলে আমরা বাঁচব কী করে? খারাপ লোককে তো খারাপ লোক বলতে হবে। আর ভাল লোককে ভাল লোক বলতে হবে। ভাল লোকের কথা শুনতে হবে। কিন্তু খারাপ লোকের কথা শুনছে। এখানে যদি দেবাদিদেব মহাদেব, উমা সরেন, সন্ধ্যা রায়, মুনমুন সেন, জুন মালিয়া, সায়নী, সায়ন্তিকা, মিমি, নুসরত, নেপাল সিংহ, সন্দীপ সিংহ, উত্তরা সিংহ যারা লুটে পুটে খাচ্ছে তারা যদি সম্পদ হয়, তা হলে তো দল করা যাবে না। তারা যদি দলের সম্পদ হয়, তারা যদি টাকা ডাকাতি করে শালবনির টাকায়, টাঁকশালে টাকা ছাপায়, তা হলে মন্ত্রী জেলে গেলে ভালো আছে। না হলে লোকে দোষারোপ করে বলবে ওই মন্ত্রীরা সকলে চোর। বলছে তো”।

এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে ধন্ধ। মন্ত্রীর কথায়, “চোরেদের কথা শুনবে পার্টি, তাই না? আমরা এখানে বসে থাকব আর দিল্লি, বোম্বাই, চেন্নাই, কলকাতার লোক টাকা করবে। এরকম চললে তো পার্টি ছেড়ে দিতে হবে। নইলে সামাজিক আন্দোলন করতে হবে”।

দলকে অস্বস্তিতে ফেলে মন্ত্রীর এই বক্তব্যে বেজায় চটেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মিডিয়া রিপোর্টে তৃণমূল সূত্রে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শনিবার এই ভিডিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছয়। সঙ্গে সঙ্গে শ্রীকান্ত মাহাতোকে শোকজ করার নির্দেশ দেন তিনি। অভিষেকের নির্দেশে তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা কোঅর্ডিনেটর অজিত মাইতি শ্রীকান্ত মাহাতোকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। রবিবার সকালে অজিতবাবু জানান, শোকজ পেয়েই নিজের মন্তব্যের জন্য লিখিত ভাবে দলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন শ্রীকান্ত। তাঁর জবাব দলের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আবেগতাড়িত হয়েই এ কথা বলেছিলেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

আরও পড়তে পারেন: 

শ্রীলঙ্কার বন্দরে চিনা ‘গুপ্তচর জাহাজ’, দিল্লি-বেজিং বাক্‌যুদ্ধ

গুলাম নবি আজাদের প্রস্থানে বড়ো ধাক্কা, বৈঠক কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির

হুগলি নদীর উপর তৃতীয় সেতু নির্মাণের তোড়জোড়, বৈঠকে চূড়ান্ত নকশা

আইনি জটিলতা, ভারতে আটকে বাংলাদেশের ৮৯ জন মৎস্যজীবী

১৪ দিনের মধ্যে নিজের দল ঘোষণা করবেন গুলাম নবি আজাদ, কাশ্মীর থেকে যাত্রা শুরু

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন