trinamul wins unopposed in bishnupur

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শিবরাত্রির সলতের মতো টিমটিম করে জ্বলছিলেন দুই বিরোধী প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত তাঁরাও আর থাকলেন না। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীশুন্য হল বাঁকুড়ার জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমা। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে কোনো বিরোধী  প্রার্থী না থাকায় সব ক’টি আসনেই কার্যত জয়ী শাসক তৃণমূল।

শুধুমাত্র জেলা পরিষদের দু’টি আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার তাঁরা মনোনয়ন প্রত্যাহার নেওয়ায় বিষ্ণুপুর মহকুমায় পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরেই কোনো বিরোধী প্রার্থী থাকল না। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, শাসকদলের সন্ত্রাসের জন্যই তারা বেশির ভাগ আসনে প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেনি। আর যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদেরও ভয় দেখিয়ে বা লোভ দেখিয়ে তাঁদের প্রার্থীপদ তুলে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ যথারীতি অস্বীকার করেছে।

সূত্রের খবর, কংগ্রেস ইন্দাসের ৪১ নং ও বিষ্ণুপুরের ৩৪ নং আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু দলের দুই প্রার্থীই এ দিন মনোনয়ন তুলে নিলেন। উল্লেখ্য, এর মধ্যে ইন্দাসের ৪১ নং আসনে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জনা দেন জেলা সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন বাসুদেব বিশ্বাস। অন্য দিকে বিষ্ণুপুরের ৩৪ নং আসনে তৃণমূলের মথুর কাউড়ি মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন গহ্বর বায়েন। দু’জন কংগ্রেস প্রার্থীই বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

রাজ্যের মন্ত্রী জেলার তৃণমূল নেতা শ্যামল সাঁতরা কয়েক দিন আগেই জানিয়েছিলেন যে বিষ্ণুপুর মহকুমার ৬টি ব্লকেই গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি বিরোধীশূন্য হয়েছে। যে দু’টি আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সেই দু’টি আসনেও আর ভোট হচ্ছে না। বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭৫৩, পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৫৭ ও জেলা পরিষদে ১৩টি আসন রয়েছে। বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল জানান, বিষ্ণুপুরের উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে শাসক দলের দু’ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও কী কারণে তা প্রত্যাহার করে নিলেন জানতে চাওয়া হলে বাসুদেব বিশ্বাস বলেন, পুরো বিষ্ণুপুর মহকুমায় কোনো বিরোধী প্রার্থী না থাকায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। তিনি আরও বলেন, বিধানসভা ভোটে জোট করে কংগ্রেস দলের ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ভিন্ন সুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি নীলমাধব গুপ্তের কণ্ঠে। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল চায় না বিরোধীরা ভোটের লড়াইয়ে থাকুক। তাই ভয় দেখিয়ে জোর করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি। দিলেও তা তুলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। পরাজয় অবশ্যাম্ভাবী জেনেই এই কাজ করছে শাসকদল। ইন্দাস ও বিষ্ণুপুর তারই নবতম সংযোজন বলে তাঁর দাবি।

সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও দলের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক অমিয় পাত্র বলেন, “বাঁকুড়া জেলার সর্বত্রই আমাদের প্রার্থী তৈরি ছিল। শুধুমাত্র শাসকদলের সন্ত্রাসের কারণেই আমরা মনোনয়নপত্র জমা করতে পারিনি। শুধুমাত্র খাতড়া মহকুমা এলাকায় দল প্রার্থী দিতে পেরেছে। এখানকার ইন্দপুর ব্লক ছাড়া সব ব্লকেই প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আর এই মহকুমায় জেলা পরিষদের ১৫টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে বামেরা প্রার্থী দিতে পেরেছে বলে তিনি জানান। অমিয়বাবু বলেন, একমাত্র খাতড়া মহকুমা এলাকায় তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী কম সক্রিয় ছিল। বিষ্ণুপুরের সিপিএম নেতা অনিল পণ্ডিতও বলেন, তৃণমূলের সন্ত্রাসের কারণেই বিষ্ণুপুরে কোনো প্রার্থীই দিতে পারেননি তাঁরা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন