Khulkha Sangha: The tradition of fighting Jharkram's longest cocktail in the state is still uneven
Samir mahat
সমীর মাহাত

লালগড়ের কুসুমডাঙার লড়াই দিয়ে শেষ হতে চলেছে রাজ্যের দীর্ঘতম মোরগ লড়াই। ঝাড়গ্রামের ঐতিহ্যবাহী আদি জনজাতি গোষ্ঠী সাঁওতাল, কুরমি, মুন্ডা, ভূমিজ সহ সহযোগী জাতিসত্তা এই সংস্কৃতির মূল ধারক-বাহক হলেও সম্প্রতি জঙ্গলমহলের আধুনিক সংস্কৃতির অনেকেই এর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই মোরগ (সাঁঢ়হা) লড়াই প্রতি বছর শুরু হয় পয়লা মাঘ থেকে। অবশ্য ‘ছোটো মকর’ উৎসবকে কেন্দ্র করে তার আগেই কোনো কোনো অঞ্চলে এই মোরগ লড়াই শুরু হয়ে যায়। পয়লা মাঘ আবার কুরমি জনজাতির কাছে শুভ নববর্ষ বা বছরের প্রথম দিন।

Khulkha Sangha: The tradition of fighting Jharkram's longest cocktail in the state is still uneven2

গরাম বা গ্রাম্য পুজো উপলক্ষে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহারও এ রাজ্যের আদি সংস্কৃতি অধ্যুষিত অঞ্চলে এই মোরগ লড়াই গোটা মাঘ মাস ধরে উৎসব আকারে পালিত হয়। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় ঝাড়গ্রামের টিয়াকাটি ও লালগড়ের কুসুমডাঙার মোরগ লড়াইয়ে। টিয়াকাটির উৎসব শুরু হয়, প্রতি বছর ২৬ ডিসেম্বর। কুসুমডাঙার উৎসব শুরু হয় প্রতি বছর মাঘ মাসের সংক্রান্তিতে। ১৫ ফেব্রুয়ারি তার শেষ দিন। এই দু’টি মোরগ লড়াই প্রাচীন। এ বার শিবরাত্রি ও ভ্যালেন্টাইন উৎসব একই সময়ে হলেও মোরগ লড়াইয়ে তার কোনো প্রভাব পড়েনি, আগের মতোই ঐতিহ্য বজায় থাকতে দেখা গিয়েছে।

সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞদের মতে, মোরগ লড়াই আদি জনজাতির প্রাচীন সংস্কৃতি। কোনো একটি যুদ্ধজয়ের ‘প্রতীক’ হিসাবে তা লোকসংস্কৃতির অধ্যায়কে সমৃদ্ধ করেছে। আদি জনজাতি সমাজে প্রাচীনকালে শিকার উৎসব বহুল প্রচলিত ছিল, এই উৎসব তার অঙ্গ হতে পারে, তবে আদিকালে এই মোরগ লড়াইয়ে ‘কাৎ’ (মোরগের পায়ে ধারালো ছোট অস্ত্র) ব্যবহার হত না।

Khulkha Sangha: The tradition of fighting Jharkram's longest cocktail in the state is still uneven3

স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাতা কনাদকুমার ঘোষাল তাঁর ‘টুসু একটি বাংলার লোক উৎসব’ তথ্যচিত্রে জঙ্গলমহলের মোরগ লড়াইয়ের তথ্য তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে লোক ভাষা-সংস্কৃতি গবেষক পুরুলিয়ার কিরীটী মাহাত জানান, “এই মোরগ লড়াই ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীন সংস্কৃতি। হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতায় যে পশু লড়াইয়ের চিত্র আবিষ্কৃত, সেখান থেকেই মোরগ লড়াইয়ের সৃষ্টি। আশ্চর্য এটাই যে,আমাদের বৃহত্তর অঞ্চলের আদি জনজাতি তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। কয়েক জন গবেষক একে সংস্কৃতি চর্চায় ‘কুকুটাড়ম্ব’ বলে বর্ননা দিয়েছেন। অবশ্য কুড়মি জনজাতি সহ সহযোগী ভাষায় উৎসবটি ‘খুখঢ়া লড়াই’ নামে পরিচিত।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন