Connect with us

অ্যাডভেঞ্চার

ছন্দা গায়েনের মতোই কি কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে চিরতরে হারিয়ে গেলেন কুন্তল-বিপ্লব?

ওয়েবডেস্ক: ঠিক যেন পাঁচ বছর আগের স্মৃতি ফিরে এল। সে বার কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে গিয়ে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন ছন্দা গায়েন। ঠিক সেই রকম ঘটনায় সম্ভবত ঘটতে চলেছে বাংলার দুই পর্বতারোহী কুন্তল কাঁড়ার এবং বিপ্লব বৈদ্যর ক্ষেত্রেও।

সরকারি ভাবে এখনও নিশ্চিত করে কিছু না জানানো হলেও পর্বতারোহণ এজেন্সি ‘পিক প্রোমোশন’ জানিয়েছেন মৃত্যু হয়েছে কুন্তলবাবু এবং বিপ্লববাবুর। সংস্থার ম্যানেজার ‘দ্য হিমালয়ান টাইম্‌স‘কে জানিয়েছেন, “উচ্চতাজনিত রোগে (হাই অল্টিচিউড সিকনেস) মৃত্যু হয়েছে তাঁদের।”

অন্য দিকে পর্বতারোহণ সম্পর্কিত পোর্টাল ‘ড্রিম ওয়ান্ডারলাস্টের’ সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কাঞ্চনজঙ্ঘার ‘ডেথ জোনে’ আহত অবস্থায় আটকে পড়া কুন্তলবাবু ও বিপ্লববাবুকে উদ্ধার করার প্রথম অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের উদ্ধার করার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। দু’জনকে উদ্ধার করার জন্য শীঘ্রই আর কোনো অভিযান করা যাবে না বলেও জানিয়েছেন শেরপারা।

কুন্তল কাঁড়ার।

পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বুধবার কাঞ্চনজঙ্ঘা জয় করা আরও দুই পর্বতারোহী রমেশ রায় এবং শেখ শাহবুদ্দিন। অন্য দিকে দলের আরও এক সদস্য রুদ্রপ্রসাদ হালদার গুরুতর ফ্রস্ট বাইটে আক্রান্ত হয়েছেন।

অনেক প্রতিকূলতাকে জয় করেই বুধবার সকালে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা জয় করেন চার বাঙালি পর্বতারোহী । তবে তাঁদের মধ্যে বিপ্লব বৈদ্য থাকলেও, সামিটে পৌঁছোনোর আগেই কুন্তলবাবু অসুস্থ হয়ে যান। বুধবার দুপুরে খবর আসে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিপ্লববাবুও। কুন্তলবাবু এবং বিপ্লববাবুর অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় গভীর চিন্তায় রাজ্যের পর্বতারোহী মহল।

(এই দুই পর্বতারোহীর মৃত্যুর ব্যাপারে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। সরকারি বিবৃতি এলেই সঠিক তথ্য আপনাদের কাছে তুলে ধরা হবে)

অ্যাডভেঞ্চার

করোনাভাইরাস: এভারেস্টের দরজা বন্ধ করল নেপাল

traffic jam in everest

কাঠমান্ডু: করোনাভাইরাসের (Coronavirus) আতঙ্ক এ বার পর্বতারোহণেও প্রভাব ফেলল। এভারেস্ট-সহ বিভিন্ন শৃঙ্গের দরজা আপাতত পর্বতারোহীদের জন্য বন্ধ করে দিল নেপাল।

১৪ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পর্বতারোহণের (Expedition) যাবতীয় অনুমতিপত্র বাতিল করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে নেপাল।

শুধুমাত্র এভারেস্ট (Mount Everest) অভিযান থেকেই প্রতি বছর ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার আয় করে নেপাল। এ ছাড়াও আরও অন্যান্য শৃঙ্গ বা সাধারণ পর্যটন তো রয়েছেই। কিন্তু করোনাভাইরাসের জেরে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে পর্যটনশিল্প যে বিশাল বড়ো ধাক্কা খাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের তরফে জানানো হয়েছে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো পর্যটন ভিসা প্রদান করবে না নেপাল। এমনকি এভারেস্ট অভিযানের জন্য যত অনুমতিপত্র প্রদান করা হয়েছে, সবই আপাতত বাতিল করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন শেয়ার বাজারে নজিরবিহীন পতন, বন্ধ রইল কেনাবেচা

