policevan accident

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চাকা ফেটে দুর্ঘটনার কবলে পুলিশভ্যান। মৃত দুই পুলিশ কর্মী। আহত এক জন। রাজগঞ্জ ব্লকের পানিকৌড়ি এলাকায় ৩১নং জাতীয় সড়কের ঘটনা। ইতিমধ্যেই এই দুর্ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, গাড়িটির চাকা অনেক পুরোনো এবং জোড়াতাপ্পি (রিসোলিং) লাগানো ছিল। প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দেওয়ার জন্য চালক ছিল মাত্র এক জন। ঘটনার পর গাফিলতির অভিযোগ উঠছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে, ৪৮ জন পুলিশকর্মীর (জুনিয়ার কনস্টেবল) একটি দলকে পুরুলিয়া থেকে জলপাইগুড়ি পাঠানো হচ্ছিল। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জন ট্রেনে আসছিলেন। অন্য দিকে একটি বড়ো পুলিশভ্যানে করে সবার বিছানাপত্র পাঠানো হচ্ছিল। সেই ভ্যানেই ছিলেন ওই দলের দু’ জন জুনিয়ার কনস্টেবল এবং এক জন গাড়িচালক। শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ গাড়িটি পুরুলিয়া থেকে রওনা দেয়। আজ রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সুধন রায় নামে এক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানিয়েছেন, পুলিশভ্যানটির সামনের একটি চাকা সশব্দে ফেটে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি একটি কার্লভাটে সজোরে ধাক্কা মারে এবং সামনের অংশ দুমড়ে যায়। গাড়ির মধ্যে থাকা তিন জন ভেতরেই আটকে পড়েন। খবর পেয়ে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। জলপাইগুড়ি থেকে ছুটে যান উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তারাও। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে উদ্ধারকার্য শুরু করে পুলিশ। এক জুনিয়ার কনেস্টবল বাপ্পা মণ্ডল এবং চালক অমরনাথ মাহাতো গাড়ির ভেতর আটকে থাকা অবস্থাতেই মারা যান।

তন্ময় মিশ্র নামে অপর জুনিয়ার কনেস্টবলকে ক্রেনের সাহায্যে উদ্ধার করে শিলিগুড়িতে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। গাড়ি কেটে মৃতদেহ দু’টি দীর্ঘক্ষণ পর উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়না তদন্তের পর জলপাইগুড়ি পুলিশ লাইনে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় দুই মৃত পুলিশকর্মীকে।

policemen in front of the morgueএ দিকে ট্রেন থেকে নেমে অন্য জুনিয়ার কনস্টেবলরা ঘটনা জানতে পেরে মর্গে ভিড় জমান। তাঁরা ঘটনায় ক্ষুদ্ধ। সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁরা নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। শুভেন্দু মণ্ডল নামে এক জুনিয়ার কনস্টেবল জানিয়েছেন, জোড়াতাপ্পি (রিসোলিং) করা চাকাওলা গাড়ি দিয়ে এত দূর পাঠানো ঠিক হয়নি। তাঁর আরও অভিযোগ, প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গাড়ি চালানোর জন্য মাত্র একজন চালক দেওয়া হয়েছিল। তিনিও একটানা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। এ সব কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করছেন মৃত দুই পুলিশকর্মীর সহকর্মীরা।

মৃত বাপ্পা মণ্ডলের ছয়মাস বয়সি কন্যাসন্তান রয়েছে। কয়েক দিন পরেই তার অন্নপ্রাশন। তার বাড়িতে এই ঘটনা জানার পর কী পরিস্থিতি হবে তা ভেবে ফোন করারই সাহস পাচ্ছিলেন না অন্য সহকর্মীরা। মৃত অপর পুলিশকর্মীর তিন কন্যা সহ পরিবারে অন্যরাও রয়েছেন।

তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব, এই মৃত্যুর দায় কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মৃত পুলিশকর্মীদের সহকর্মীরা। তবে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, যে হেতু গাড়িটি পুরুলিয়া জেলা পুলিশের, তাই তারাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারবে। জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখার্জি জানিয়েছেন, আপাতত বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা ব্যস্ত। দুই কর্মীর মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সে সব মিটে গেলে তাঁরা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখবেন। গাড়িটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না তা-ও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here