Connect with us

রাজ্য

বিএসএফের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলল নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশনের কাছে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের বিরুদ্ধে ‘ভয় দেখানো’র অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল।

Published

on

সুনীল অরোরা। ফাইল ছবি

কলকাতা: সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের বিরুদ্ধে ‘ভয় দেখানো’র অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে সেই অভিযোগ জানানোর পর দিনই মুখ খুললেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক সুনীল অরোরা। তিনি এ ধরনের অভিযোগকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিলেন শুক্রবার।

কী বলছে নির্বাচন কমিশন?

এ দিন সুনীল অরোরা বলেন, “বিএসএফ দেশের অন্যতম সেরা বাহিনী এবং এ বছরের এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাদের রাজনৈতিক যুদ্ধের ময়দানে টানা উচিত নয়”।

Loading videos...

এখানেই থেমে না থেকে তিনি বলেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, একটি রাজনৈতিক দল বিএসএফ সম্পর্কে এমন অভিযোগ করছে। আমি এই অভিযোগের স্বপক্ষে তাদের কাছে প্রমাণ চেয়েছি”।

উল্লেখ্য, কমিশনের ফুল বেঞ্চ তিন দিনের সফরে রাজ্যে এসে দফায় দফায় বৈঠক করছে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন বার্তা দিয়েছে, সুষ্ঠু ভাবে ভোট করতে হলে প্রথমেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশ-প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

অরোরা বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমরা গভীর ভাবে আলোচনা করেছি। বেশির ভাগেরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। হাইভোল্টেজ নির্বাচনের রাজনৈতিক হিংসতার দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। যা গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে হতাশ করে দিতে পারে”।

কী বলছে তৃণমূল?

বৃহস্পতিবার সকালে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ওই বৈঠকে রাজ্যের শাসক দলের তরফে উপস্থিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেন কমিশনের কাছে।

তাঁর প্রথম অভিযোগটি ছিল, “সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আমরা লক্ষ্য করছি, বিএসএফের যাঁরা কর্তব্যরত রয়েছেন, তাঁরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সহায়তা করার জন্য ভয় দেখাচ্ছেন। ভয় দেখিয়ে বলা হচ্ছে, কলকাতা বা জেলাশাসক তোমাদের ক্ষমতায় রাখতে পারবে না, সীমান্তে আমরাই থাকব। এটা একটা ভয়ঙ্কর অভিযোগ। আমরা চাই, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এতে হস্তক্ষেপ করুক”।

এই অভিযোগ নির্বাচন কমিশন খারিজ করে দেওয়ার পর তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা সমগ্র বিএসএফের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। একটা অংশে কেউ কেউ এ কাজ করছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন।

আরও পড়তে পারেন: বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল

রাজ্য

কলকাতা পুরসভার প্রশাসকের পদ ছাড়ছেন ফিরহাদ হাকিম

এর ফলে ভেঙে যাবে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ড।

Published

on

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন, তাই নিয়ম মেনেই কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের পদ ছাড়তে হচ্ছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ভেঙে যাবে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ড।

তা হলে ফিরহাদের পর কলকাতা পুরসভার দায়িত্বে কে? এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্যই নিয়ম মেনে পদত্যাগ করব। বোর্ড ভেঙে গেলে কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব সামলাবেন পুর কমিশনার এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রধান সচিব।”

Loading videos...

