suvendu adhikary

শুভদীপ চৌধুরী, পুরুলিয়া: জেলার শিমুলিয়া ময়দানে এসে এ বার বিজেপিকে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার ঠিক এই জায়গাতেই আয়োজিত হয়েছিল বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা অমিত শাহের প্রকাশ্য জনসভা। আর রবিবার ওই জায়গায় আয়োজিত হল তৃণমূলের পাল্টা জনসভা। এ দিন জনসভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ মন্ত্রী পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, শিশু ও নারীকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা ও অন্যান্য নেতা-নেত্রীরা।

এ দিন জনসভায় এসে নেতা ফিরহাদ বলেন, “সিপিএমের শাসনকাল থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য উদ্ভব হয়েছিল তৃণমূলের। গুজরাতে আন্দোলনের নামে বিজেপি নিরীহ মানুষদের প্রাণে মেরে ফেলেছে। তারা পুরুলিয়ায় এসে মানুষকে ভোলাতে চাইছে, কিন্তু মানুষ জানে সত্যি কী। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নায়ক শুভেন্দু ও দলনেত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে তাদের অধিকার পেতে সাহায্য করেছে”। তাঁর দাবি, “অমিত ক’টা আন্দোলন করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যে মানুষ তাঁকে ভরসা করবে । বাংলার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে গেলে পড়ে থাকতে হবে বাংলায়, দিল্লিতে থেকে বড়ো বড়ো কথা বললে চলবে না।গুজরাতের ‘এনকাউন্টারিস্ট’ পুরুলিয়ায় এসে বড়ো বড়ো কথা বলছেন”।

এ দিন নেতা সুকুমার হাঁসদা বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বাংলা পেয়েছে শান্তি ও উন্নয়ন। বিজেপি ও সিপিএম আদিবাসীদের ছিন্নভিন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মা মাটি মানুষের সরকার তা কখনোই হতে দেবে না”।

শশী পাঁজা বলেন, “বিধানচন্দ্র রায়ের পরে বাংলায় মুখ্যমন্ত্রীরপদে বসতে পারেন এমন নেত্রী হলেন মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি শুধুই কুৎসা ছড়ায়। যারা নিন্দা করতে পারে, কুৎসা করতে পারে, তারাই শুধু বিজেপিতে যোগদান করে। হিন্দু-মুসলমান সকলেই ভাই ভাই। তাই মমতা সরকার ধর্মের উর্ধ্বে উঠে কাজ করেন”।

অবশেষে বক্তব্য রাখতে এসে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই গত শনিবারের হুল দিবস ও আগাম রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন।

এ দিন শুভেন্দু বিজেপি নেতৃত্বকে “ভারতীয় জনতা গুন্ডা বাহিনী” বলে তোপ দাগেন। বলেন, “বিজেপির নেতারা আষাঢ়ের গল্প দেন। মমতা সরকার আসার পরে মানুষের সুবিধা বেড়েছে প্রচুর, চালু হয়েছে ২ টাকা কেজি চাল, শুরু হয়েছে কন্যাশ্রী, সবুজসাথী প্রকল্প। এছাড়াও অলচিকি লিপিতে প্রাথমিক থেকে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে তৃণমূল সরকার । কিন্তু অন্যদিকে বিজেপির কালো টাকা সাদা হয়ে আর ফেরত আসেনি। বরং মানুষের টাকা নিয়ে পালিয়েছে নীরব ও ললিত মোদী”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here