প্রাণ বাঁচাতে তিন ঘুষি যুবকের, পালিয়ে বাঁচল চিতা

0

নিজস্ব প্রতিনিধি,জলপাইগুড়ি: সাক্ষাৎ যমদূতের মুখে পড়ে শেষ মুহূর্তে যেন দৈবশক্তি ভর করেছিল সদ্যযুবা অবিনাশের ওপর। পরপর তিনটে ঘুষি, তাতেই বাঁচল প্রাণ, পালিয়ে গেল বুনো চিতা-বাঘ। ডূয়ার্সের মেটেলি ব্লকের কিলকট চা বাগানের ঘটনা। বুধবার সকালে বাগানের ২২নং সেকশনে গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটতে যান ওই বাগানের বাসিন্দা অবিনাশ মাহালি।বছর আঠারোর যুবক যখন ঘাস কাটছিলেন, তখনই চা বাগানের আড়াল থেকে বেরিয়ে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে চিতাটি। থাবা বসায় অবিনাশের ডান কাঁধে আর বাঁ হাতে।তার হাত থেকে ছিটকে পড়ে ঘাস কাটার কাটারি। পড়ে যেতে যেতে প্রাণরক্ষার তাগিদে চিতার চোয়াল লক্ষ্য করে পরপর তিনটে ঘুষি চালায় সে।অতর্কিত পালটা আক্রমণে চিতাটি ভড়কে যায়।তিন লাফে সে পগারপার।এরপর যুবকের চিৎকারে ছুটে আসে স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা তাকে জখম অবস্থায় প্রথমে বাগানের হাসপাতালে নিয়ে যায়।পরে তাঁকে চালসার মঙ্গলবাড়ি গ্রামীন হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।

হাসপাতালে বসে অবিনাশ নিজের মুখেই ঘটনার বিবরণ দিচ্ছিল। ঘটনায় ভয় পেলেও তাকে জয় করতে পারার আত্মবিশ্বাস ছিল অবিনাশের গলায়। বাগানের এক বাসিন্দা যোগেন মুর্মু জানিয়েছে,তাদের বাগানে চিতার উৎপাত নতুন নয়। এর আগেও অনেকে জখম হয়েছেন। কিন্তু যে ভাবে অবিনাশ সাহসের পরিচয় দিয়েছে তা অভাবনীয়।

খবর পেয়ে গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের খুনিয়া রেঞ্জের বনকর্মীরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যায়।গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের বিভাগীয় আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, জখম যুবকের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করা হবে।তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় কি না তাও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন