কলকাতা: গত কয়েক বছর ধরে টোটো ও অটোর ঝামেলা নিয়ে মাঝেমধ্যেই রাজ্য সরকারকে অস্বস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই ঝামেলা বন্ধ করার জন্য উদ্যোগ নিল রাজ্য পরিবহণ দফতর। টোটো এবং অটোর সাম্রাজ্য ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুর থেকে হুগলির ব্যান্ডেল সর্বত্রই অটো আর টোটোর বিবাদে জেরবার প্রশাসন। কয়েক মাস আগে ব্যারাকপুরের শ্যামনগরেও এ রকম ঝামেলা লেগেছিল। সব জায়গাতেই অটো এবং টোটোর ইউনিয়ন তৃণমূলের দখলে। কিন্তু তাতেও দ্বন্দ্ব ঠেকানো যাচ্ছে না। অটো আর টোটোর বিবাদের জেরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।

পরপর এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহণ সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে পরিবহণকর্তাদের। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অটো ও টোটো নিয়ে নির্দিষ্ট নতুন নির্দেশিকা তৈরি করা হবে। এই রাজ্যের প্রত্যেকটি আঞ্চলিক পরিবহণ অফিসকে জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে নতুন করে অটো রুটের বিন্যাস করা হয়। সে ক্ষেত্রে এলাকার বিন্যাস করে দেওয়া হবে টোটোর রুটেও। প্রয়োজনে অটোর রুটে কাটছাঁট করা যায় কি না সে ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আরটিওগুলিকে। গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় যাতে টোটো পরিবহণের ওপর জোর দেওয়া হয় সে ব্যাপারে আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যদিও সেই বৈঠকেই প্রশ্ন উঠেছে, প্রত্যন্ত এলাকায় টোটো চললে ফের টোটোর দ্বন্দ্ব শুরু হবে রিকশা এবং ভ্যানোর সঙ্গে। বৈঠকে একটা মত উঠে আসে যে ভ্যানো যে হেতু বেআইনি তাই ভ্যানোচালকদের টোটো চালাতে উৎসাহ দেওয়া হবে। তবে রিকশাকে বাঁচিয়ে কী করে টোটোর রুট ঠিক করা যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে পরিবহণ দফতরের আধিকারিকরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here