Mukul Roy and Mamata Banerjee

ওয়েবডেস্ক: আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনে জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছে তৃণমূল। হাতে আর মাত্র কয়েক মাস। স্বভাবতই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চলছে উচ্চপর্যায়ে। সূত্রের খবর, এ বারের ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় আসতে চলেছে বড়োসড়ো পরিবর্তন। এমন বেশ কয়েকজন সাংসদকে পুনরায় টিকিট না দেওয়া হতে পারে, যাঁরা ২০১৪-য় মুকুল রায়ের সৌজন্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন।

সে সময় মুকুলবাবু ছিলেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ডম্যান’, কারও কারও কথায়-‘জেনারেল’। ফলে তাঁর সুপারিশ মতো নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সবুজ সংকেত দিতে সময় নেননি। কিন্তু মুকুলবাবু এখন বিজেপিতে। তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এক বছর আগেই। তবুও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে কসুর করছেন না বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ। যে কথা সাম্প্রতিক কালে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের দলবদলেই স্পষ্ট।

Mukul Roy, Partha Chatterjee and Manish Gupta
ফাইল ছবি

রাজনীতির কারবারিদের কথায়, সৌমিত্র খাঁ ২০১১-য় বাঁকুড়ার কোতুলপুরে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবেই বিধায়ক হয়েছিলেন। বছর তিনেক বাদে তাঁকে কংগ্রেস থেকে ভাঙিয়ে তৃণমূলে নিয়ে আসার কাজটি করেছিলেন মুকুলবাবুই। তাঁরই সুপারিশে সৌমিত্র লোকসভার টিকিটও পান, পাশও করেন। স্বাভাবিক ভাবেই মুকুলবাবু বিজেপির নৌকায় ওঠার বছর খানেক পরেই একই নৌকায় উঠলেন সৌমিত্র। শুধু তিনিই নন, গেরুয়াশিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য আরও ৬ জন সাংসদ প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন বলে দাবিও করা হয়েছে।

[ আরও পড়ুন: মমতার সভায় হাজির হচ্ছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীও ]

সব মিলিয়ে মেপে পা ফেলতে চায় তৃণমূলও। চলছে ব্যাপক ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ। বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরাকেও বহিষ্কার করেছে তৃণমূল, ফলে তাঁর জায়গাতেও নতুন প্রার্থী অবধারিত। তৃণমূল সূত্রে খবর, অন্য দিকে প্রার্থী বদল হতে পারে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে, সেখানে তাপস পালকে ফের প্রার্থী করা হবে কি না, রয়েছে প্রশ্ন। আবার একই রকম প্রশ্নচিহ্নের মুখে সন্ধ্যা রায়, মুনমুন সেন, অপরূপা পোদ্দার, দশরথ তিরকে-সহ প্রায় এক ডজন প্রার্থীকে বদল করার কথা ভেসে আসছে তৃণমূলের অন্দরমহল থেকে। যদিও পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে দলনেত্রীর উপর। প্রার্থী বাছাইয়ের ব্যাপারেই মমতাই শেষ কথা!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here