তিনি বলেন, অন্যান্য পুরসভার প্রশাসক যাঁরা বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদেরও মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে পদত্যাগ করতে হবে। ফলে, শিলিগুড়ি প্রশাসক পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে অশোক ভট্টাচার্যকে। এখনও পর্যন্ত বামফ্রন্ট শিলিগুড়ির প্রার্থী তালিকার ঘোষণা না করলেও অশোকবাবুই যে সেখান থেকে প্রার্থী হবেন তা নিশ্চিত।

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান ছাড়াও আরও তিন সদস্য অতীন ঘোষ, দেবাশিস কুমার, দেবব্রত (মলয়) মজুমদার এ বার বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন। অতীনবাবুর কথায়, “বিধানসভা ভোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র পেশ করার আগেই ফিরহাদ হাকিমকে প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তখনই নিয়ম মাফিক বোর্ড ভেঙে যাবে। তাই, মনোনয়নপত্র পেশ করার জন্য আমাদের আর আলাদা করে পুরবোর্ড থেকে পদত্যাগ করতে হবে না।”

তবে কোনো পুরসভার ক্ষেত্রে যদি প্রশাসক বোর্ডের অন্য কোনো সদস্য প্রার্থী হন, সে ক্ষেত্রে গোটা বোর্ড ভেঙে যাবে না। সে ক্ষেত্রে শুধু ওই সদস্যকেই পদত্যাগ করতে হবে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

ফসল বাঁচানোর জন্য বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে দক্ষিণবঙ্গ, যদিও সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ

Continue Reading

রাজ্য

ফসল বাঁচানোর জন্য বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে দক্ষিণবঙ্গ, যদিও সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ

আগামী দিনে গরম আরও বাড়বে।

Published

on

খবরঅনলাইন ডেস্ক: গত বছর নভেম্বরের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে সে ভাবে বৃষ্টি হয়নি। আর তার জেরে ফসলে বেশ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি যা তাতে আগামী ১০ দিনেও উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

অন্যান্য বার মার্চের এই দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দু’ তিনটে কালবৈশাখী হয়ে যায় দক্ষিণবঙ্গে। কিন্তু এ বার একটাও হয়নি। গরমও সে ভাবে বাড়ছে তা-ও নয়, ভোরের দিকে ঠান্ডা ঠান্ডা ব্যাপার এখনও রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে। কিন্তু বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।

Loading videos...

এ বার বিশ্বে ‘লা নিনা’ অনেক বেশি শক্তিশালী। সে কারণে উত্তর ভারত থেকে বয়ে আসা পশ্চিমী ঝঞ্ঝাগুলি ছোটোনাগপুর মালভূমি এবং সন্নিহিত দক্ষিণবঙ্গে সে ভাবে প্রভাব ফেলতে পারছে না। আর সে কারণেই বৃষ্টি নেই দক্ষিণবঙ্গে। যদিও উত্তরবঙ্গ, সিকিম এবং সমগ্র উত্তরপূর্ব ভারতে বৃষ্টিপাত ঠিকঠাকই হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই আমের মুকুল এসে গিয়েছে। আমের রেকর্ড ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু দু’ একবার বৃষ্টি না হলে প্রচুর মুকুল নষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্ষতি হতে পারে ধান চাষেও।

তবে ১২ থেকে ১৪ মার্চের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে অল্প ঝড়বৃষ্টি হতে পারে, এমনই মনে করছেন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তুলনায় হালকা ঝড়বৃষ্টি হতে পারে কলকাতা এবং সন্নিহিত অঞ্চলে। তবুও বৃষ্টিহীন অবস্থার থেকে কিছুটা বৃষ্টি হওয়া তো ভালোই।

তবে আগামী দিনে গরমের দাপট ক্রমশ বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। বর্তমানে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। চলতি সপ্তাহের শেষে সেটা ৩৭-৩৮ ডিগ্রিতে উঠে যেতে পারে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

চল্লিশের দশকে বাংলার এক গণ্ডগ্রামে নারী শিক্ষার আলো দেখিয়েছিলেন তিনি, নারী দিবসে স্মরণ করি সেই বীরাঙ্গনাকে

Continue Reading

ইতিহাস

চল্লিশের দশকে বাংলার এক গণ্ডগ্রামে নারী শিক্ষার আলো দেখিয়েছিলেন তিনি, নারী দিবসে স্মরণ করি সেই বীরাঙ্গনাকে

