পুরুলিয়া: ‘আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান’ ও ‘ঝাড়খণ্ড দিশোম পার্টি’র ১২ ঘণ্টার ভারত বন্ধে বেশ সমস্যায় পড়ল পুরুলিয়া জেলার রেলযাত্রীরা। এদিন একাধিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নামে আদিবাসীরা, রেল অবরোধও করে।

রেলসূত্রে খবর, আদ্রা দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের কাঁটাডি, ইন্দ্রবিল, মধুকুন্ডা ও কোটশিলা সহ বেশ কয়েকটি স্টেশনে সকাল ৬টা থেকেই আদিবাসীরা তাদের একাধিক দাবিতে রেল লাইন অবরোধ করে দেওয়ায় বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে যায় একাধিক ট্রেন।মূলত আদিবাসীদের ‘সারনা’ ধর্মের স্বীকৃতির দাবি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিদ্যালয়ে অলচিকি ভাষাতে শিক্ষা প্রদান করতে হবে, এসব দাবি নিয়েই মূলত এই ‘ভারত বনধ’ বলে জানা যায়। যা চলবে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত।

কিন্তু খবরের আড়ালে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে রয়েছে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের গন্ধ। এর আগে দেশ জুড়ে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ দেখিয়েছে দলিত সংগঠনগুলি। ভারত বন্‌ধও করেছে। সেই আন্দোলনের মূল সুরটি ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। বিজেপি একটি ব্রাহ্মণ্যবাদী দল, দলিতদের সমস্যার প্রতি তাঁরা সহমর্মী নয়, এই অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে সেই আন্দোলনে। এবার আদিবাসীদের আলাদা ধর্মের দাবিতেও কিন্তু সেই ছায়াই দেখছেন অভিজ্ঞ মহল। ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্ত এলাকায় বিজেপি-জেএমএম ও তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে শ্লোগান লেখা হলেও সেটা নেহাতই কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে দেশজুড়ে আদিবাসীদের বিজেপি-বিরোধী লড়াই-এর অংশ করে তোলার লক্ষ্যে কংগ্রেস আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

তবে শুধু বিজেপি বিরোধিতা নয়, আদিবাসীদের মধ্য থেকে মাওবাদীদের প্রভাব কমানোর চেষ্টাও রয়েছে এই উদ্যোগে।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here