উল্লেখ্য, এই এভারেস্ট মরশুমের দিকে শুধুমাত্র নেপাল সরকারই যে তাকিয়ে থাকে তা শুধু নয়, একাধিক শেরপা পরিবারের ভরসা এই মরশুম। কিন্তু করোনা আটকাতে নেপাল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা যে সবার কাছে একটা বড়ো ধাক্কা তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাঙালি পর্বতারোহীদের কাছেও এই ব্যাপারটা নিঃসন্দেহের ধাক্কার। কিন্তু একটা কথা সবাই এক বাক্যে মানছেন যে শরীরস্বাস্থ্য সবার আগে।

২০১৫ সালে নেপাল ভূমিকম্পের সময়ে সাংঘাতিক ভাবে ধাক্কা খেয়েছিল এভারেস্ট মরশুম। অভিযান বাতিল করে ফিরতে হয়েছিল পর্বতারোহীদের। পাঁচ বছর পর ফের এভারেস্ট মরশুমে প্রভাব পড়ল।

Continue Reading

অ্যাডভেঞ্চার

বাঘ সংরক্ষণের বার্তা দিতে দেশ ঘুরে এ বার বিদেশে পাড়ি বাঙালি দম্পতির

শ্রয়ণ সেন

এ বছর জুলাইয়ের কথা। দীর্ঘক্ষণ মোটরবাইক চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি গাছের তলায় বাইকটিকে পার্ক করে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রীও। কিন্তু সেটা যে রথীনবাবু আর গীতাঞ্জলিদেবীর কাছে কতটা বিপদ বয়ে আনছে ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তাঁরা।

রথীনবাবু যখন গাছের তলায় দাঁড়িয়েছিলেন, সেই সময় ওই গাছের তলায় সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়েছিল এক কিশোর। রথীনবাবু তার কাছে যেতেই সে দৌড়ে কাছের একটি বাড়িতে ঢুকে যায়। কিছুক্ষণ পরেই গ্রামের পুরুষ-মহিলারা ঘিরে ধরেন তাঁদের। তৈরি হয় গণপিটুনির পরিস্থিতি।

কিন্তু সে যাত্রায় কোনো ভাবে বেঁচে গেলেও, ব্যাপারটা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তাঁরা। বরং তাঁদের বিশ্বাস, যে বার্তা ছড়িয়ে দিতে তাঁরা বেরিয়েছেন, তাতে সমস্ত প্রতিকূলতা তাঁদের অতিক্রম করতেই হবে।

বিশ্ববাসীকে বাঘ সংরক্ষণের বার্তা দিতে এক অভিনব অভিযানে বেরিয়েছেন কলকাতার বাঙালি দম্পতি রথীন্দ্রনাথ দাস ও গীতাঞ্জলি দাস। ফেসবুকে রথীনবাবু, ‘ওয়াইল্ড রথীন’ হিসেবে বেশি পরিচিত।

এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সস্ত্রীক রথীনবাবু বেরিয়েছিলেন দেশ সফরে। পৌঁছে গিয়েছিলেন দেশের তৎকালীন ২৯টা রাজ্য ও পাঁচটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। সেই অভিযানই এ বার দেশের গণ্ডির বাইরে। আগামী মাসের শেষ দিকে, বনভূমি ও বন্যপ্রাণী, বিশেষত বাঘ সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছেন তিনি আর গীতাঞ্জলিদেবী। 

কিছুটা প্রচারের আড়ালে থেকে অনন্য কাজ করে চলেছেন এই দম্পতি। সংবিধানের ৪-এ বিভাগের ৫১-এ (জি) অনুচ্ছেদটি রথীনবাবু মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দেশের বনাঞ্চল, হ্রদ এবং বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করা তাঁর অন্যতম কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

নিজের নেশাকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ করে এমনই একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রথীনবাবু। পশুশিকার বিরোধী এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়ে একাধিক কাজকর্মে তিনি নিজে হাত লাগিয়েছেন। কখনও কখনও দুঃসাহসিক কিছু অভিযানেও গিয়েছেন।

আরও পড়ুন বাঘের গহ্বরে বিকল সাফারির বাস, পর্যটকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিজেকে নিয়োজিত করার পাশাপাশি তিনি একজন অত্যন্ত সফল বাইকারও। এই বাইক নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, উদ্দেশ্য একটাই, বাঘ তথা সামগ্রিক ভাবে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে বার্তা দেওয়া।

এই অভিযান তিনি শুরু করেছিলেন ২০১৬ সালে। সে বছর ৩ অক্টোবর নিজের প্রাণের বাইক নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন, ফিরেছিলেন পরের বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি। এই সফরে তাঁর মূল বার্তা ছিল, ‘জঙ্গল বাঁচাও, বন্যপ্রাণ বাঁচাও।’ এই সফরে দেশের ২৯টি রাজ্য আর পাঁচটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ২৭,১৩৮ কিমি সফর করেন তিনি। নিজের বার্তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পৌঁছে যান ২২টি স্কুলে।  

