Hen killing

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শুক্রবার ছুটির দুপুর। হন্তদন্ত হয়ে থানায় হাজির দুই মহিলা। থানার কর্তব্যরত অফিসারের কাছে এসে তাঁদের মধ্যে মাঝবয়সি এক মহিলার সাফ কথা, খুনের অভিযোগ করবেন, খুনির বিচার চাই।

খুনের কথা শুনেই চমকে উঠেছিলেন জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার কর্তব্যরত অফিসার। শশব্যস্তে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কে খুন হয়েছে? কোথায়?

তখন ওই মহিলা তাঁর হাতে থাকা একটি বড় বাজারের ব্যাগ থেকে মৃতদেহ বার করে নীচে নামিয়ে রাখে।একটি, দু’টি নয় বারোটি মৃতদেহ। তবে দেহগুলি মুরগির।এবার হতভম্ব হওয়ার পালা পুলিশের। তবে ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আসল ব্যাপারটা বোঝা যায়।

মাঝবয়সি ওই মহিলার নাম রাহেদা বেগম। সঙ্গে তাঁর পুত্রবধূ। বাড়ি জলপাইগুড়ির গড়ালবাড়ি গ্রামে। তাঁরা বাড়িতে মুরগি পোষেন। বাড়ির পাশেই এক আত্মীয় দিদার আলির চাষের জমি। সকালে সেই জমিতে যায় মুরগিগুলি। কিছুক্ষণ পরে এক প্রতিবেশী এসে খবর দেয় মুরগিগুলি জমির মধ্যে মরে পড়ে আছে। তারা ছুটে গিয়ে দেখতে পান ২১টি মুরগি মরে পড়ে আছে।এরমধ্যে ১২টি রাহিদা বেগমের, ৯টি তাঁর পুত্রবধূর। বাকিগুলো জমিতে পড়ে ছটফট করছে।

রাহেদা বেগমের অভিযোগ, চাষের জমির মধ্যে খাবারে সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে রেখেছিল আত্মীয় দিদার আলি। তা খেয়েই মুরগিগুলি মারা পড়েছে। জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করার জন্য মুরগিগুলোর ওপর প্রতিশোধ নিয়েছে দিদার আলি, অভিযোগ রাহেদার।

এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসাও হয়।যদিও দিদার আলি বেমালুম অস্বীকার করেন বিষয়টি।

তার পরেই একটা হেস্তনেস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন রাহিদা। এতগুলি মুরগির শোক তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসে হাজির হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যিনি মুরগি খুন করতে পারেন তিনি তাঁদেরও খুন করতে পারেন।

যদিও খুনের এই কাহিনি শুনে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয় পড়েন থানার পুলিশ কর্মীরা। যদিও তাঁরা শেষ পর্যন্ত নিরাশ করেননি।অভিযোগ নিয়েছেন রাহিদা বেগমের। খুনের শাস্তি হিসেবে ২১টি মুরগির ক্ষতিপূরণ দাবি করে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন রাহিদা বেগম।

তবে বিপাকে পড়েছেন কোতোয়ালি থানার পুলিশ আধিকারিকরা। আইনের কোন ধারায় এই মামলা দেবেন, সেই চিন্তাই এখন ভাবাচ্ছে তাঁদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here