sit in demonstration of trinamul congress
তৃণমূল কংগ্রেসের ধর্না। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের অস্থায়ী পরিকাঠামোর সামনে বৃহস্পতিবার থেকে ধর্নায় বসল তৃণমূল কংগ্রেস। জলপাইগুড়ি জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেস এবং আইনজীবী সেল এ দিন থেকে লাগাতার ধর্নার ডাক দেয়। তবে এ দিনের কর্মসূচিতে পূর্ণাঙ্গ ভাবে যোগ দেয় জেলা তৃণমূল কংগ্রেসও। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি তথা সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মন প্রমুখ।

তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের পরিকাঠামো রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনে বিলম্ব করা হচ্ছে। এর জন্য দায়ী কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বাম আমলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে স্থাপন করা হবে। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তামিলনাড়ুর মাদুরাই এবং পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাদুরাইতে দ্রুত চেন্নাই হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ চালু হয়ে যায়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে জলপাইগুড়িতে চালু হয়নি।

আরও পড়ুন পর্যটক টানতে পথচিত্রে সেজে উঠছে বাঁকুড়ার রানি

কেন্দ্র এবং রাজ্যে সরকার পালটেছে। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের পরিকাঠামো স্থাপনের দিকে নজর দেয়। ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়ে বেশ কয়েকটি মামলা রুজু হয়। দু’ মাস আগে জলপাইগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিনিধিদল দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জলপাইগুড়িতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ দাবি করেন। রাষ্টপতির হস্তক্ষেপের বিষয়ে এখনও কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চুপ। যদিও বিজেপির জলপাইগুড়ির জেলা সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী দাবি করেন, যথা সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব কিছু জানানো হবে। এ মাসের ১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিলিগুড়িতে সভা করার কথা আছে। বিজেপির পক্ষ থেকে কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং মুকুল রায় মঙ্গলবার বলেছিলেন, এ মাসের ৭ তারিখ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে একটা ভালো খবর পাওয়া যেতে পারে।

বিজেপি নেতারা যা-ই দাবি করুন না কেন রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ এখনও জারি হয়নি। এই টালবাহনার জন্যই তৃণমূল কংগ্রেস আবার ধর্নায় ফিরে এল। এর আগেও সার্কিট বেঞ্চের দাবিতে জলপাইগুড়ির বাসিন্দারা, আইনজীবীরা বহু বার ধর্নায় বসেছিলেন। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও জলপাইগুড়ির জেলা আদালতের গেটের বাইরে ধর্নায় বসা হয়েছিল। এক সময়ে আদালতের সামনে ধর্নামঞ্চ বাঁধার জন্য আদালত আবমাননার অভিযোগে পুলিশের ডিজি থেকে শুরু করে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে কারাদণ্ডের নির্দেশও শুনিয়েছিল হাইকোর্ট। তার পর আবার এ দিন সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনে কেন্দ্রের টালবাহনার প্রতিবাদে ধর্নায় বসল তৃণমূল কংগ্রেস।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here