subhendu adhikari

ওয়েবডেস্ক: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই বাঁকুড়া এবং বীরভূম জেলা পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার পর মুর্শিদাবাদেও জয় ছিনিয়ে নিল শাসক দল। ৭০ আসনের জেলা পরিষদে বিরোধীরা মনোনয়ন জমা করতে পারেনি ৩৭টি আসনে। স্বাভাবিক ভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পরেও এই সংখ্যার অবনমন হবে না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

২০১৩-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিপত্য কায়েম হলেও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর তথাকথিত ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলায় সে ভাবে সাফল্য লাভ করতে পারেনি শাসক দল। সে বার বামফ্রন্ট পেয়েছিল ২৭টি আসন। কংগ্রেস পরিচালিত পরিষদে সভাধিপতি নির্বাচিত হন কংগ্রেসের শিলাদিত্য হালদার। কিন্তু তার পরই রাজনৈতিক পটের পরিবর্তন ঘটে যায় দ্রুত। মাত্র তিন বছরের মধ্যে কংগ্রেস থেকে ২৮ জন এবং বামফ্রন্ট থেকে ১৪ জন সদস্য যোগ দেন তৃণমূলে। নির্বাচনে মাত্র একটি আসনে জয়ী তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩-এ।

নির্বাচন কমিশনের হিসাবে এখন পর্যন্ত কংগ্রেস, সিপিএম এবং বিজেপির তরফে জেলা পরিষদ আসনে মনোনয়ন জমা পড়েছে ৩০, ২০ এবং ১৬টি। অন্য দিকে তৃণমূলের মনোনয়ন জমা পড়েছে প্রত্যেকটি আসনেই। স্বাভাবিক ভাবেই বিরোধীহীন ৩৭টি আসনে তৃণমূলের জয় সুনিশ্চিত হয়ে গেল ভোটগ্রহণের আগেই।

তৃণমূলের যুবনেতা তথা পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দলের তরফে মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই অধীরবাবুর কর্তৃত্ব ক্রমশ হ্রাস পেতে শুরু করে। শুভেন্দুবাবুর হাত ধরে জেলার একাধিক কংগ্রেস বিধায়ক ইতিমধ্যেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শুভেন্দুবাবুর একাধিক বার সফরে কার্যত জাতীয় কংগ্রেস শিবির উজাড় করে তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। উল্লেখ্য, শুভেন্দুর আগে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে। কিন্তু গোষ্ঠী কোন্দল চরম আকার নিলে দলীয় ভাবে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় শুভেন্দুবাবুর হাতেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here