বর্ধমান-বাঁকুড়ার সীমানায় আকুই গ্রাম তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতবর্ষে ছিল কৃষিজীবী প্রধান এবং শিক্ষায় অনগ্রসর। গ্রামীণ সমাজও ছিল রক্ষণশীল। এই পরিবেশেই জন্ম হয় ননীবালার, ১২৯৩ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে।

Published

on

ননীবালা গুহ এবং তাঁর নামাঙ্কিত গার্লস হাইস্কুল।

শ্রয়ণ সেন

—- “আমি ভিক্ষে চাইতে এসেছি, দেবে?”

Loading videos...

—- “ভিক্ষে! এবং আপনি! কেন?”

—- “না, যেটা ভাবছ সেটা নয়। টাকাপয়সা ভিক্ষে আমি করছি না। ছাত্রীভিক্ষে। আমার বাড়িতে গড়ে ওঠা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ছাত্রী চাই। আমার স্বপ্ন মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে শিক্ষিত করে তোলা।”

নিশ্চিত করে জানা যায় না, কিন্তু ননীবালা গুহ এবং এই প্রতিবেদকের প্রপিতামহী এমিলাসুন্দরী সেনের মধ্যে হয়তো এই ধরনের কথোপকথনই হয়েছিল।  

১৯৩৯ সাল। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন তখন মধ্য গগনে। ঠিক তখনই ৫২ বছরের এক প্রৌঢ়া আকুই গ্রামের পশ্চিম পাড়ার দোরে দোরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শিক্ষার আলোয় মেয়েদের আলোকিত করে তুলবেন বলে।

আকুইয়ের স্কুল মোড়।

বর্ধমান-বাঁকুড়ার সীমানায় আকুই গ্রাম তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতবর্ষে ছিল কৃষিজীবী প্রধান এবং শিক্ষায় অনগ্রসর। গ্রামীণ সমাজও ছিল রক্ষণশীল। এই পরিবেশেই জন্ম হয় ননীবালার, ১২৯৩ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে।

শত প্রতিকূলতায় ভরা তাঁর জীবন। মাত্র ১১ বছর বয়সেই বিধবা হন তিনি, লেখাপড়াও জানতেন না। জানা যায়, অনেক বছর পর নিজের নাম স্বাক্ষর করতে শিখেছিলেন তিনি।

ব্রিটিশ আমল, বাল্যবিধবা, নিরক্ষর এবং রক্ষণশীল গ্রামীণ সমাজ — এই চার প্রতিকূলতাও দমিয়ে রাখতে পারেনি ননীবালাকে, যিনি এখনও ‘ননী পিসিমা’ নামে পরিচিত গ্রামের প্রবীণদের কাছে।

আকুইয়ের প্রবীণরা — এই প্রতিবেদকের জেঠু রমাপ্রসাদ সেন, আকুইয়ের বিশিষ্ট মানুষ দিলীপ কুমার দাঁ-রা কেন ননীবালাকে ‘ননী পিসিমা’ বলতেন?

কারণ এঁদের বাবা-কাকারা তিরিশ-চল্লিশের দশকে ননীবালার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

সালটা ১৯৩০। ননীবালা তখন সদ্য চল্লিশ পেরিয়েছেন। এই বছরই জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পান তিনি। আইন অমান্য আন্দোলনের আহ্বান শুনে দেশসেবার কাজে ব্রতী হন। আকুইয়েরই দত্ত পরিবারের ছেলে জগদ্বন্ধুর নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ননীবালাও স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন।   

ননীবালার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নিজের রক্ষণশীল সমাজ থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন মতিবালা দত্ত, সুশীলা দে, রাধারানি ঘোষ, করুণাময়ী দলুই প্রমুখ। এঁরা সবাই বাল্যবিধবা।

ব্রিটিশ ভারতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল। কিন্তু ননীবালা ছিলেন সাহসিনী। ১৯৩০ সালেই জাতীয় পতাকা উত্তোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নেন।

