Mamata Banerjee
ফাইল ছবি

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: ফের জঙ্গল মহল সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আগামী ২৬ নভেম্বর ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনিতে সভা সেরে, তিনি যোগ দেবেন পুরুলিয়ার সভায়। এমনটাই জানা গিয়েছে দলীয় ও প্রশাসন সুত্রে।

ঝাড়গ্রাম জেলার ক্ষেত্রে দলীয় কোন্দল যে অব্যাহত তা দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় গত ১৮ নভেম্বর ঝাড়গ্রামের দলের বিজয়া সম্মেলনীতে এসে প্রকাশ্য মঞ্চেই প্রত্যক্ষ করেন। বিষয়টি ভালভাবে নেননি তিনি। এর আগে ঝাড়গ্রাম এসে মুখ্যমন্ত্রী বিধায়ক চূড়ামণি মাহাতোকে অপসারণ, ব্লক-জেলা স্তরে নেতৃত্বের রদ বদল, সবই করেছেন। দলীয় নেতৃত্বের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যাঁরা ভুল বুঝে দূরে সরে আছেন, তাঁদের ডেকে আনুন। যাঁরা তৃণমূলের দুর্দিনে পাশে ছিলেন, কিন্তু অসম্মানের সঙ্গে বাইরে পড়ে আছেন, তাঁদের ডেকে আনুন। আপনারা না পারলে আমি ডেকে নিয়ে আসব। তাঁরা আমাকে একটা করে চিঠি দিন। আমি নিজে গিয়ে দেখে নেব, কোন নেতার কত বড় কারসাজি”। ঝাড়গ্রামের ক্ষেত্রে যা বিন্দু মাত্র কাজে আসেনি বলেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা।।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে লোকসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই দলের গোষ্ঠী কোন্দল বিরোধী শিবিরের অক্সিজেন জোগাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি সম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া লালগড়ের লোধা – শবরদের মৃত্যু নিয়ে ময়দানে নামতে চেয়ে ছিল সব দলই, যদিও তা বিশেষ রেখাপাত করতে পারেনি।

আরও পড়ুন: পঞ্চায়েত ভোটের পর এই প্রথম দু’দিনের সফরে পুরুলিয়ায় মমতা

এক তৃণমূল নেতার কথায়, জঙ্গল মহলে আভ্যন্তরীণ সমস্যা অনেক। সেগুলি ঠিকমতো মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায় না। বেকারত্ব, সামাজিক ইস্যুগুলিকে গুরুত্ব দেন না জনপ্রতিনিধিরা, উল্টে যে যাঁর আখের গোছাতে ব্যস্ত। নীচুতলার অভাব-অভিযোগগুলি নিয়ে সমীক্ষা চালায়নি দল। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবারই এসে অনেক বার্তা দিয়ে যান, সেগুলির মূল্যায়নও ঠিক মতো হয় না। সাধারণ মানুষের  আবেগকে কাজে লাগিয়ে চিরকাল ভোগ বিলাস করছে আর একটা শ্রেণি!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here