elephant killed by train

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দু’টি হাতির মৃত্যু। ফের কাঠগড়ায় রেল দফতর। জলপাইগুড়ির বানারহাট এলাকার ঘটনা। দেবপাড়া চা বাগান এবং রেডব্যাংক চা বাগানের মাঝে ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ারগামী ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। সেই সময় একটি শাবক-সহ চারটি হাতি লাইন পার হচ্ছিল। শাবক-সহ একটি মা-হাতিকে সজোরে ধাক্কা মারে ট্রেনটি। দু’টি হাতিই লাইন থেকে ছিটকে পড়ে নীচে। স্থানীয়দের কাছ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসেন জলপাইগুড়ি বন দফতরের আধিকারিক এবং পশু চিকিৎসক। কিন্তু হাতি দু’টিকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনাস্থলেই হাতি দু’টি মারা যায়। ঘটনায় রেল দফতরের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে বন দফতর।

বন দফতর সূত্রে খবর, যে জায়গায় ঘটনা ঘটেছে সেটি হাতি চলাচলের করিডর। রাতে ডায়ানার জঙ্গল থেকে বের হওয়া চারটি হাতির দল ওই  করিডর দিয়ে ডায়ানার জঙ্গলে ফিরছিল। সেই সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

গণেশ মুণ্ডা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ট্রেনটি বেশ দ্রুতগতিতে আসছিল। সেটির ধাক্কায় দলের পেছনে থাকা হাতি দু’টি ছিটকে পড়ে।

সব চেয়ে বড়ো কথা, এর আগের দুর্ঘটনা বেশির ভাগ সময় রাতের দিকে হয়েছে। তখন রেল দফতর যুক্তি দিত রাতের অন্ধকারে দেখতে না পাওয়ার দরুন এই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু এ দিনের ঘটনা দিনের আলোয় হওয়া বড়োসড়ো প্রশ্নের মুখে পড়েছে রেলবিভাগ। অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী জানিয়েছেন, বহু বার রেল দফতর এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও এই বিষয়ে আবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি। ক্ষুদ্ধ সীমা দেবী জানান, যতক্ষণ না পর্যন্ত রেল দফতরের কর্তারা এসে পরিস্থিতি দেখছেন ততক্ষণ এই রুটে ট্রেন চলতে দেওয়া হবে না। শেষে উত্তর-পূর্ব রেলের আলিপুদুয়ার ডিভিশন থেকে আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। দ্রুত বন দফতরের সঙ্গে বৈঠকে বসে হাতি মৃত্যু রুখতে একটি সুষ্ঠ সমাধানের আশ্বাস দেন। তাতে পরিস্থিতি আয়ত্তে আসে। রেলের পক্ষে জানানো হয়েছে, যে চালক ও গার্ডরা ওই ট্রেনের দায়িত্ব্ব ছিলেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কেন দিনের আলোয় হাতিগুলিকে দেখতে পেলেন না তা জানতে চাওয়া হবে।

ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মৃত্যুর ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত ৯ জুন এই দেবপাড়া চা বাগানের কাছেই মারা গিয়েছিল একটি হাতি। গত ছয় মাসে এই ট্রেন-রুটে মৃত্যু হয়েছে চারটি হাতির। পরিসংখ্যান বলছে, গত চোদ্দো বছরে এই রুটে এই নিয়ে ৬২ হাতির মৃত্যু হয়েছে। ক্ষুদ্ধ পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি জানিয়েছে, দুই দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে হাতিদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here