এর পরের বছর আকুইয়ের পাশের গ্রাম বামুনিয়ায় ‘চৌকিদারি কর বন্ধ আন্দোলন’ প্রবল আকার ধারণ করে। সার্কেল ক্রোক অফিসার গাড়ি নিয়ে আসার চেষ্টা করলে নারী সত্যাগ্রহীদের প্রবল বাধার মুখে পড়েন। ননীবালার নেতৃত্বে নারী সত্যাগ্রহীরা মাটিয়ে শুয়ে পড়ে তাঁর পথ আটকান।

শোনা যায়, তিন দিন ধরে মাটিতে শুয়ে এ ভাবেই পথ আটকে রেখেছিলেন তাঁরা। এর পর বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক ও পদস্থ পুলিশ অফিসারদের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপরে ব্যাপক লাঠি চালায় পুলিশ। ননীবালা-সহ অনেকেই আহত হন। তাঁকে এবং অন্যান্য সত্যাগ্রহীকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৩১ সালে ফের একবার গ্রেফতার হন ননীবালা। তিন মাস কারাদণ্ড ভোগের পর মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে তিনি মুক্তি পান ১৯৩২ সালের ১১ মার্চ।

শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামী নন, গঠনকর্মীও ছিলেন ননীবালা। আকুই গ্রামে চরকা কেন্দ্র স্থাপন, সুতোকাটা, খদ্দর ব্যবহারের জন্য গ্রামের নারীপুরুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা ছিল তাঁর।

এর পাশাপাশি ননীবালা ছিলেন বাঁকুড়া জেলার নারীমুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ। নিজে নিরক্ষর হয়েও মহিলাদের পড়াশোনার গুরুত্ব তিনি বুঝেছিলেন এবং গ্রামের মানুষদের বুঝিয়েছিলেন।

ননীবালার জন্মস্থান আকুই গ্রামের পুবপাড়ায়। ১৯৩৯ সালে নিজের বাড়িতেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন তিনি। এই কর্মসূচিতে তাঁকে সাহায্য করেন জগদ্বন্ধু দত্ত এবং আকুই ইউনিয়ন বোর্ডের তৎকালীন সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত। তাঁর লক্ষ্য ছিল, মেয়েদের তিনি পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করবেনই এবং সেই কারণেই গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ‘ছাত্রীভিক্ষা’ করতেন।

কিন্তু সেখানেও ছিল বাধা। পুবপাড়াটি ছিল সে অর্থে অনগ্রসর। সামাজিক রক্ষণশীলতা অনেক বেশি ছিল এই পাড়ায়। ছোটো বয়সে ‘বিধবা’ ননীবালাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে এখানে। বিভিন্ন বাড়িতে তাঁর প্রবেশের ওপরে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই পাড়ার বাসিন্দারা যে তাঁদের মেয়েদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেবেন না, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত হয়ে যান।

অন্য দিকে, তৎকালীন পশ্চিমপাড়া ছিল সে অর্থে তুলনামূলক ভাবে উদার। তাই পশ্চিমপাড়াতেই যান তিনি। প্রথমেই আসেন এই প্রতিবেদকের প্রপিতামহীর কাছে। ননীবালাদেবীর কথায় রাজি হয়ে যান এমিলাসুন্দরী সেন এবং এক কথায় তাঁর ছোটো মেয়ে মমতাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে পাঠিয়ে দেন। পশ্চিমপাড়ার আরও চারটি বাড়ি তাঁদের মেয়েদের পাঠায় এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

আকুই ননীবালা গার্লস হাইস্কুল।

অর্থাৎ, গ্রামের যে পাঁচ মহিলা প্রথম বার বাড়ির ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে পড়াশোনার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই প্রতিবেদকেরই পিসি-ঠাকুমা।

১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে যোগ দিয়ে ফের একবার গ্রেফতার হন ননীবালা। মেদিনীপুর জেলে বন্দি থাকেন তিনি। কারাবাসের মধ্যেও ননীবালার মন পড়ে থাকত তাঁর তৈরি প্রাথমিক বিদ্যালয়তেই। জেলে বসেই কৃষ্ণচন্দ্র দত্তকে চিঠি পাঠান ননীবালা। বয়ান ছিল, “আমি যে বিদ্যালয়টি তৈরি করেছি, সেখানে পশ্চিমপাড়া থেকে মেয়েরা আসছে তো?”