এর পর ‘গণ্ডার বাঁচাও’-এর বার্তা নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ আর অসমে মোট ২৮২২ কিমি সফর করেন তিনি। এই সফরে ১৬৭টা স্কুলে বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত সচেতনতা শিবির করেন তিনি।

এর পর তৃতীয় সফর। “কেন বন্যপ্রাণ রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য?”, দেশবাসীকে সেই পাঠ দিতেই বেরিয়ে পড়েন দু’ জন। ভারতের দশটি রাজ্যে প্রায় ৬০০০ কিমি সফর করে তাঁরা পৌঁছে যান ২৩২টি স্কুলে। 

প্রথম তিনটে সফরের সফলতার পর এ বার আরও বড়ো পরিকল্পনা করেন দু’ জনে। ‘জার্নি ফর টাইগার’ নামের এই সফরের মূল বার্তা ছিল, “প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য বন্যপ্রাণ বাঁচাও!”

দেশ আর বিদেশ মিলিয়ে এই সফরকে মোট তিনটে ভাগে ভাগ করেন রথীন-গীতাঞ্জলি। তাঁর প্রথম ভাগের জন্য এ বছর ১৫ ফেব্রুয়ারিতে বেরিয়ে পড়েন দু’জনে। প্রথম লক্ষ্য ভারতের ২৯টা রাজ্য এবং পাঁচটা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সফর।

কলকাতা থেকে শুরু হয়ে প্রথমে সুন্দরবন হয়ে রথীনবাবুরা চলে যান আলিপুরদুয়ারের বক্সা। সেখান থেকে উত্তরপূর্ব ভারতের ব্যাঘ্রপ্রকল্পগুলি ঘুরে, দেশের বাকি অংশে সফর করেন। এই সফরে দেশের সব ক’টি ব্যঘ্র প্রকল্পে যাওয়াই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। তার আশেপাশের গ্রামগুলিতে বাঘ সংরক্ষণের বার্তা দিয়েছেন এই দম্পতি। তাঁদের এই অভিযানে পূর্ণ সহায়তা করেছে বিভিন্ন রাজ্যের বন্যপ্রাণ দফতরও।

১০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিযানে ছিলেন দু’জনে। মোট ২৬৯ দিনের এই অভিযানে ৩৬৪৯২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন তাঁরা। এই সফরে দেশের ৫০টি ব্যাঘ্রপ্রকল্প, ১০০-এরও বেশি অভয়ারণ্য সফর করেন তাঁরা। সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে ৩০০০টি গ্রাম আর ৬৪৩টি স্কুলে যান তাঁরা। আর এই সফর চলাকালীনই উন্মত্ত জনতার রোষের মুখেও পড়তে হয় তাঁদের।

মধ্যপ্রদেশের সাতপুরা টাইগার রিজার্ভের কাছে উন্মত্ত জনতার মুখোমুখি হয়েছিলেন দু’জনে। ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রথীনবাবু বলেন, “‘আমরা কিডনি চোর, এমন ধারণা হয়েছিল ওঁদের। কিছুতেই ওদের বোঝাতে পারছিলাম না আমাদের উদ্দেশ্যটা। এমনকি আমার সঙ্গে যে একজন মহিলা রয়েছেন, সেটাও ওঁরা বিশ্বাস করছিলেন না।”

শেষে গ্রামেরই এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন রথীনবাবু। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তিকে দেখে মনে হল উনি শিক্ষিত। বুঝলাম, ওঁকে যদি বোঝাতে পারি, তা হলে এ যাত্রায় বেঁচে যাব।”

শেষে ওই ব্যক্তির তৎপরতায় রণে ভঙ্গ দেয় উন্মত্ত ওই জনতা। ছাড়া পেয়ে যান রথীনবাবুরা।

এই ঘটনার পরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে ভয় লাগে না?

