TMC And BJP

ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল নেতৃত্ব মুখে যাই বলুন, এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে বিজেপি তাঁদের বাড়তি চাপে ফেলে দিয়েছে, তা নিয়ে বিশদ কাটাছেঁড়া চলছে অন্দরে। তৃণমূল সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের তিনটি এবং দক্ষিণের একটি জেলায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে জয় মোটেই মসৃণ হচ্ছে না।

বিশেষত বিজেপির আশ্চর্যজনক উত্থানের বড়োসড়ো প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং দক্ষিণের পশ্চিম বর্ধমানে। তৃণমূল সূত্রে খবর, এই তিন-চারটি জেলায় জেলা পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা জয় করতে পারলেও সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বড়োসড়ো ধাক্কা দিতে পারে বিজেপি।

এ বিষয়ে তৃণমূলের একটি অংশ দায়ী করছেন দলের উচ্চ নেতৃত্বের দূরদৃষ্টির অভাবকেই। রাজ্যের অন্যান্য জেলায় যখন বিরোধীরা প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না, তখন এই জেলাগুলিতে বিরোধী দলগুলি নির্দ্বিধায় মনোনয়ন জমা করেছে। বিশেষ করে জেলা পরিষদ আসনে উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলায় বিজেপি মনোনয়নে জমায় দৃষ্টান্ত গড়ে ফেলেছে। উল্লেখ যোগ্য ভাবে দিনহাটা-২ এবং পাণ্ডবেশ্বর বাদে এই জেলাগুলির প্রত্যেকটি আসনেই ভোট হচ্ছে আগামী ১৪ মে। এতেই প্রমাণিত এই জেলাগুলিতে বিরোধীরা প্রায় সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। কিন্তু বিশেষ করে বিজেপিকে নিয়ে কেন চিন্তিত তৃণমূল?

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্ট বুথে না থাকলে কমিশনের বাড়তি উদ্যোগ

উত্তরের আলিপুরদুয়ার সেই জেলা, যেখানে ১৮টি জেলা পরিষদ আসনেই প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি। কোচবিহারের দিনহাটা-২ বাদে ৩৩টি আসনের ৩২টি জেলা পরিষদেই প্রার্থী রয়েছেন গেরুয়া শিবিরের। আবার দক্ষিণ দিনাজপুরের এক মাত্র কুশমণ্ডি ছাড়া বাকি ১৭টি আসনেই লড়ছেন বিজেপি প্রার্থীরা। তুলনামূলক ভাবে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর, অন্ডাল, জামুরিয়া, সালানপুর এবং বারাবনি বাদে বাকি ১৩টি আসনে বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই জেলা পরিষদ আসনের নিরিখে সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত আসনেও প্রার্থী মনোনয়নে যথেষ্ট সাফল্য পেয়েছে বিজেপি।

এই বিষয়টিই সব থেকে বেশি চিন্তায় ফেলেছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। নিশ্চিত জেলা পরিষদ হাতছাড়া না হলেও বাকি দু’টি স্তরে যে শাসক দলকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে, তা ভোটের আগেই টের পাচ্ছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here