বিনা বিচারে আট মাস বন্দি থাকার পর অবশেষে ছাড়া পান এবং আকুই ফিরে আসেন ননীবালা।

দেশ স্বাধীন হতেই গ্রামবাসীদের কাছে ‘মাতঙ্গিনী হাজরা’ হয়ে ওঠেন ননীবালা। গ্রামের বাসিন্দারা তাঁকে এই নামেই ডাকতেন। যদিও এই ডাক শুনেই অসম্ভব লজ্জায় পড়তেন। প্রতিবাদ করতেন। বলতেন, “ধুর, কার সঙ্গে কার তুলনা করছিস তোরা!”

পশ্চিমপাড়ার প্রমোদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে গ্রামের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আড্ডা বসত। সেই আড্ডায় প্রতি দিন সন্ধ্যায় যোগ দিতেন ননীবালাও। দেশ তখন পরাধীনতার অন্ধকার থেকে মুক্ত।

স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী ননীবালার এক কালের সহকর্মীরাই এ বার ঠিক করলেন তাঁর নামে হাইস্কুল তৈরি করবেন।

প্রস্তাব দেওয়া হল ননীবালাকে। তাতেও প্রতিবাদ এই বীরাঙ্গনার। হাইস্কুলে তৈরিতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু নিজের নামে কিছুতেই সেই স্কুলের নামকরণ করতে দেবেন না। কিন্তু সেই আপত্তি আর টিকল না।

স্কুল তো হবে, কিন্তু তার জমি দেবে কে? সেই দায়িত্ব নিলেন প্রমোদবাবুই। একটি জমি চিহ্নিত হল। জমিটি পশ্চিমপাড়ারই বাসিন্দা দেব এবং রায়দের।

প্রমোদবাবু ছিলেন দেব এবং রায়দের দীক্ষাগুরু। মেয়েদের জন্য হাইস্কুল হবে, তাই জমি দরকার—এই আবেদন নিয়ে সটান দেব এবং রায়দের কাছে আবেদন করে বসেন তিনি। তাঁরাও এক কথায় রাজি হয়ে যান। মেয়েদের স্কুল তৈরির জন্য জমি দিয়ে দেন তাঁরা।

যাঁদের জন্য গড়ে উঠল ননীবালা গার্লস হাইস্কুল।

বলতে কিঞ্চিৎ গর্ব হয়, এই প্রতিবেদকের ঠাকুমা শিবানী সেন পশ্চিমপাড়ার এই দেব পরিবারেরই মেয়ে। 

জেলবন্দি থাকাকালীন অনেক প্রভাবশালী স্বাধীনতা সংগ্রামীর সংস্পর্শে আসেন ননীবালাদেবীরা। পরবর্তীকালে এঁরাই সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেন, কেউ কেউ মন্ত্রীও হন। কিন্তু ননীবালাদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ।

ননীবালাদেবীর আবেদনেই আকুই গ্রামে আসেন এমনই কয়েক জন মানুষ। তাঁদের হাত ধরেই ‘আকুই ননীবালা গার্লস হাইস্কুল’-এর প্রাথমিক ভিত তৈরি হয়। মাটির ঘরে তৈরি হওয়া এই হাইস্কুল ধীরে ধীরে বড়ো হতে থাকে।