এই বিপদেও হাল ছাড়েননি দু’জনে। বলছেন, ‘‘যে-শপথ নিয়ে বেরিয়েছি, তা শেষ করেই ফিরব।” সেই অভিযানের প্রথম অংশটি শেষ হয়েছে গত নভেম্বরেই। কিন্তু এ বার লক্ষ্য আরও বড়ো।

অভিযানের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অংশ শুরু হচ্ছে জানুয়ারির শেষে। এ বার তাঁদের লক্ষ্য, বাঘ রয়েছে, এশিয়ার এমন ১২টি দেশে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

আরও পড়ুন রাজস্থানের জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের তাড়া বাঘের, দেখুন রোমহর্ষক ভিডিও

মোট দুটি অংশে এই অভিযানকে ভাগ করেছেন তাঁরা। দ্বিতীয় অংশে মূলত আসিয়ানভুক্ত দেশ, অর্থাৎ মায়ানমার, তাইল্যান্ড, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কাম্বোডিয়া এবং লাওসে যাবেন তাঁরা। তৃতীয় তথা শেষ অংশে তাঁরা অভিযান করবেন, বাংলাদেশ, চিন, রাশিয়া, নেপাল এবং ভুটানে। প্রত্যেকটা দেশের রাজধানী ছুঁয়ে আরও গভীরে প্রবেশ করার ইচ্ছে রথীন-গীতাঞ্জলির।

তাঁদের এই অভিযানগুলির পরিকল্পনা এবং দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে হংকং-এর এশিয়ান ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার্স ক্লাব, সাউথ এশিয়ার ফোরাম ফর এনভায়রনমেন্ট (সেফ) আর ‘এক্সপ্লোরিং নেচার’ নামক তিনটি সংস্থা।

এই অভিযান শেষ করে ফিরে আসার পর বাঘ সংরক্ষণ নিয়ে একটি বই লেখারও পরিকল্পনা রয়েছে রথীনবাবুর। তবে তার আগে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, উল্লিখিত দেশগুলিতে নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

এই সফরে বেরোনোর আগে দেশবাসী তথা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে একটা বিশেষ বার্তা দিতে চান রথীনবাবু। তিনি বলেন, “আমাদের জীবনের মূল উৎস হল জঙ্গল। কারণ জঙ্গল আছে বলেই জল, অক্সিজেন-সহ বাঁচার মূল রসদ আমরা পাচ্ছি। আর এই জঙ্গলকে বাঁচিয়ে রাখছে বন্যপ্রাণ, বিশেষত বাঘেরা। তাই বাঘ বাঁচানোর দায়িত্ব কোনো সরকারের একটা বা দু’টো দফতরের নয়, এই দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। ওরা বাঁচলে, আমরাও বাঁচব।”

Continue Reading

অ্যাডভেঞ্চার

বাংলার পর্বতারোহণে ইতিহাস! নন্দাদেবী ইস্টের মাথায় বাঙালি অভিযাত্রী দল

ওয়েবডেস্ক: তেনজিং নোরগেকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে তাঁর পর্বরোহণকালে সব থেকে কঠিন শৃঙ্গ কোনটি ছিল? এত অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ শেরপা সবাইকে অবাক করে কোনো আট হাজারি শৃঙ্গের নাম না নিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন নন্দাদেবী ইস্ট! তেনজিং যখন এমন কথা বলেছেন, তখন নন্দাদেবী ইস্ট কতটা দুর্গম তা সহজেই অনুমেয়। সেই নন্দাদেবী ইস্টের মাথায় চেপে বাংলার পর্বতারোহণে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল সাউথ ক্যালকাটা ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ ৭৪৩৪ মিটার (২৪,৩৮৪ ফিট) উচ্চতার নন্দাদেবী ইস্টে চার শেরপাকে নিয়ে পা রাখেন সংগঠনের সদস্য প্রদীপ বর। শনিবার রাত ১:৪৫-এ পাঁচ নম্বর ক্যাম্প বা সামিট ক্যাম্প থেকে রওনা হয়েছিলেন প্রদীপ। তাঁর সঙ্গে থাকা চার শেরপার নেতৃত্বে ছিলেন ফুর্বা শেরপা। শেষ পাওয়া খবরে, এ দিন বিকেল চারটেয় ৫ নম্বর ক্যাম্পে নিরাপদে ফিরে এসেছেন প্রদীপরা।

আরও পড়ুন নন্দাঘুণ্টিজয়ী পর্বতারোহী বিশ্বদেব বিশ্বাস প্রয়াত

গত ১৬ আগস্ট অভিযানে রওনা হওয়ার আগের মুহূর্তে

নন্দাদেবী ইস্টে অভিযান ঠিক কতটা শক্ত সেটা একটা তথ্যে আন্দাজ করা যাবে। তা হল এখনও পর্যন্ত ৩০ বার অভিযান হয়েছে এই শৃঙ্গের উদ্দেশে। এর মধ্যে সফল হয়েছে মাত্র ১৩টি। এমনকি গত মে মাসেই এই নন্দাদেবী ইস্টে উঠতে গিয়ে চির ঘুমে চলে গিয়েছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পর্বতারোহী মার্টিন মোরান। এত দুর্গমতা সত্ত্বেও এ বার সাহস দেখিয়েছিল সাউথ ক্যালকাটা ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন।

