bjp leader prabal raha after arrest
গ্রেফতারির পর প্রবাল রাহা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: পঞ্চায়েতের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই বিরোধীরা অভিযোগ তুলছিলেন, মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধী নেতা-কর্মীদের জেলে পোরা হচ্ছে।শনিবার জলপাইগুড়ির একাধিক গ্রেফতারির ঘটনায় ফের একই অভিযোগ উঠল বিরোধী শিবির থেকে। এক দিকে গ্রেফতার হলেন মকুল-ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা। পাশাপাশি গ্রেফতার আদিবাসী বিকাশ পরিষদের কুড়ি জন নেতা-কর্মী।

দিন কয়েক আগেই মুকুল রায়ের শ্যালককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ বার মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা প্রবাল রাহা গ্রেফতার হলেন জলপাইগুড়িতে। তিনি মুকুল রায়ের ডান হাত বলেই পরিচিত। শনিবার সকালে তাঁকে জলপাইগুড়ির পাণ্ডাপাড়ার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, শহরের মাসকালাই বাড়ির বাসিন্দা পুণ্যব্রত মিত্র নামে এক যুবক তাঁর নামে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন।অভিযোগে জানানো হয়েছে, গত বছর চাকরির টোপ দিয়ে ওই যুবকের কাছে সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন প্রবালবাবু। কিন্তু চাকরি পাননি ওই যুবক। শুক্রবার সকালে সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে প্রবাল রাহা খুনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ।এর পরেই কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ‘প্রতারিত’ যুবক। অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎপরতার সঙ্গে শনিবার সকালে প্রবাল রাহাকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রতারণার অভিযোগ ছাড়াও নির্বাচনের জন্য অবৈধ ভাবে টাকা লেনেদেনের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ দিনই আলিপুরদুয়ার থেকে শুভকংর ঘোষ নামে একজন সংঘ প্রচারককে ১৫ লক্ষ টাকা সমেত গ্রেফতার করা হয়। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, ওই যুবক জেরায় স্বীকার করেছেন, নির্বাচনের জন্য এই টাকা বিজেপি নেতা প্রবাল রাহা তাঁকে দিয়েছেন। আরও কোনো অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত কি না তা জানতে প্রবাল রাহাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। সেইজন্য শনিবার তাঁকে জলপাইগুড়ির বিশেষ আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের হেফাজত চায় পুলিশ।তবে বিচারক চার দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন। যদিও প্রবাল রাহা দাবি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার তিনি।

বস্তুত, প্রথমে ফরোয়ার্ড ব্লক থেকে মুকুল রায়ের হাত ধরে তৃণমূলে এবং পরে মুকুল রায়ের হাত ধরেই বিজেপিতে যোগ দেন প্রবাল রাহা। আদতে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা হলেও তিনি মুকুল রায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে তাঁর সঙ্গেই হিল্লি-দিল্লি করতেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁকে জলপাইগুড়ির পর্যবেক্ষক করা হয়। সেই সূত্রেই দিন কয়েক আগে জলপাইগুড়ি আসেন প্রবাল রাহা। তাঁর অভিযোগ, এর পরেই শাসক দলের নির্দেশে তাঁকে গ্রেফতারির ছক কষা হয়।

raju sahani at the time of arrest
গ্রেফতারের সময় রাজু সাহানি।

অন্য দিকে আদিবাসী বিকাশ পরিষদের প্রভাবশালী নেতা রাজু সাহানি সহ কুড়ি জনকে শনিবার গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে জলপাইগুড়ির করলা ভ্যালি চা-বাগানে অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই অঞ্চলের তৃণমূল প্রার্থী মহেশ রাউতিয়ার সমর্থনে সেখানে একটি সভা হয়। তার পর একটি মিছিল বের হয়। অভিযোগ, ভুজালিপাড়া এলাকায় সেই মিছিলের ওপরে হামলা চালায় কিছু সমাজবিরোধী। তৃণমূল প্রার্থী মহেশ রাউতিয়া অভিযোগ জানিয়েছেন, বিকাশ পরিষদের নেতা রাজু সাহানির নির্দেশেই হামলা হয়েছে। ঘটনায় চার জন মহিলা সহ নয় জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে চার জন তৃণমূল কর্মী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি।রাতেই তৃণমূল নেতৃত্ব কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

ভোররাতে অভিযানে নামে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় রাজু সাহানিকে। পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, তাঁর গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র। পাশাপাশি আরও ১৯ জনকে হামলার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।শনিবার তাঁদের আদালতে তোলা হয়। পুলিশ রাজু সাহানির ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায়। কিন্ত বিচারপতি তা খারিজ করে রাজু সাহানি-সহ কুড়ি জনকেই জেল হেফাজতে পাঠান। রাজু সাহানির হাত ধরেই করলা ভ্যালি চা বাগানে আদিবাসী বিকাশ পরিষদের সংগঠন বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। বিগত দু’টি পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরিষদের সমর্থিত নির্দল প্রার্থীই জিতেছিল। রাজু সাহানির অভিযোগ, পরিষদের শক্তি নষ্ট করতেই রাজনৈতিক চক্রান্ত করে মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পরিষদের পক্ষ থেকেও পালটা হামলার অভিযোগ থানায় করা হয়েছে ১০ জন তৃণমূল কর্মীর নামে। যদিও তাঁদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। রাজু সাহানির বক্তব্য, এতেই প্রমাণ হয় যে শাসক দলের নির্দেশেই পুলিশ একপেশে কাজ করছে।

এই অভিযোগ প্রথম থেকেই তুলছিলেন বিরোধী দলের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, যেখানে সন্ত্রাস করেও বিরোধীদের ঠেকানো যাচ্ছে না, সেখানে মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতা-কর্মীদের জেলে পুরে তাঁদের মনোবল ভাঙার জন্য এই কৌশল নিয়েছে শাসক দল। বিজেপির উত্তরবঙ্গের সহ-আহ্বায়ক দীপেন প্রামাণিক জানিয়েছেন, এ সব করে বিজেপিকে আটকানো যাবে না।

যদিও বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জলপাইগুড়ির তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর দাবি, পুলিশ যথাযথ অভিযোগ পেয়েই তাদের পদক্ষেপ করেছে। আর নিজেদের কুকর্ম ঢাকার জন্য বিরোধী দলগুলি অযথা হৈচৈ করছে ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here