ইতিহাসে বিধানসভা নির্বাচন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ১৯৬৭-এর নির্বাচনে কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে সমর্থ হয় বিরোধীরা এবং তারা সরকার গড়ে। কিন্তু সেই সরকার ন’ মাসও টিকল না।

বিরোধী জোটের সরকার ভাঙার মূলে যিনি ছিলেন সেই প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ তাঁর সরকারও তিন মাসের বেশি টিকল না। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বিধানসভায় আস্থা ভোটে জেতা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয় রাজ্যে। মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি।

গত বারের থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বারের নির্বাচনে লড়ার জন্য বিরোধী পক্ষ সিপিআইএম-এর নেতৃত্বে এককাট্টা হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। ফ্রন্টের দলগুলি আলাদা করে কোনো নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ না করে অভিন্ন কর্মসূচি প্রকাশ করে।    

একজোট হয়ে লড়ার ফল পেল বিরোধীরা। ২৮০ সদস্য বিশিষ্ট বিধানসভায় ২১৪টি আসন জিতে ক্ষমতা দখল করে যুক্তফ্রন্ট। কংগ্রেসের আসনসংখ্যা আরও কমে মাত্র ৫৫টি আসনে চলে আসে।

যুক্তফ্রন্টের মধ্যে সব থেকে বেশি আসন পেয়েছিল সিপিএম (৮০)। এই প্রথম, পশ্চিমবঙ্গে বৃহত্তম দল হল সিপিএম। কিন্তু মাত্র ৩৩টি আসন পাওয়া সত্ত্বেও ফের মুখ্যমন্ত্রীর পদটি দাবি করতে শুরু করে বাংলা কংগ্রেস। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর সেই দাবি মেনে নেয় সিপিএম। মুখ্যমন্ত্রী হন অজয় মুখোপাধ্যায়। উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন সিপিএমের জ্যোতি বসু।

এই নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে ২৮ হাজারের বেশি ভোটে জেতেন অজয় মুখ্যমন্ত্রী। বরানগর কেন্দ্র থেকে নিজের দাপট অব্যাহত রাখেন জ্যোতি বসু।

কিছু দিন সরকার চলার পরেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিএমের মধ্যে বিরোধ বাঁধতে শুরু করে। সেই বিরোধ চরমে পৌঁছে যায় যখন খোদ মুখ্যমন্ত্রীই নিজের সরকারের বিরুদ্ধে অনশনে বসেন।

যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ‘জঙ্গলের সরকার’ অভিহিত করে অনশনে বসেন অজয় মুখোপাধ্যায়, ১৯৬৯ সালের শেষ দিকে। শেষে, ১৯৭০-এর ১৬ মার্চ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অজয়বাবু। ভেঙে যায় যুক্তফ্রন্ট সরকার। রাজ্যে ফের একবার শুরু হয় রাষ্ট্রপতি শাসন।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন