কলকাতা: যথার্থ পরিকাঠামোর অভাবে কয়েক কোটি টাকা খরচ করেও আরজি কর হাসপাতালে ট্রমা কেয়ায়ের সমস্ত বিভাগ চালু করতে পারল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২ বছরে মাত্র ২ টি বিভাগ চালু হয়েছে। নিউরো সার্জারি ও নিউরো মেডিসিন ছাড়া আর কোনো বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়নি এখনও। স্বাভাবিক ভাবেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই বিপুল অর্থ ব্যয় করে ট্রমা সেন্টার করে আদৌ কোনো লাভ হল কি? সরকারি হাসপাতালে যেখানে বেডের অভাবে রোগী ভর্তি হতে পারছে না,  সেখানে এত বড়ো বিল্ডিং থাকা সত্ত্বেও কেন ট্রমা কেয়ারের সমস্ত বিভাগ চালু হল না তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না সাধারণ মানুষের।

গুরুতর আহত রোগীদের ক্ষেত্রে এক ছাতার তলায় সবরকম চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যেই শুরু হয়েছিল ট্রমা সেন্টার তৈরির কাজ। দূর্ঘটনাপ্রবণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে দ্রুত রোগীদের এই ট্রমা কেয়ারে এনে চিকিৎসা শুরু করার কথাও মাথায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এ সবের কিছুই হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মেডিসিন, সার্জারি, প্লাস্টিক সার্জারি, অর্থোপেডিক সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে ১ জন করে প্রতিনিধি নিয়ে মোট ১১ জনের একটি প্রতিনিধি দলও তৈরি করা হয়। ব্যাস, ওইটুকুই। খাতায় কলমে প্রতিনিধি দল তৈরি হলেও ট্রমা কেয়ার নিয়ে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি কাউকেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ঠিক মতো ট্রমা কেয়ার পুরো সমস্ত বিভাগ চালু করতে ৫৯ জন নার্স,  ২০ জন অ্যানাস্থেশিস্ট এবং কম করে ৪০ জন  নিরাপত্তা রক্ষীর প্রয়োজন। এছাড়া মেডিক্যাল অফিসার, ওটি টেকনিশিয়ান, সিটিভিএস ব্যবস্থা,  এমটি এক্স রে, এমটি ল্যাব এ সবের কোনো পরিকাঠা হাসপাতালে মজুত নেই।

আরজি কর হাসপাতালের প্রিন্সিপাল শুদ্ধধন বটব্যালকে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন,  “এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। যা বলার স্বাস্থ্য ভবন বলবে ”। রাজ্যের স্বাস্থ্য- শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিষ ভট্টাচার্য যদিও বললেন, পরিকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে খুব শিগগির চালু হবে ট্রমা সেন্টার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here