babur bagan1
Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘বাবুর ফলের বাগান’ সংরক্ষণের অভাবে ধংসের মুখে। প্রায় একশো বছরেরও আগে কলকাতার অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী “মিত্র বাবু” জঙ্গলের মাঝে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে ৩৭ একর জায়গা জুড়ে বানিয়ে ছিলেন ফলের বাগান। আম, সবেদা, কাজু, বৌঢাল, ফরসা কুল, আনারস, জলপাই সবই ছিল বাগানে।

রাজ্য ভূমি সংরক্ষণ আইনের পরে ১২ একর বাদে বাকি সবটুকুই উদ্বাস্তু হয়ে যায়। বাগান দখলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এলাকায় সন্ত্রাস। প্রথমে এই বাগান দখল নেই বামেরা। বামেদের হটিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক তা দখল করে। ১৯৯২ সালে ফের সিপিএম ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চ জোটবদ্ধ হয়ে বাগান দখল নিতে গেলে এলাকায় চরম সন্ত্রাস তৈরি হয়। সে সময় ঘরে আগুন, গুলি, বোমা সবই চলেছে বলে জানা যায়। অবশেষে বিভিন্ন গ্রামের কয়েকজন মিলে গঠিত হয় বাগান রক্ষা কমিটি। অর্থাৎ ‘রাজার আখবাড়ি, শেয়ালে শেয়ালে ঝগড়া’।

মিত্রবাবুর আমলে উন্নত মানের, গোলাপখাস, ল্যংড়া, কৃষাণভোগ, হিমসাগর, বোম্বাই, সিঁদ্রি-সহ ৬০ রকম প্রজাতির আম পাওয়া যেত। সম্প্রতিকালে তা ঠেকেছে ১০ রকমের। এত বছর বাদেও এই বাগান সংরক্ষণে কোনও সরকারি বা প্রশাসনিক উদ্যোগ এলাকা বাসীর চোখে পড়েনি।

babur bagan 2

বাগানটি মানিকপাড়া অঞ্চলের পূর্বশোলও গোদারাস্তা মৌজায় গোবিন্দপুর জঙ্গল সংলগ্ন জায়গায় অবস্থিত। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে যার দূরত্ব ১২ কিমি মাত্র। বাগানে গিয়ে দেখা গেল, মিত্রবাবুর থাকার ঘর, ভগ্নাবশেষ ভুতুড়ে বাড়ি, প্রায় পরিত্যক্ত কুয়ো। সবেদা গাছের ডালগুলি ছাগলের খাবারের জন্য কেটে ন্যাড়া করে নষ্ট করা হয়েছে। একটি মাত্র জলপাই গাছ আছে, সেটিরও অবস্থা সবেদা গাছের মতো।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, এ বছর আমের ফলন তুলনা মূলক কম। এক বাসিন্দার কথায়, এই বাগান ওই গন্ডগোলের পর থেকে অভিশপ্ত প্রায়, প্রশাসনিক ভাবে সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা হলে, বাগানটি রক্ষা পেত। তা ছাড়া প্রতিবছর হাতির উপদ্রব তো আছেই, অনেক আম গাছ হাতি নষ্ট করে দিয়েছে।

এ ব্যপারে ঝাড়গ্রাম মহকুমা শাসক নকুল চন্দ্র মাহাত বলেন, “এখনো পর্যন্ত বাগান সংরক্ষণের বিষয়ে কোনো ভাবে, কোনও দিক থেকে প্রস্তাব আসেনি, এলে নিশ্চয় প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হবে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here