গত ১৬ আগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয় সংগঠনের চার সদস্যের একটি অভিযাত্রী দল। দলনেতা রাজশেখর মাইতির নেতৃত্বাধীন এই দলে প্রদীপ বর ছাড়াও ছিলেন, উপল চক্রবর্তী এবং আশিস গুপ্ত। সেই সঙ্গে ফুর্বা ছাড়াও ছিলেন আরও চার শেরপা।

২৬ আগস্ট এই দলটি বেসক্যাম্পে পৌঁছোয়। এর পর অ্যাডভান্স বেসক্যাম্প (৪৯১০ মিটার), ক্যাম্প ১ (৫৯১০ মিটার), ২ (৬০০০ মিটার), ক্যাম্প ৩ (৬৩০০ মিটার), ক্যাম্প ৪ (৬৫১৪ মিটার) এবং ক্যাম্প ৫ (৬৮৮০ মিটার) স্থাপন করতে করতে রবিবার সকালে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তারা। এখন অপেক্ষা এই অভিযাত্রী দলটির নিরাপদে ফিরে আসার।

Continue Reading
Advertisement
রাজ্য34 seconds ago

আচমকা তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে

রাজ্য34 mins ago

করোনা রুখতে পশ্চিমবঙ্গের ‘সেফ হোম’-এর ভূয়সী প্রশংসা কেন্দ্রের

coronavirus
রাজ্য1 hour ago

নমুনা পজিটিভ হওয়ার হারে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান বাকি দেশের তুলনায় কোন জায়গায়?

দেশ2 hours ago

ছয় রাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নতুন করে সংক্রমিত ১৭,৬৪৭, বাকি দেশে ৬,৬০১

দেশ2 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২৪২৪৮, সুস্থ ১৫৩৫০

কলকাতা3 hours ago

কলকাতায় এখন ১৮টি কনটেনমেন্ট জোন, ১৮৭২টি আইসোলেশন ইউনিট, ফারাকটা কোথায়?

দেশ3 hours ago

আগামী এক বছর কেরলে মানতে হবে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি, অন্যথায় বিপুল অঙ্কের জরিমানা

দেশ4 hours ago

‘করোনা ছড়াতে পারেন পর্যটকরা,’ সোমবার খুলছে না তাজমহল

দেশ2 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ২৪২৪৮, সুস্থ ১৫৩৫০

কলকাতা2 days ago

কলকাতায় অতিসংক্রমিত ১৬টি অঞ্চলকে পুরোপুরি সিল করে দেওয়ার প্রস্তুতি

wfh
ঘরদোর3 days ago

ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন? কাজের গুণমান বাড়াতে এই পরামর্শ মেনে চলুন

fat
শরীরস্বাস্থ্য3 days ago

কোমরের পেছনের মেদ কমান এই ব্যায়ামগুলির সাহায্যে

thunderstorm
রাজ্য3 days ago

কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা

রাজ্য2 days ago

করোনা-আক্রান্তের সংখ্যায় কলকাতাকে পেছনে ফেলে দিল হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু

বিদেশ3 days ago

প্রধানমন্ত্রীর লাদাখ সফরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিনের প্রতিক্রিয়া

দেশ2 days ago

পাঁচ রাজ্যে নতুন করে করোনা-আক্রান্ত ১৬,৭৯৯ বাকি দেশে ৫,৯৭২

কেনাকাটা

কেনাকাটা20 hours ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

DIY DIY
কেনাকাটা6 days ago

সময় কাটছে না? ঘরে বসে এই সমস্ত সামগ্রী দিয়ে করুন ডিআইওয়াই আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক :  এক ঘেয়ে সময় কাটছে না? ঘরে বসে করতে পারেন ডিআইওয়াই অর্থাৎ ডু ইট ইওরসেলফ। বাড়িতে পড়ে...

smartphone smartphone
কেনাকাটা1 week ago

লকডাউনের মধ্যে ফোন খারাপ? রইল ৫ হাজারের মধ্যে স্মার্টফোনের হদিশ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ঘরে বসে যতটা কাজ সারা যায় ততটাই ভালো। তাই মোবাইল ফোন খারাপ...

কেনাকাটা1 week ago

১০টি ওয়াশেবল মাস্ক দেখে নিন

খবর অনলাইন ডেস্ক : বাইরে বেরোচ্ছেন। মাস্ক অবশ্যই ব্যবহার করুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে তিন স্তর বিশিষ্ট মাস্ক...

নজরে