সিঙ্গুরে শিল্প চেয়ে জোর সওয়াল তৃণমূল বিধায়কের

0
tata nano project in Singur
পরিত্যক্ত টাটা ন্যানো প্রকল্প। ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: রাজ্যরাজনীতিতে গত কয়েক দিন ধরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে সিঙ্গুর প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলি গিয়ে লোকসভা ভোটে দলের ফলাফল পর্যালোচনা বৈঠকে সিঙ্গুরে তৃণমূলের হারের কারণ জানানোর পরই বিজেপি এবং সিপিএম ফের এই ইস্যুতে সরব হয়েছে।

একই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জানান, “বামফ্রন্ট জমানায় অধিগৃহীত সিঙ্গুরের জমি এখন কৃষকদের হাতে। কোনো জায়গায় বড়ো শিল্পস্থাপনের জন্য সরকারের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। সিঙ্গুরের ৭৫-৮০ ভাগ কৃষকেরা যদি জমি দিতে রাজি থাকেন, তা হলে ফের শিল্পস্থাপন করা সম্ভব। তবে পুরোটাই কৃষকের মত নিয়ে করতে হবে”। অর্থাৎ, এক সময়ে টাটা মোটর্সের ন্যানো প্রকল্পের বিরোধিতায় সামনের সারিতে থাকা রবীন্দ্রনাথবাবুও যে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পের পক্ষেই সওয়াল করছেন, সেটা তাঁর মন্তব্যেই স্পষ্ট।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু সিঙ্গুর নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও যেখানে জমি নিয়ে শিল্পস্থাপনে বাধার সৃষ্টি হয়েছে, সেখানেও একই রকমের পথ অবলম্বন করা যেতে পারে”।

মমতা বলেছিলেন, “নিজেদের কারণেই আমরা সিঙ্গুরে হেরেছি”। রবীন্দ্রনাথও কতকটা একই সুরে আত্মসমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে লোকসভা ভোটে। সঙ্গে রয়েছে দলের মধ্যে বেশ কয়েক জনের আর্থিক দুর্নীতিও। তা ছাড়া বিজেপি টাকা দিয়ে এই এলাকায় ভোট কিনেছে”।

যদিও বিজেপি নেতৃত্ব টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রসঙ্গত, হুগলিতে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ও বেচারাম মান্নাকে উদ্দেশ্যে করে মমতা বলেছিলেন, “আমরা নিজেদের দোষে সিঙ্গুরে পরাজয়ের মুখ দেখেছি। আপনারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করেছেন। সেই সুযোগে জমি দখল করেছে বিজেপি”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.