এখন এই গার্লস হাইস্কুলটি শুধুমাত্র আকুই নয়, বাঁকুড়া জেলায় অন্যতম জনপ্রিয় স্কুল। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে এখানকার ছাত্রীরা দুরন্ত ফলাফল করে তাক লাগিয়ে দেয়।

১০৪ বছর বেঁচে ছিলেন ননীবালা। পরমায়ুর দিক দিয়ে এ রাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে তাঁর স্থান দ্বিতীয়। শেষ বয়স পর্যন্তও নারীশিক্ষা নিয়ে সচেষ্ট ছিলেন তিনি। মেয়েদের পড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সরব হয়েছেন তিনি।

দেশের গ্রামাঞ্চলে যখনও সে ভাবে নারীশিক্ষার আলো ফোটেনি, তখনই এই ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ননীবালা। কিছু বাধাবিপত্তি থাকলেও আকুই গ্রামকে পাশে পেয়েছিলেন তিনি। আকুই গ্রাম তাই আজও ননীবালাময়। গ্রামের স্কুল মোড়ে তৈরি হয়েছে তাঁর একটি আবক্ষ মূর্তিও।

আকুইয়ের স্কুল মোড়ে ননীবালার আবক্ষ মূর্তি।

বছরের ৩৬৫টা দিনই নারীদের দিন হওয়া উচিত। কিন্তু একটা বিশেষ দিন যখন রয়েছেই, সেই দিনে এমন এক বীরাঙ্গনার পায়ে শতকোটি প্রণাম জানাই।   

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
রাজ্য35 mins ago

কলকাতা পুরসভার প্রশাসকের পদ ছাড়ছেন ফিরহাদ হাকিম

দেশ1 hour ago

মহারাষ্ট্র ১১ হাজারি, বাকি দেশে আক্রান্ত ৭,৪৫৮

রাজ্য2 hours ago

ফসল বাঁচানোর জন্য বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে দক্ষিণবঙ্গ, যদিও সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ

ইতিহাস3 hours ago

চল্লিশের দশকে বাংলার এক গণ্ডগ্রামে নারী শিক্ষার আলো দেখিয়েছিলেন তিনি, নারী দিবসে স্মরণ করি সেই বীরাঙ্গনাকে

দেশ3 hours ago

১০০ মাস লাগলেও কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে: প্রিয়ঙ্কা গান্ধী

রাজ্য3 hours ago

রাজ্যের পাঁচ জেলায় সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা দশের কম

শিলিগুড়ি12 hours ago

বিজেপি টাকা দিতে চাইলে নিয়ে নিন, কিন্তু ভোট দিন তৃণমূলকে, বললেন মমতা

দেশ12 hours ago

‘দলে থেকে কাজ করতে পারতাম না’, বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন অসমের মন্ত্রী

রাজ্য3 days ago

পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল

রাজ্য3 days ago

বিধান পরিষদ গঠন করে প্রবীণদের স্থান দেওয়া হবে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বললেন মমতা

রাজ্য2 days ago

কেন তড়িঘড়ি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ তৃণমূলের, সরব পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য

রাজ্য2 days ago

লড়াই মুখোমুখি! নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্য2 days ago

অস্বস্তি বাড়াচ্ছে রাজ্যের করোনা সংক্রমণ, কলকাতাতেও বাড়ল আক্রান্তের সংখ্যা

রাজ্য3 days ago

বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা

রাজ্য22 hours ago

বিজেপির ব্রিগেড: বাংলা চায় প্রগতিশীল বাংলা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

দেশ3 days ago

অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়াতে ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম তিনগুণ বাড়াল রেল

কেনাকাটা

কেনাকাটা4 weeks ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা4 weeks ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা1 month ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা2 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা2 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা2 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা2 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা2 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

কেনাকাটা2 months ago

৯৯ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডেড মেকআপের সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : ব্র্যান্ডেড সামগ্রী যদি নাগালের মধ্যে এসে যায় তা হলে তো কোনো কথাই নেই। তেমনই বেশ কিছু...

নজরে