আয়লার পথ ধরে সুন্দরবনের দিকে এগোচ্ছে ‘বুলবুল’, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ওয়েবডেস্ক: শেষ মুহূর্তে কোনো নাটকীয় পথ পরিবর্তনের আশা কমছে। ঘূর্ণিঝড় আয়লার মতোই ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-ও পাখির চোখ করেছে সুন্দরবনকে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বুলবুল সংক্রান্ত যে রিপোর্ট আবহাওয়া দফতর প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, গত বেশ কয়েক ঘন্টায় সে অনেকটা পথ অতিক্রম করে ফেলেছে। আপাতত সে অবস্থান করছে সাগরদ্বীপের ৬৮০ কিমি দক্ষিণ দক্ষিণপূর্বে।

বুলবুলের গতিপথ সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে আপাতত সেটি আগামী বারো ঘণ্টায় কিছুটা উত্তরপশ্চিম দিকে এগোবে। তার পর ৯ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত সে থাকবে কার্যত উত্তরমুখী। অর্থাৎ, এক্কেবারে সুন্দরবনকে পাখির চোখ করে এগোবে সে। পথে সে আরও অনেকটা শক্তি বাড়িয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টি কোথায় আছড়ে পড়বে সে ব্যাপারে আবহাওয়া দফতর এখনও পরিষ্কার করে কিছু বলতে না পারলেও বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার ইঙ্গিত, ১০ তারিখ রবিবার, বুলবুল সুন্দরবনে আছড়ে পরে, সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের দিকে বাঁক নেবে।

সুন্দরবনে আছড়ে পড়ার সময়ে বুলবুলের হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২০ কিমি। অর্থাৎ, ২০০৯ সালে আয়লা ঘূর্ণিঝড়ের যে গতিবেগ ছিল, বুলবুলের গতিবেগ তার থেকে কিছুটা বেশিই হতে পারে।

ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে উপকূলবর্তী গ্রামগুলি। তুলনায় পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি কলকাতায় আঘাত হানার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। আপাতত ঘূর্ণিঝড়ের যা গতিপথ, তাতে বুলবুল সরাসরি কলকাতার ওপরে আসবে না। কিন্তু তার ডানার ঝাপটা ভালো মতই টের পেতে পারে শহরবাসী।

আরও পড়ুন দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ সাহিত্য পুরস্কারের বাছাই তালিকায় চার ভারতীয়

কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ থেকে ৮০ কিমি থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে দক্ষিণ শহরতলীর কোথাও কোথাও তা ১০০ পেরোতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার প্রায় সর্বত্রই শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১০৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

শনিবার এবং রবিবার প্রবল বৃষ্টি হতে পারে দুই ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি এবং কলকাতায়। উপকূলবর্তী অঞ্চলে চরম অতিভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

শুক্রবার থেকেই বুলবুলের প্রভাব টের পেতে শুরু করবে দক্ষিণবঙ্গ। তবে এ যাত্রায় বর্ধমান-সহ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বিশেষ প্রভাব পড়বে না ঘূর্ণিঝড়ের। মাঝারি থেকে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে সেই সব অঞ্চলে।

বুলবুলের হুংকারে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের কাছে একটা বড়ো পরীক্ষা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.