chatradhar mahato , mamata banerjee, mukul roy
Samir mahat
সমীর মাহাত

গত ১১ এপ্রিল লালগড়ের সভা থেকে সটান জেলবন্দি জনসাধারণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতর বাড়ি ছুটে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এই প্রথম নয়, তিন মাস আগেও ঝাড়গ্রামে এসে তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন ছত্রধর সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে। সেই তিনিই তাঁর বাড়ি গিয়ে ভাই অনিল মাহাতোকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় ভাবে ছত্রধরকে মুক্ত করার। আর তার পরই রাজ্য সরকারের তরফে ছত্রধরকে নিয়ে নতুন উদ্যোগের কথা চাউর হয়ে গেল সংবাদ মাধ্যমে। তবে এ সব নিয়ে খোদ লালগড়ের সাধারণ মানুষের খুব একটা উৎসাহ চোখে পড়ছে না।

ছত্রধর মাহাত ছাড়া পাচ্ছেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর চাউর হলেও গোটা জঙ্গল মহলে সে ভাবে আলাদা কোনো উৎসাহ গরমিল। ছত্রধরের পাড়ার বাসিন্দা অসিত মাহাত বলেন, “এর আগেও এমন কথা শুনেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আগে ছাড়া পাক, তার পর বুঝব”। যদিও মুখে কুলুপ এঁটেছেন ছত্রধরের পরিবার।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লালগড় আন্দোলনের সময় ছত্রধরের হাত ধরে মমতা বন্দোপাধ্যায় “সূঁচ” হয়ে ঢুকলেও “ফাল” হয়ে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে মুকুল রায়ের ভূমিকা কম ছিল না। যে কারণে পঞ্চায়েত ভোটের আগে এই “ইগো” নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়েছে তৃণমূল- বিজেপি দুই শিবিরেই। স্বাভাবিক ভাবেই ছত্রধরকে নিয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের যাবতীয় তথ্য মুকুল রায় জানতে পারছেন, তা নিয়ে তৃণমূল শিবিরেই জল্পনা শুরু হয়েছে। ছত্রধরের এই খবর সংবাদ মাধ্যমের কানে যাওয়ার দিন কয়েক আগেই মুকুল রায় তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। তিনি বাড়ির লোকের উদ্দেশে বলেন, ছত্রধরের মামলার ব্যপারে কেন্দ্রীয় সরকার যাতে বিবেচনা করে দেখে সে বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেবেন।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর মহাঅষ্টমীর দিন সাংবাদিক সেজে বাম জামানার পুলিশ ২০০৯ সালে ছত্রধরকে গ্রেফতার করে। ছত্রধরের ইউএপিএ মামলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দোটানায় পড়েই হয়তো তাঁর স্ত্রী নিয়তি মাহাত, ভাই অনিল বা তাঁর আইনজীবী সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলছেন না। এর আগেও তাঁর পরিবারের লোকজন যে ভাবে মুকুল রায়ের কাছে মুখ খোলেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ট মহলের মতে, ছাড়া পেলে তিনি ভোটের আগেই ছাড়া পেতে পারেন। ছত্রধর মাহাত ছাড়া পেয়ে বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন, নাকি আদৌ কোনো দলে যোগই দেবেন না, ছত্রধরের “ইগো” নিয়ে কোন দল জঙ্গল মহলে প্রভাব বিস্তার করবে, রাজনৈতিক মহলে এটাই এখন চর্চার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার বিন্দুমাত্র ছাপ চোখে পড়ছে না ছত্রধরের পাড়া-প্রতিবেশী বা ঘনিষ্ঠদের মধ্যে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here