করিমপুর দখলে রাখতে তৃণমূলের নয়া কৌশল!

0

ওয়েব়েডেস্ক: দরজায়-দরজায় ঘুরে প্রচার রয়েছে, ছোটো ছোটো বুথসভা থেকে বড়োসড়ো মিছিল- নদিয়ার করিমপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রচারে রীতিমতো ঝড় তুলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। উদ্দেশ্য একটাই- উপনির্বাচন হতে যাওয়া তিনটি আসনের মধ্যে ২০১৬ সালে জেতা এই আসনটিকে নিজেদের দখলে রাখা। যে কারণে জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োগ করা হচ্ছে যাবতীয় কৌশল।

আগামী ২৫ নভেম্বর রাজ্যের তিনটি বিধানসভায় উপনির্বাচন। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ, পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদর এবং করিমপুর। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে কালিয়াগঞ্জ এবং খড়গপুর যায় যথাক্রমে কংগ্রেস এবং বিজেপির হাতে। করিমপুরের বিধায়ক হন মহুয়া মৈত্র। বর্তমানে তিনি কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।

করিমপুর কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন মহুয়াদেবী। তিনি সিপিএম প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষকে ১৫,৯৮৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগর থেকে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়ে সংসদে চলে যাওয়ায় বিধায়ক-শূন্য হয়ে পড়ে করিমপুর।

কিন্তু গত লোকসভা ভোটে বিধানসভা-ভিত্তিক ফলাফলে করিমপুরে বিজেপির উত্থান ঘটেছে চোখে পড়ার মতোই। সে বার ১৪,৩৪০ ভোটে অবশ্য এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। যদিও বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিতে চাইছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব। করিমপুর ধরে রাখার জন্য যাবতীয় কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে দলের তরফে। যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোটের মুখে দলবদল।

গত ৩ নভেম্বর বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রাজেশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে প্রায় তিনশো কর্মী স্থানীয় বিধায়ক কার্যালয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁদের হাতে দলের পতাকা তুলে দেন করিমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

রাজেশ জানান, বিজেপির অন্দরে একাধিক সমস্যা রয়েছে। তিনি ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন। তাঁকে গোষ্ঠীকোন্দলের সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত হতে না পেরেই তিনি বিজেপি ছেড়েছেন। তবে দলত্যাগ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা নিলয় সাহা দাবি করেছেন, এ দিনের এই দলবদল কোনো ভাবেই ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে না।

গত রবিবার করিমপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন বিজেপির যুব সংগঠনের ৫০ জন কর্মী। তৃণমূলে যোগ দিয়ে তাঁরাও বলেন, বিজেপিতে কোণঠাসা হয়ে তাঁরা দলবদল করেছেন।

পর দিন গত সোমবারেও ৫০ জন বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগদেন। করিমপুরে-২ ব্লকের মুরুতিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই বিজেপি কর্মীদের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়।

মঙ্গলবারেও করিমপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেস নেত্রী বকুল হালদারের নেতৃত্বে ১০৮ জন কংগ্রেস সমর্থক তৃণমূলে যোগ দেন বলে জানা গিয়েছে।

এখন দেখার, ২০১৬-র রেশ কতটা ধরে রাখতে পারে রাজ্যের শাসক দল!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.