indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: শীতকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বছরের শেষ-শুরুর আনন্দ চেটেপুটে উপভোগ করতে বাঁকুড়ার পিকনিক স্পটগুলিতে কার্যত জনজোয়ার। জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে আশেপাশের জেলা-সহ অনান্য রাজ্যের ভ্রমণপিপাসু বাঙালির এখন অন্যতম ডেস্টিনেশন বাঁকুড়া। আট থেকে আশি, পিকনিকের মুডে এখন সবাই। নতুন বছরের প্রথম দিনের ভিড় এড়াতে আজই অনেকেই পৌঁছে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে। কিন্তু তার মধ্যেও যেন -ঠাঁই নাই, ঠাই নাই।

সকাল থেকেই ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করেই জেলার বিষ্ণুপুর, মুকুটমনিপুর, শুশুনিয়া, গাঙদুয়া, বড়দি পাহাড় সর্বত্রই আনন্দের উচ্ছ্বাস । বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পর্যটকদের সংখ্যাও একলাফে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে বর্ষবিদায় আর বর্ষবরণে মেতে উঠেছে জেলাবাসী।

পর্যটন শিল্পের প্রসারে যখন রাজ্য সরকার একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন তখন জেলার এই পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে মানুষের ঢল ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই উৎসাহিত। বাইরে থেকে আসা একটা বড়ো অংশের মানুষের উপস্থিতিতে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। পর্যটনের এই মরশুমকে সঙ্গী করে মুকুটমনিপুরে শুরু হয়েছে আদিবাসীদের নিজস্ব ঘরাণার খাদ্য উৎসব। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলাদের হাতে তৈরী জিল পিঠে, লেটো, পোড়া পিঠে, ব্যাম্বু চিকেন-সহ আদিবাসীদের নাম না জানা অসংখ্য ধরনের লোভনীয় খাবারের পসরা সাজিয়ে তৈরি হচ্ছে মুকুটমনিপুর। আর সেই স্বাদ চেখে দেখার লম্বা লাইন চোখে পড়েছে বাইরে থেকে আসা পর্যটক থেকে স্থানীয় মানুষের। সব মিলিয়ে জমজমাট আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল। আর সাধারণ আদিবাসী মহিলার সাথে পিঠে তৈরিতে হাত লাগিয়েছেন বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডিও। যা এই উৎসবের অন্যতম বড়ো পাওনা বলে অনেকে মনে করছেন।

মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটি সূত্রে খবর, এ বার এখানে ১৩টি খাবারের স্টল রয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঘরাণার খাবার চেখে দেখার পাশাপাশি আদিবাসী লোকসংস্কৃতি উপভোগের ঢালাও আয়োজন রয়েছে। ধামসা মাদলের বোল, আদিবাসী নাচ আর গানে এই মুহূর্তে জমজমাট মুকুটমনিপুর।

প্রথম বছরের আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল এ হরেক রকম খাবার পেয়ে বেজায় খুশি পর্যটকরাও। পাশের
জেলা পুরুলিয়া থেকে আসা রাজেশ সিং, দীপা সিংরা বলেন, আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল শুরু হচ্ছে শুনেই এখানে চলে এসেছি। শনি- রবি দুটো দিন ছুটি। আর সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে জীবনে প্রথম বার আদিবাসী খাবারের স্বাদ গ্রহণের সুযোগটা হাত ছাড়া করতে চাইনি। একই সঙ্গে নতুন রূপে পর্যটন কেন্দ্রগুলি পেয়ে খুশি পর্যটকরাও। জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যটন কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শেষ থেকে শুরু-একই ছবি ধরা পড়ছে জয়চণ্ডী পাহাড়ে

রানিবাঁধের বিধায়ক তথা মুকুটমনিপুর ডেভলপমেন্ট অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না মাণ্ডি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গল মহল ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের মানোন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছেন। চলতি পর্যটন মরশুমে তাঁরই অনুপ্রেরণায় মুকুটমনিপুরে এই আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন আদিবাসী সমাজের মা-বোনেরা খাবার বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন, অন্যদিকে পর্যটকরা একেবারে অন্যধরণের খাবারের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাবেন”।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here