deul-bari temple

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪পরগনা : দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের সময়ে তৈরি দেউল বাড়ি মন্দির বিলুপ্ত হতে চলেছে। মন্দিরের চূড়া ভেঙে পড়ার মুখে। অথচ এই মন্দিরে শিবের পুজো দিয়ে আজও সুন্দরবনের নদীতে মাছ শিকারে যান দেউল বাড়ির মৎস্যজীবীরা। এই মন্দিরকে সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্রের দাবি উঠল।

জনশ্রুতি, সুন্দরবনের কুলতলির দেউল বারি এলাকায় সেন বংশের প্রধান রাজা বল্লাল সেনের আমলে নির্মিত হয়েছিল শিবের মন্দির। এই মন্দিরে একসময় ছিল নরসিংহ মূর্তি। লোক মুখে শোনা যায় জঙ্গল কেটে একদা এই মন্দির তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, এই শিব মন্দির আজ বিলুপ্ত, পুরানো ইটের চূড়া আজও দণ্ডায়মান যা ভগ্ন স্তুপে পরিণত এই চূড়া  ভেঙে পড়তে পারে  যে কোন দিন।

এই চুড়ায় শিব পুজো করে গ্রামের মহিলারা স্বামীদের মঙ্গল কামনায়, মৎস্য শিকারে যাওয়ার সময় দেউলবাড়ির  মৎস্যজীবীরা শিব পুজো করেন আর তা শেষ  হবার পরেই পরেই মৎস্য  শিকারে যান, যাতে বিপদ না আসে। এমনই চলে আসছে দিনের পর দিন। এই ইতিহ্যময় শিব মন্দিরের চূড়া সংস্কার করে দেউল বাড়ি মন্দির এলাকায় পর্যটন কেন্দ্রের দাবি করছেন এলাকাবাসীরা । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এই নিয়ে আর্জি জানাতে চান গ্রামবাসীরা ।

২০ ফুটেরও বেশি ছিল এই শিব মন্দিরের চূড়া, এই মন্দির থেকে বেদী পাথর থেকে বড় বড় মূর্তি চুরি হয়ে গিয়েছে,যা মূর্তি ছিল তা চুড়ার সামনে এক ছোট মন্দির করে রাখা হয়েছে ,আসতে আসতে রাজা বল্লাল সেনের আমলে নির্মিত চূড়ার ইট ভেঙে পড়ছে এমন জানান দেউল বাড়ি এলাকার সৌমিত্র দেবনাথ । এই চূড়াকে ঘিরে দেউল বাড়ি এলাকায় প্রায় উৎসবে মিলিত হন গ্রামবাসীরা,পয়লা বৈশাখে কয়েক দিন ধরে চলে গোষ্ঠ মেলা আবার হয় মনসা পুজো । এক গ্রামবাসী জানান, ‘‘মনসা পুজোর সময় চূড়া থেকে সাপ বেরোয় । এই চূড়ায় গ্রামের মহিলারা নিয়ম করে সকালে পুজা দেয়।’’

deul-bari

আগে ছিল নরসিংহ মূর্তি, মহাদেব মূর্তি তা চুরি হয়ে গিয়েছে। দেউল বাড়ি মন্দির এলাকায় চুড়ার সংস্কার ,বিভিন্ন পুজা পার্বণ পরিচালনার জন্য ২০১৬ সালে গঠিত হয় দেউল বাড়ি মন্দির ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের বিশ্বজিত মণ্ডল ও বিদ্যুৎ ঘোষ জানান, ‘‘আমরা ছোট  থেকে এই চূড়া দেখে আসছি ,আগে শিব মন্দির ছিল যা সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের সময় নির্মিত , আমরা সংস্কারের চেষ্টা চালাচ্ছি কিন্তু অর্থের অভাবে হচ্ছে না।’’

দেউল বাড়ি মন্দির এলাকা থেকে কিছু দূরেই  নদীর পাশে জঙ্গল, এই জায়গায় ইতিহ্যময় চূড়াকে ঘিরে যদি পর্যটনস্থল করা হয় তবে অনেকে এসে দেখতে পারবে এই ইতিহাসের নিদর্শনকে।

এই ব্যাপারে কুলতলি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিনিথি গোপাল মাঝি জানান, ‘‘গ্রামবাসীদের দাবি আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব, রাজা বল্লাল সেনের আমলে নির্মিত হয়েছিল এই শিব মন্দির, বাম আমলে নজর দেওয়া হয়নি, এই সরকার প্রাচীন ইতিহ্যময় নিদর্শনগুলি সংস্কার করে উন্নয়নের পথ দেখাচ্ছে, কুলতলির দেউল বাড়ি মন্দির এলাকা জঙ্গলের কাছে একটা পর্যটন কেন্দ্র হলে উপকার হবে গ্রামবাসীদের।’’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here